জালিকাটটু-র সমর্থকদের জন্য
সুখবর। তাদের ঐতিহাসিক প্রতিবাদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে পার্লামেন্টের সদস্যরা
একত্রিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে
আবেদন করেছেন যেন সমস্ত রাজ্য
থেকে সমস্ত ষাঁড়কে তামিলনাড়ুতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। রাষ্ট্রপতির
কাছেও এই মর্মে লিখিত
আবেদন জমা দেয়া হয়েছে
বলে খবর পাওয়া গেছে।
এই কর্মকান্ডের জন্য রেলমন্ত্রকের কাছে
সাহায্য চাওয়া হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে রেলমন্ত্রক এই
ব্যাপারে সম্মতিও জানিয়েছেন যে একদিন ভারতের
সমস্ত তামিলনাডুগামী ট্রেনে ষাঁড়ই যাবে, মানুষ নয় এবং এই
জন্য তামিলনাড়ুর মানুষের কাছ থেকে সহযোগিতা
প্রার্থনা করা হয়েছে। তামিলনাড়ুর
অধিকাংশ মানুষই অবশ্য এই ব্যাপারে অতি
সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
ইতিমধ্যে 'BRING ALL
BULLS TO TAMILNADU' ফেসবুককের পেজটি
সমর্থকদের 'LIKE ,
SHARE and COMMENTS' -এ
ভরে গেছে। TWITTER-এর #bringallbullstotamilnadu-ও TRENDING এই
খবরের পর।
শুধুমাত্র
দেশে নয়, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও
জালিকাটটু নিয়ে এই প্রতিবাদ
আলোড়ন ফেলেছে। পাকিস্তানও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।
তারা এবার থেকে জঙ্গি
অনুপ্রবেশ বন্ধ করে ষাঁড়-প্রবেশ করাবে বলে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে
জানিয়েছে। যদিও এই ব্যাপারে
ভারতীয় সেনা বাহিনী খুব
একটা নিশ্চন্ত হতে পারছে না।
গোপনসূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী পাকিস্তান
নাকি ভারতে পাঠানোর আগে ষাঁড়গুলোকে আইসিস
এবং আলকায়দা জঙ্গিদের দিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
আমেরিকার গোয়েন্দাদপ্তর এই বিষয়ে ভারতকে
আগাম সতর্কবার্তা জানিয়েছে।
তবে
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে তামিলনাড়ুর
মুখ্যমন্ত্রীকে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছেন।
ষাঁড়গুলোকে তামিলনাড়ু পাঠানোর আগে উনি দলের
কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে সবাইকে একত্রিত
করে ময়দানে আনা হয় এবং
উনি তাদের উদেশ্যে ভাষণ দেবেন বলে
সরকারি সূত্রে খবর। দলের মুখপাত্র
জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর চান আমাদের বাংলার
মুখ যেন উজ্জ্বল হয়
এবং সেটা পুরোটাই এখন
ষাঁড়দের হাতে। বাংলার সম্মান এবং ঐতিহ্যের বিষয়ে
মুখ্যমন্ত্রী আপোষ করতে চান
না, তাই উত্তরবঙ্গ সফরের
থেকে একদিন উনি বাতিল করে
ময়দানে ভাষণ দেবেন ষাঁড়দেরকে
অনুপ্রাণিত করার জন্য।
প্রসঙ্গত
উলেখ্য, ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি এবং কেজরিওয়ালের আমি
আদমি পার্টি এই আবেদনের বিপক্ষে
গিয়ে আন্দোলন শুরু করবেন বলে
হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। দুই পার্টি-র
বক্তব্য যদিও এক নয়।
কেজরিওয়ালের মতে শুধুমাত্র ষাঁড়েদের
'free rides' পাওয়া অন্য পশুপাখিদের প্রতি
বৈষম্যমূলক আচরণের সামিল। তারাই বা কেন বঞ্চিত
হবে, সেই জন্যে উনি
আগামী সোমবার যন্তরমন্তরের সামনে গরু ছাগল মোষ
নিয়ে ধর্নায় বসবেন বলে twitter-এ জানিয়েছেন। ভারতীয়
কমিউনিস্ট পার্টিও 'SEND ALL BULLS TO
TAMILNADU'-র বিরুদ্ধে, তবে তাদের দাবীটা
আলাদা। পশ্চিমবঙ্গের কমিউনিস্ট পার্টি-র সাধারণ সম্পাদক
জানিয়েছেন যে, মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণের
দিন ওনারা ময়দানে উপস্থিত হয়ে লাল ঝান্ডা
নিয়ে প্রতিবাদ জানাবেন। কারণ তারা মনে
করেন ষাঁড়দের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে অন্য
রাজ্যে স্থানান্তরিত করা দাসত্বপ্রথারই সমতুল।
কমিউনিস্ট
পার্টি জন্মলঙ্গ থেকে শ্রমজীবীদের তথা
দাসেদের জন্য লড়েছেন আর
আজ যখন ষাঁড়েদের এই
করুন অবস্থা, তারা কিছুতেই মুখ্যমন্ত্রীর
পুলিশের ভয়ে চুপ থাকবেন
না, অন্যায়ের প্রতিবাদ তারা জানাবেনই।
যাদের
নিয়ে দেশ উত্তাল, সেই
ষাঁড়েদের বক্তব্য জানার জন্য আমাদের প্রতিনিধিরা
মাঠে ঘাটে গোয়ালে ছুটে
গেছেন। কিন্তু প্রিয় পাঠক, দুঃখের সাথে জানাচ্ছি আমরা
এখনো পর্যন্ত তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পায়নি।
আমাদের প্রতিনিধিদের ক্যামেরা মাইক দেখে ষাঁড়েরা
অত্যন্ত বিরক্ত হয়ে গুঁতোতে এসেছেন,
এখনো পর্যন্ত প্রাণহানির কোনো খবর নেই
কিন্তু আমাদের তিনজন প্রতিনিধি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তবে দলে দলে
আমাদের প্রতিনিধিরা ষাঁড়েদের প্রতিক্রিয়া পাওয়ার জন্য প্রাণের ঝুঁকি
অগ্রাহ্য করে সারা দেশে
ছড়িয়ে পড়েছেন। সঙ্গে থাকুন, আমরাই আপনাদের কাছে এই বিষয়ে
সমস্ত খবর সবার আগে
পৌঁছে দেব।
বিঃদ্রঃ
জালিকাটটু-র এক উগ্র
সমর্থক আশা প্রকাশ করেছেন
যে সমস্ত দেশ থেকে ষাঁড়েদের
আগমন হলে তামিলনাড়ুর ষাঁড়েদের
মধ্যেও প্রতিযোগিতাসুলভ মানসিকতা গড়ে উঠবে এবং
তারা আরো বেশি উৎসাহিত
হবে এই খেলায় অংশগ্রহণ
করতে। এবং এই আগমনের
ফলস্বরূপ পরবর্তীতে তামিলনাড়ুতে ষাঁড়ের উৎপাদনও বেড়ে যাবে ।
তবে
এর বিপরীত মতও আছে। কেউ
কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, অতিরিক্ত ষাঁড়ের প্রবেশের ফলে খেলার রাশ
মানুষের বদলে ষাঁড়েদের হাতে
না চলে যায়।