Thursday, 11 May 2017

নিউইয়র্কের পথে পথে: পর্ব দুই

কদিন আগে একটা পোস্ট করেছিলাম, তাইতে আমার নিজের কোনো ছবি ছিল না। তারপর কেউ কেউ আরো বিস্তারিতভাবে জানতে চেয়েছেন নিউইয়র্ক সম্পর্কে। অগত্যা আবার একটি পোস্ট। তবে দ্বিতীয় অনুরোধের উত্তর হয়তো আমি দিতে পারবো না তেমন করে, কারণ তিন দিনে শহরের অন্তরকথা আমি পড়ে উঠতে পারিনি। আমার বান্ধবী আমার অনেক ছবি তুলেছিলেন, তিনিও ইতিমধ্যে আমায় নিউইয়র্কে তোলা সব ছবিগুলো ইমেইল করেছেন, তাই প্রথম আবদারটা মেটাতেই পারি। সাথে প্রভিডেন্সে আমার নিজের তোলা সেলফি সেটাও যুক্ত করে দিচ্ছি।

আগেরদিনই বলেছি প্রভিডেন্স খুব শান্ত শহর, তেমনি দোকানপাটও বেশ কম। আমি যে জায়গাতে ছিলাম তার আশেপাশে সাধারণ স্যালাড স্যান্ডউইচ পাওয়াটাই মুশকিল ছিল। খাবারের দোকান ছিল, পাশের শপিংমলের ফুডকোর্টও ছিল কিন্তু সবই বেশ তেলযুক্ত খাবার। আমার রূমমেট (কনফারেন্সের সময়ের), বেশ করিৎকর্মা, তিনি একটা দোকান খুঁজে পেয়েছিলেন যাতে একটা পুঁচকে সেকশন ছিল স্যালাড  স্যান্ডউইচের, অথচ পিজ্জা বা বার্গার সেকশন অনেক বড়। সেই সব দেখে আমার মনে হয়েছে, ইউ.এস এর লোকজন বুঝি খুব junkfood খেতে ভালোবাসে। নিউইয়র্কেও junkfood/street food-এর মেলা। রাস্তার ধারেই হালাল কার্ট, খুব সস্তায় খাবার পাওয়া যায়, ৫$ দিলে পেট ভরে খাওয়া হয়ে যাবে।  স্বাস্থ্যকর খাবারও পাওয়া যাবে, শুধু একটু খুঁজতে হবে। তবে কোনো রেস্তোরাঁতে গেলে সেই খরচটা তিন থেকে চারগুন হয়ে যাবে। তার উপর ট্যাক্স এবং টিপস। এর সাথে ইউ.কে তে আমাদের তেমন পরিচয় নেই। এখানেও ট্যাক্স কাটে কিন্তু সেটা দামের মধ্যেই ধরা থাকে তাই আলাদা করে চোখে পরে না। আর এখানে টিপস দেওয়ার কোনো চল নেই। কিন্তু ইউ.এস-এ গেলে টিপস দেওয়াটা সৌজন্যমূলকের পর্যায় পেরিয়ে প্রায় বাধ্যতামূলক।

আর সেই কারণেই কিনা জানিনা, দোকানদারেরা খরিদ্দারের সাথে অত্যন্ত মধুর ব্যবহার করে। আমাদের দেশে তো অপরিচিতকে hi hello বলার চল নেই, আবার জিনিসপত্র কিনতে গিয়ে thank you বলা আমাদের পোষায় না। ব্যাপারতা অনেকটা এইরকম: আরে বাবা, আমাদেরকে জিনিস বেচেই তো ওদের দিন চলে, খামোখা thank you কেন বলতে যাবো?
কাজেই এই hi, hello, thank you, see you সব এখানে (ইউ.কে) থেকেই শেখা। ইউ.এস-এ দেখলাম, এই ব্যাপারটা আরো ব্যাপক ভাবে প্রচলিত। দোকানে ঢুকলেই, hi, how are you, do you need any help? আর যদি আপনি কিছু না কিনেও বেরিয়ে যান, তাতেও বলবে, have a great day. আমার বান্ধবী তো ওখানেই থাকেন, তিনি তো ভালোমতো গল্প জুড়ে দিয়েছিলেন সবার সাথেই। ওটাই স্বাভাবিক ওখানে। আমি অবশ্য ইউ.কের নিয়মেই চলেছি, শুধু thank you বলেই এক হপ্তা কাটিয়ে দিয়েছি।

অবশ্য ব্যাঙ্ক অফ আমেরিকার একটা শাখায় গিয়ে thank you-এর চেয়ে একটু বেশীই বলা উচিত ছিল। আমি svc conference থেকে পাওয়া একটা চেক ভাঙাতে গেছিলাম। ছোট্ট branch তাই বেশী কর্মচারী ছিলেননা। কিন্তু সবাই মিলে এই ব্যাপারটা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছিলেন। আমার যেহেতু ওখানে কোনো bank account নেই এবং আমি ওখানকার বাসিন্দা নই, তাই তাদের বোধহয় অনেককিছু যাচাই করতে হচ্ছিলো, অনেকক্ষন আমাকে সেই জন্য অপেক্ষা করতে হয়, তবে আমার ভালো লেগেছে যে ওনারা একবারও বলেননি, না হবে না, আজ চলে যান। আমি দেখতে পারছিলাম, ওনারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছেন আবার ফোনেও কথা বলছেন আমার ব্যাপারে। শেষে আবার মাফও চাইলেন, আমাকে এতোক্ষন অপেক্ষা করানোর জন্য।



এই সেই ব্যাঙ্ক অফ আমেরিকার সুউচ্চ টাওয়ার। ভালো করে ছবি তুলতে পারিনি, ছবি তুলতে গিয়ে ঘাড় ব্যাথা করছিলো। অবশ্য আমি এইখানে যাইনি। গেছিলাম অন্য শাখায়। 

অনেকক্ষন ধরে ব্যাঙ্কে দাঁড়িয়ে থেকে পরিশ্রান্ত হওয়ার পর, সেদিন রাতে পেট পুরে খুব স্বাদু খাবার খেয়েছি, আমাদের গৃহকর্ত্রী নিয়ে গেছিলেন সেখানে। তা বাদেও নিউইয়র্কে প্রতিদিনই ভালো ভালো জায়গায় খেয়েছি। বান্ধবীর খুব শখ ছিল আমাকে দিয়ে সব ভালো ভালো খাবার টেস্ট করাবেন। কাজেই তার সাথে seafood থেকে শুরু করে আমাদের বাংলার পাবদামাছ আর ছোট মাছের ঝাল অনেক কিছুই খেয়েছি (আগের পোস্টে ছবিও দেওয়া আছে), খেয়েছি থাই দেশের রাজকীয় খাবার, বেগুনি রঙের ফুলের মতো ডাম্পলিংস (যাকে আমরা মোমো বলেই বেশি জানি)। আমার বান্ধবী yelp তে রিভিউ দেন। লিংকগুলো পেলে আমি তার অনুমতি সাপেক্ষে এই পোস্টের শেষে জুড়ে দেব। (check at the end)


Purple blossom dumpling

যেখানে মাছ খেতে গেছিলাম (জ্যাকসন হাইটস), সেখানে গিয়ে বাংলায় কথা বলেই খাবার অর্ডার করেছি, ওখানে চলে গেলে হটাৎ করে আপনার মনে হবে, আপনি হয়তো ঢাকায় চলে এসেছেন, সবার সাথে বেশ আড্ডাও মেরেছি। আর একটা কাজ করে আমি আর আমার বান্ধবী দুজনেই খুব গর্বিত, সেটা হলো কাঁটাচামচ দিয়ে মাছ ছাড়িয়ে খেয়েছি, বিশ্বাস করুন খাবার শেষে কাঁটার গায়ে মাছ লেগে ছিল না। জ্যাকসন হাইটসের বাংলা বাজারে দোকানপাটের নামও বাংলায় লেখা, সে ছবিও আগের পোস্টে আছে। 

আগের পোস্টে রুজভেল্ট আইল্যান্ডের farmers' market-এর ছবিও দিয়েছিলাম। ছোট্ট দ্বীপের মধ্যে ছোট্ট বাজার, সেখানে সতেজ সব্জিপাতি দেখে বেশ আনন্দ হয়েছিল। ওইখানের grocery store যাকে আমরা সাদা বাংলায় বলতাম মুদির দোকান, সেখানেও প্রচুর সব্জিপাতি, চীজ দেখতে পেয়েছিলাম। অথচ প্রভিডেন্সের সেই একমাত্র grocery store (যেটা আমরা খুঁজে পেয়েছিলাম) তাতে সবই তৈরী খাবার, এমনকি গোটা ফল পর্যন্ত ছিল না। কিন্তু রুজভেল্ট আইল্যান্ডে এসে দেখলাম, সবই পাওয়া যাচ্ছে, স্যালাড স্যান্ডউইচ-ও বেশ ভালোই পরিমানে আছে, ইউ.কের যেকোনো grocery store-এর মতোই। তাই প্রথমে যা ভেবেছিলাম, যে ইউ.এসের লোকেরা শুধুই বুঝি readymade অথবা junkfood খায়, সেটা সত্যি নয়। কেউ কেউ বানিয়েও খায় আর খাওয়ায়। 😉

আমরা যার বাড়িতে ছিলাম, তিনি খুব সুন্দর স্বাস্থ্যকর খাবার রান্না করে খাইয়েছিলেন, ওই farmers' market থেকে সবজি কিনেই বানানো।


গৃহকর্ত্রীর তৈরী করা খাবার 


গৃহকর্ত্রীর সাথে আমরা 

আমার বান্ধবী আর আমি দুজনেই এই home restaurant-কে zomato/yelp-তে পাঁচে পাঁচ রেটিং দেয়ার জন্য রাজি। 

খাবার নিয়ে অনেক কথা হলো, অবশ্য মানুষ থাকলেই খাবার থাকবে, তবুও একটু ঘোরাঘুরির কথাও বলি।
কি কি দেখেছি তার কিছুটা আভাস আগের পোস্টেও দিয়েছি। এখানে একটু বিস্তারিত দিই। প্রথমদিন নিউইয়র্কে পৌঁছেই মধ্যরাতে এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের মাথায় চড়েছিলাম। না না লাফিয়ে ঝাঁপিয়ে নয়, কিংকং ছাড়া সাধারণ মানুষের পক্ষে ওই ১০১ তলা বাড়ির মাথায় ওঠা দুস্কর। রীতিমতো টিকিট কেটে লিফটে করেই উঠেছি, তবে ভালো ব্যাপার হচ্ছে, এইটা কোনো ছুটির মরসুম নয়, কাজেই কোনো লাইনে দাঁড়াতে হয়নি। 


এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং-এর ৮৬তলা থেকে শহর


এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং-এর মাথায় মধ্যরাতে ঘুমন্ত আমি 


প্রচন্ড হাওয়ায় কেঁপে যাওয়া আমার হাতে তোলা বান্ধবীর ছবি 

তবে লাইনে দাঁড়াতে হয়েছিল Museum of Modern Art দেখতে গিয়ে। কি বিশাল লাইন কি বিশাল, টিকেটের লাইন, ভিতরে ঢোকার লাইন, উফফ। ভিতরে এতো ভীড়, মনে হচ্ছিলো পালিয়ে যায়, পুরো গড়িয়াহাট। কিন্তু Museum of Modern Art-তে তো সবসময় ঢুকতে পারবো না, অগত্যা দুই ঘন্টা মতো ওখানেই কাটিয়েছি। সত্যি বলছি শিল্পীদের জন্য আমার খুব খারাপ লাগছিলো। আমি নিজে modern art কিছু বুঝিনা এটা সত্যি কিন্তু একটু সুযোগ পেলে হয়তো মন দিয়ে দেখতাম।

লোকজন এতো দৌড়াচ্ছে যে কোথাও এক দন্ড দাঁড়িয়ে দেখার সুযোগ নেই। কেউ বেশিক্ষন কোথাও দাঁড়াচ্ছে না বটে তবে ওতো ভিড়ের মধ্যেও কিন্তু একটা নিয়ম শৃঙ্খলা আছে। না দাঁড়ানোটাই শৃঙ্খলা। যেমন ভিনসেন্ট ভ্যান গগের আঁকা 'দা স্টারি নাইট, The Starry Night-এর সামনে সবসময় একটা জটলা, কিন্তু তাতে নতুন লোক ঢোকা আর পুরোনো লোক বেরিয়ে যাওয়াটা সমানুপাতে চলছে, কাজেই একবার দেখলে মনে হবে, ইসস, ভীড়টা সরছে না কেন ? চিন্তা নেই টুক করে দাঁড়িয়ে পড়ুন, দেখবেন ঠিক সামনে পৌঁছে গেছেন, ছবি তোলার সুযোগও পেয়েছেন। কিন্তু ওইটুকুই, পড়া বা বোঝার সময় নেই। এই প্রসঙ্গে আমার বান্ধবী একটি ভালো কথা বলেছেন, 'আর্টের লোকেদের যদি ফিজিক্সের কঠিন কঠিন সমীকরণ ধরিয়ে দেয়া হয়, তারা কি বুঝবে ? তাই বলে কি আইনস্টাইনের নাম তারা জানবে না বা তার সম্পর্কে জানবে না।'
কাজেই দুঃখ করে লাভ নেই, যেটুকু দেখা গেছে, সেইটাই সঞ্চয়। দেখলাম না বুঝলাম না বলে মন খারাপ করে লাভ নেই, আর না বুঝলেই অপমান করলাম শিল্পীর শিল্পসত্বাকে এমন ভাবার ও কারণ নেই।



মিউজিয়াম অফ মডার্ন আর্ট, নিউইয়র্ক 

ভীড়ের মধ্যে সবাইকে সুযোগ করে দেওয়ার আর একটা নমুনা দেখলাম wall street-এ ষাঁড়ের সামনে।আমার বান্ধবী আমার ছবি বেশ ভালোই তুলেছেন কিন্তু আমি তার ছবি তুলতে গিয়ে ভুল করে ক্যামেরা বন্ধ করে দিয়েছিলাম। অগত্যা মোবাইলেই তুলতে হলো, তিনি এসে যে আমায় দেখিয়ে যাবেন  সে সুযোগ তো নেই। কয়েক মুহূর্ত সময় পাওয়া গেছে, অন্য সবাইকেও তো জায়গা করে দিতে হবে। কাজেই আমি অত্যন্ত দুঃখিত যে সময় সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারিনি। এই কারণেই বলে, কিছু কাজ সময়ে না করলে পরে আর সুযোগ হয়না। এই জ্ঞানের বাণীটা মনে পড়ে গেলো।



ওয়াল স্ট্রিটে ষাঁড়ের সঙ্গে 

তবে নিউইয়র্কের লোকজন খুব বেশি জ্ঞান শোনে বলে মনে হয়না। মূল শহর ম্যানহাটানে কেউ ট্রাফিক নিয়ম মানে না। গাড়িও চলছে, মানুষও চলছে। আমি নিয়ম মেনে রাস্তার একপাশে দাঁড়িয়ে দেখি আমজনতা পথের ও প্রান্তে চলে গেছে ট্রফিক লাইট সবুজ হওয়ার আগেই। গাড়িও বা কতক্ষন এই অনিয়ম সহ্য করবে, কাজেই তারাও চলতে শুরু করছে সঠিক সিগন্যাল হওয়ার আগেই। তবে সবারই গতি কম থাকায় আমার চোখের সামনে কোনো অপ্রীতিকর দৃশ্য দেখিনি, তবে শুনলাম নিউইয়র্কে শহরে অনেক এক্সিডেন্ট হয়। গাড়িঘোড়া আর লোকজনের চলাচলের যে নমুনা দেখলাম তাইতে এক্সিডেন্ট হওয়ার খবরে আশ্চর্যের কিছু নেই।



টাইমস স্কয়ারে ভীড়ের মাঝে 

এই গাড়িঘোড়ার কথায় মনে পড়লো সেন্ট্রাল পার্কের মধ্যে ঘোড়ার গাড়ি চলে, ঠিক যেমন চলে কলকাতার ভিক্টরিয়া মেমোরিয়ালের সামনে, অবশ্য আমি ওখানেও চড়িনি, এখানেও না। আবার দেখলাম রিক্সাও চলছে। সেন্ট্রাল পার্ক এতো বড় যে ঘোড়ার গাড়ী বা রিক্সাটা বেশ কাজের, আর তাই ভাড়াটাও বেশ 😛।


সেন্ট্রাল পার্কে

রিক্সার সাপেক্ষে ফেরীর ভাড়া কম। স্ট্যাচু অফ লিবার্টি দেখতে যাওয়ার জন্য ফেরী নিতে হয়েছিল, আলাদা করে ফেরী ভাড়া করে নয়, টিকেটের মধ্যেই ধরা, তবুও যদি অন্য জায়গার টিকেটের দামের সাথে তুলনা করি, তাহলে বেশ সঙ্গতই, তবে এটাও ঠিক স্ট্যাচু দেখা বাদে আর কিছু করারও নেই। স্ট্যাচু অফ লিবার্টি দেখতে যাওয়ার সময় ফেরীতে safety announcement করে, সবাই বসে থাকুন, তবে কেউ শোনে না, আমরাও শুনিনি, বসে থাকলে তো ছবি তোলা যায়না, সবাই দাঁড়িয়ে পড়ে বলে  কিছু দেখাও যায়না, অগত্যা 😕😑।


ফেরী থেকে শহরের ছবি তোলার হুড়োহুড়ি 


ফেরীতে আমরা 

আমাদের দুজনের একসাথে ছবি খুব কম আছে, কারণ আমরা একে ওপরের ছবি তুলে দিচ্ছিলাম। তবে স্ট্যাচু অফ লিবার্টি-তে গিয়ে একজন সদয় হয়ে আমাদের ছবি তুলেদিয়েছিলেন ক্যামেরাতে, পরে দেখলাম ভালোই ছবি তুলেছেন সেই অপরিচিত ভদ্রলোক।






স্ট্যাচু অফ লিবার্টি, লিবার্টি আইল্যান্ড, নিউইয়র্ক

একদিন গেছিলাম নতুন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার দেখতে। এখন একটাই গগনচুম্বী অট্টালিকা তাই হয়তো নাম ওয়ান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার। পুরোনো দুটো বিল্ডিংয়ের জায়গায় বিশাল জলাশয় বা ঝর্ণা যেখানে সব সময় জল গড়িয়ে পড়ছে। সেটা কি অশ্রুকে ইঙ্গিত করছে? 



এই ছবিতে কিন্তু আমি আছি 


আর এতে আমার বান্ধবী 

নিউইয়র্কের গগনচুম্বী অট্টালিকাগুলো মাঝে মাঝে মেঘে ঢেকে যায়, সেটা দেখে অদ্ভুত একটা ভাবনা এসেছিলো মাথায়। প্রকৃতিকে সরিয়ে এই ইট কাঠ পাথরের জঙ্গল তৈরী করেছি আমরা আর প্রকৃতি সুযোগ পেলেই মায়ায় মুড়ে দিচ্ছে সেই জঙ্গলকেই। 


মেঘে ঢাকা শততলা 

তবে প্রকৃতি খামখেয়ালি। আমি যেদিন পৌছালাম আমেরিকা, সেদিন প্রচন্ড গরম, ৩১ ডিগ্রী সেন্ট্রিগেড ছিল প্রভিডেন্সে, আর একদিন নিউইয়র্কে প্রচন্ড বৃষ্টি হলো, সেইদিন তাপমাত্রা নেমে গেলো ১০-এ। আমেরিকাতে অবশ্য ফারেনহাইট-এই তাপমাত্রার কথাবার্তা চলে, কাজেই বারবার আমাকে গুগল বাবাজির স্বরণাপন্ন হতে হচ্ছিলো। তারপর আর এক জায়গাতেও আমি বেশ ভুলভাল কথা বলে বলেছি, খাবারের ওজন এরা পাউন্ডে মাপে, সেটা আমার খেয়াল ছিল না, আমি হটাৎ করে ভাবি হটাৎ করে ডলার থেকে পাউন্ড নিয়ে কেন কথা হচ্ছে, আমি বলেও দিয়েছিলাম, পাউন্ড না, পাউন্ড না ডলার হবে 😅।

কিছু ছবি দিয়ে গল্প শেষ করি। কারন এর থেকে বেশী বিস্তারিতভাবে আমি জানিনা নিউইয়র্ক সম্পর্কে।
কি আর করিব ? বরং আমার বান্ধবীকে বলিব, লিখিতে, তিনি যদি কখনো লেখেন তাহা হইলে আমি শেয়ার করিব।



আমার রুমমেট, কনফারেন্স চলাকালীন 

ও হ্যা, আরো একটা কথা এই প্রসঙ্গে বলতে চাই, আমি বাড়ি ফিরতেই আমার ইউ.একের হাউসমেট এক গ্লাস জল এগিয়ে দিলেন, তিনি ভালোবেসে আমার জন্য ডাল ভাত রেঁধে রেখেছিলেন, ৩ বছর একসাথে থেকে তিনি জেনে গেছেন, বর্ণালী কিছুই খেয়ে হজম করতে পারেনা। বাড়ি ফিরে বাড়ির রান্না খেয়ে মনটা ভরে গেলো। একটা ধন্যবাদ যথেষ্ট নয় এই আনন্দ প্রকাশ করার জন্য। (And yes, in this context I would like to talk about my housemate and her kindness. She knew that my stomach would be upset so she made simple rice, lentis, boiled potato mash, brinjal fry and paneer for me. That homemade food gave me immense joy and comforted my stomach as well as my heart. A single 'thank you' is not enough to express my gratitude 😊). (অনুবাদটা তার জন্য)


হাউসমেটের তৈরী ঘর কা খানা 

মন আমার অবশ্য ম্যানচেস্টারের সবুজ উপত্যকা দেখেও ভরেছে। ভারত থেকে এদেশে আসার সময় সবসময়ই খুব মন খারাপ থাকে। এই প্রথমবার ম্যানচেস্টার এয়ারপোর্টে নেমে এতো আনন্দ হলো কি বলবো। এটা এখন দ্বিতীয় বাড়ি বলেই হয়তো। আর শেফিল্ড স্টেশনে পৌঁছে যখন নিজের ইউনিভার্সিটি-র চূড়া দেখতে পেলাম, উফফ কি খুশিই না হলাম। Kash, ye khushi roj subha 9 baje hoti 😥।তাহলে এতদিনে পিএইচডি শেষ করে ফেলতাম।





Conference swag

Link to the restaurant review: https://www.yelp.com/user_details_reviews_self?userid=ys2r72zSLb2wqUcXLvN-lw

Name:
Tina’s Restaurant
The Nuaa
Guy’s American Kitchen and Bar

Tuesday, 9 May 2017

নিউইয়র্কের পথে পথে

এখানে এখন গভীর রাত, কিন্তু ঘুম নেই চোখে, সম্ভবত জেট ল্যাগ। কি করি কি করে ভেবে ভেবে শেষে ল্যাপটপ খুলে বসলাম, আমার সদ্য দেখা শহরকে নিয়ে কিছু বলার জন্য। নিউইয়র্ক নিয়ে এতো জন এতো কথা লিখেছেন, আমার আর নতুন করে বলার কিছু নেই। কাজেই খুব বেশি কিছু বলছি না এই শহরকে নিয়ে, বরং আমি এই শহরের সাথে আরো একটা শহরের কথাও বলবো। কিন্তু সেইটা ছোট্ট শহর, সেই নামটা দিয়ে পোস্ট করলে, কেউ চিনতেও পারবে না, তাই  নামটা 'নিউইয়র্কের পথে পথে'-ই রাখলাম। এই প্রসঙ্গে বলে রাখি, এই নামটাও আমার নিজের মাথা থেকে আসেনি, মায়ের লেখা একটা ভ্রমণকাহিনী আছে, লন্ডন নিয়ে, সেই নামটা থেকে অনুকরণ করলাম মাত্র। 

নামকরণ তো হলো, এবার আসি আসল গল্পে। অনেক রাত এখন, বেশি কথা না বাড়িয়ে গল্প শুরু করায় ভালো। অবশ্য এই রাত কথাটাও আপেক্ষিক, তিন দিন নিউইয়র্ক-এ থেকে সেটাই জানলাম। নিউইয়র্ক সেই শহর যেখানে রাতেই দিন শুরু হয়। অবশ্য সত্যিকারের দিন যে দিন নয়, তা বলছি না। চারিদিকে সব সময়ই লোকে লোকারণ্য। আমি বাসে করে প্রভিডেন্স বলে আর একটা শহর থেকে নিউইয়র্ক আসছিলাম, তখন বিকেল। রাস্তায় এতো ভীড়, দেখে কলকাতার কথা মনে পড়ে গেলো। পরে গুগলে দেখলাম, শহরের কেন্দ্রস্থলের (ম্যানহাটন) জনসংখ্যার ঘনত্ব কলকাতাকেও হার মানায়। অবশ্য পুরো নিউইয়র্ক শহরটাকে হিসেবের মধ্যে ধরলে পরিসংখ্যান একটু আলাদা। নিউইয়র্ক শহরটা পাঁচটি অঞ্চল (Borough) তে বিভক্ত, ম্যানহাটন, ব্রুকলিন, কুইন্স, স্ট্যাটেন আইল্যান্ড এবং দা ব্রঙ্ক্স (The Bronx)। নিউইয়র্কের যত ছবি আমরা দেখি, আকাশচুম্বী অট্টালিকা তার বেশিরভাগটাই ম্যানহাটন-এর ছবি, এখানেই সেই টাইমস স্কয়ার, যা বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত জায়গা। সবাই শুধু এ রাস্তা থেকে ও রাস্তা, ও প্রান্ত থেকে এ প্রান্ত হেটে যাচ্ছে। বড় বড় স্ক্রিনে সব সময় বিজ্ঞাপন চলছে, যেটা রাতে খুব ভালো করে বোঝা যায়, কিন্তু দিনের বেলাতেও সেগুলো চলতেই থাকে। আমি প্রথমে দেখেই ভাবলাম, ইস্স, কত্ত শক্তি (energy) নষ্ট, কেউ তো তাকিয়েও দেখছে না। আর দেখবেই বা কি করে, সবাই তো শুধু চলছেই আর চলছেই, থামার মধ্যে টুক করে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা, আর তারপর আবার চলা।





টাইমস স্কয়ার রাতের বেলায় 

এ চলার যেন শেষ নেই, তাই মধ্য রাতেও মেট্রো সচল, লোকে ভর্তি, মনেই হয়না রাত দুটো বাজে।
বড়ো শহর নিয়ে আমাদের মধ্যে একটা ভয় কাজ করে, কিন্তু যে শহরে রাত দুটোতেও অনায়াসে যাতায়াত করা যায়, সে শহর নিঃসন্দেহে আমাদের দেশের শহরগুলোর থেকে নিরাপদ। 

আমার সাথে অবশ্য আমার বন্ধু ছিল, সে আমেরিকাতেই থাকে অন্য শহরে, আমি ওই দেশে গেছি বলে, নিজের শহর থেকে উড়ে এসে আমার সাথে দেখা করতে এসেছিলো, পুরো গুরুজনদের মতো যত্ন করে হাত ধরে ঘুরিয়েছে আমাকে। নিউইয়র্ক পৌঁছনোর আগে পাঁচদিন আমি অন্য শহরে ছিলাম, তখন রোজ রোজ খোঁজ নিয়েছে, ওর দেশে গিয়ে আমার যাতে কোনো অসুবিধা না হয়, সেইটা দেখার দায়িত্ব ও নিয়ে নিয়েছিল। অথচ কে বলবে ওর সাথে আমার সাত বছর পর দেখা হলো, সেই কলেজ ছাড়ার পর। থাকার ব্যবস্থাও ওই করেছিল, ওত্তোবড় অচেনা শহরে একেবারে বাড়ির মতো আদর পেলাম, ওর পরিচিতের বাড়িতে। এখন অবশ্য আমার ও পরিচিত। তিনি খুব সুন্দর রান্না করেন, খুব সুন্দর ছবি আঁকেন আবার গলার স্বর খুব মিষ্টি। ধন্যবাদ জানিয়ে কাজ নেই, বরং বলতে পারি, আমার এখানে আসলে তোমাদের দুজনকেই যত্ন করার চেষ্টা করবো।
অবশ্য লন্ডন তোমাদের কতটা ভালো লাগবে জানিনা। 

তুলনা করা সবসময় উচিত নয় কিন্তু আমরা কথায় কথায় তুলনা করতে থাকি। আমি পুরো নিউইয়র্ক যেমন ঘুরে দেখিনি, তেমনি গ্রেটার লন্ডনও নয়।   কাজেই খুব বেশি আলোচনা বা সমালোচনা করা উচিত হবে না। তবে দুটো শহরের কেন্দ্রস্থল যদি তুলনা করি, তাহলে লন্ডন অনেক বেশি সবুজ। রাস্তার পাশে পাশে গাছ। সেখানে ম্যানহাটনে গাছ দেখতে সেন্ট্রাল পার্কে যেতে হবে, অবশ্য পার্কটা খুবই সুন্দর। এই পার্কেই অনেক হলিউড সেলিব্রিটি নাকি জগিং করেন (বান্ধবী বলেছেন)।







সেন্ট্রাল পার্ক 

পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দিক থেকে লন্ডন হয়তো একটু এগিয়ে থাকবে। আমি যদি বলি লন্ডনেও আমার অসুবিধা হয় তাহলে লোকে পেটাতে আসবে, কলকাতার পার্কসার্কাসে যে থেকেছে, সে কোন সাহসে বলে লন্ডন নোংরা ! কিন্তু সত্যি বলতে কি, ইউ.কের ছোট্ট শহরগুলো এত্ত পরিষ্কার (ইউ.এস তেও বোধহয় তাই) যে বড় শহর গুলোকে বেশ অপরিষ্কার লাগে। লন্ডনকে একটু এগিয়ে রাখছি, কারণ নিউইয়র্ক শহরের মেট্রো, বা একটু গলি, অন্ধকার রাস্তা, এমনকি মেট্রো স্টেশনের লিফটও পুঁতিগন্ধময়। অসহ্য রকমের ঝাঁজাল গন্ধ। যার কারণ হচ্ছে এই শহরে প্রচুর গৃহহীনদের বাস আর তারাই এই কুকীর্তি গুলো করে রাখে। এত্ত বড় শহরকে পরিষ্কার রাখা মুখের কথা নয়। তবুও কলকাতার মতো নয়। কলকাতাবাসী বন্ধুরা দুঃখ পাবেন না, আমি শুধু তুলনা করার জন্য কলকাতাকে টেনে এনেছিলাম। 


টাইমস স্কয়ার দিনের বেলায় 

আর নিউইয়র্ক অনেক অনেক বেশি জনাকীর্ণ। লন্ডনের রাস্তা অনেক তাড়াতাড়ি ফাঁকা হয়ে যায়। রাত ১০ টা অবধি বাইরে থেকেছিলাম লন্ডনের, তখনই কিছু কিছু জায়গা প্রায় খালি, দোকানও বন্ধ হয়ে গেছিলো। আর নিউইয়র্কে রাত ১০ টা তেই বেরোলাম, এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং-এর ৮৬তলা থেকে শহরটাকে দেখার জন্য। প্রচন্ড হাওয়া আর ঠান্ডা, কিন্তু ওই হওয়ার মধ্যেও দিগন্তব্যাপ্ত আলোকমালা দেখলে মনে হয়, হ্যা আরো কিছু ক্ষণের জন্য এই হাওয়া সহ্য করা যেতেই পারে। 


এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং-এর ৮৬তলা থেকে শহর

এখন রেসিজম নিয়ে অনেক কথা হয়, আমি এমন কোনো অবস্থার মুখে পড়িনি।  এতো বড় শহরে, এতো রকম মানুষ, ফর্সা কালো, লম্বা বেটে, রোগা মোটা, কে যে কোথা থেকে বোঝা দায়। আরো আশ্চর্যের বিষয় ওখানে হালাল কার্ট-এ (চাকা লাগানো খাবারের গাড়ী, যেগুলো প্রধানত বাংলাদেশী বা পাকিস্থানীরা চালায়) পর্ক বিক্রি হয়। সেখানে ইউ.কে তে একটা বিশেষ ধর্মের মানুষ অনেক বেশি ধর্মীয় ভাবে রক্ষণশীল। এখানে আমরা ভাবতেই পারিনা, তারা পর্ক খাবে, এমনকি হালাল নয় এমন মাংস খাবে। তাছাড়া রাস্তাতে প্রচুর লোকজন দেখা যায় যারা ধর্মীয় পোশাক পরিধান করে, বিশেষত মেয়েরা। নিউইয়র্কে তেমন চোখে পড়েনি। 

নিউইয়র্কে যাওয়ার আগে বেশ ভয়ে ছিলাম, এত্ত ভীড় শুনেছি। গিয়ে কিন্তু কোনো অসুবিধা হয়নি। আর আমার যেটা সবচেয়ে ভালো লেগেছে, সেটা হলো রাস্তার পরিকল্পনা। পুরো শহরটা কাটাকুটি খেলার মতো লাইন টানা রাস্তায় বিভক্ত। সমান্তরালে চলে গেছে এভিনিউ আর এভিনিউগুলোকে আড়াআড়ি ভাবে কেটে কেটে চলে গেছে স্ট্রিট (বা উল্টো করেও বলা যায়)। কোনো জায়গার স্ট্রিট আর এভিনিউ নম্বর জানা থাকলে ঠিকই পৌঁছে যাওয়া যাবে, হয়তো উল্টো দিকে হেটে ফেললেন, এভিনিউ পাঁচের জায়গায় সাতে চলে চলে গেলেন, কুছ পরোয়া নেহি, ১৮০ ডিগ্ৰী ঘুরে যান, নাক বরাবর হাটতে থাকুন যে দিক থেকে এসেছিলেন সেদিকেই। শুধু খেয়াল রাখতে হবে, কোনদিকে স্ট্রিট বাড়ছে, আর কোনদিকে এভিনিউ নম্বর। ব্যস, যতই ভীড় হোক, আপনি হারাবেন না। জিপিএস কাজ করছিলো না ঠিকঠাক, তাই আমরা অনেকবার এই উল্টো দিকে যাওয়া আসা করেছি আর গন্তব্যে পৌঁছেও গেছি। 

ভালো লাগার মধ্যে আছে রুজভেল্ট আইল্যান্ড। এখানেই আমি থেকেছি তিন দিন। এটা ম্যানহাটনেরই অন্তর্গত, কিন্তু মূল শহর থেকে একটা আলাদা, নদীর মধ্যে একটা দ্বীপ। ছোট্ট সুন্দর, কোলাহল ভীড় থেকে দূরে অথচ একটা মেট্রো স্টপেজ পার করলেই মূলশহরে পৌঁছে যাওয়া যায়। ট্রামও চলে, সেটা বিশেষ করে এই দ্বীপের জন্যই। ট্রাম কিন্তু কলকাতা শহরের রাস্তা দিয়ে চলা ট্রাম নয়, এই ট্রাম চলে আকাশ দিয়ে। 



আকাশপথে ট্রাম আর নদীর মাঝে রুজভেল্ট আইল্যান্ড
(এই দুটো ছবি গুগল থেকে নেওয়া।)

একদিন সকালে আমি দ্বীপটা চক্কর কেটে আসলাম, ১৮৭২ সালে তৈরী একটা লাইটহাউস আছে দ্বীপের এক মাথায়, সেইটা দেখে আসলাম।  কিছুক্ষন নদীর ধরে বসলাম, মনটা উদাস হয়ে গেলো। শহর দেখতেই এসেছিলাম, কিন্তু সেই শহরের ভিড়ভাট্টায় দুদিনেই ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম, এই রুজভেল্ট আইল্যান্ড, নাটোরের বনলতা সেনের হয়ে দায়িত্ব পালন করলো। 



রুজভেল্ট আইল্যান্ড'স  লাইটহাউস

অনেক বড় লেখা হয়ে গেছে, এখানেও সকাল হয়ে গেছে প্রায়। ইউনিভার্সিটি যেতে হবে আজ এতদিন পরে। কাজেই আর অল্প একটু লিখে আর ছবি সেঁটে আজকের মতো শেষ করি আমার ব্লগ। 

শেষ করার আগে বলি কেন গেছিলাম ওদেশে। আমি আসলে গেছিলাম কনফারেন্স, প্রভিডেন্স নামে 
রোড আইল্যান্ড-এর  একটা শহরে, সেখানেই ছিলাম পাঁচ দিন। কাজেই দিন গুজরানের অনুপাত হিসাবে ওখানেই বেশিদিন ছিলাম, তাই সেই শহরটা নিয়েও কিছু বলা দরকার। খুব বেশি ঘুরতে পারিনি, প্রতিদিন এ সকাল সাতটা থেকে সন্ধ্যে সাতটা কনফারেন্স-এই কেটে গেছে। তাই তেমন ঘোরা হয়নি। তবে যেদিন সন্ধ্যেতে পৌঁছায় তার পরদিন সকালে শহরের প্রধান জায়গা গুলো ঘুরে নিয়েছিলাম, ব্রাজিল থেকে আসা একজনের সাথে। সেও আমার মতো কনফারেন্সে আসার জন্য স্পন্সরশীপ পেয়েছিলো, আর আমাদের একই ঘরে থাকতে দেওয়া হয়েছিল। সেও খুবই মিষ্টি, কিন্তু দুঃখের কথা, আমি যে তার বিষয়ে লিখলাম সে তো বুঝতেই পারবে না।

প্রভিডেন্স ছোট্ট শহর, ফাঁকা ফাঁকা, রাস্তায় মানুষজন নেই তেমন, শেফিল্ডের থেকেও শান্ত। অনেক পুরোনো শহর, ব্রিটিশরা এসে ঘাঁটি গেড়েছিল, তাই প্রভিডেন্স-এর আশেপাশের জায়গাগুলোর নামও ইউ.কের মতো।







প্রভিডেন্স

একটা সুন্দর ইউনিভার্সিটি আছে, সেটাও খুব পুরোনো, আর ক্যাম্পাসটা দারুন। দেখে দুঃখ হলো, আমার ইউনিভার্সিটি খুব বড় বটে, কিন্তু এমন ক্যাম্পাস নেই।



জনসন ও ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়

আর একটা বিষয়ে নিয়ে আমি খুবই উত্তেজিত (excited, not angry), সেটা হলো, প্রভিডেন্স-এর রোড আইল্যান্ড স্কুল অফ ডিজাইন মিউজিয়াম-এ গিয়ে, পাল বংশের বিষ্ণুমূর্তি দেখে। ইতিহাসের নিদর্শন কোথা থেকে কোথায় চলে গেছে। যে ভাবেই পৌঁছাক মূর্তিটা, বাঙলী মেয়ে ওদেশে না গেলে জানতেই পারতো না, অমন ছোট্ট শহরেও এই বাংলার একটা নিদর্শন আছে। 


পাল বংশের বিষ্ণুমূর্তি

বেশি লিখবো না ভেবেও অনেক বেশিই লিখে ফেললাম, জানিনা সবার পড়ার ধৈর্য থাকবে কিনা। 

আমার মাথায়তো এখন কথার পর কথা এসে যাচ্ছে। কিন্তু না, আর না। জে এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর কথা বলে শেষ করি। বিমানবন্দরটা মূল শহর থেকে একটু দূরে, প্রথমে মেট্রো, তারপর এয়ারট্রেনে করে যেতে হয়। এয়ারট্রেনটা বিমানবন্দরের বিভিন্ন টার্মিনালে পৌঁছে দেবার জন্যই, এত্ত বিশাল বিমানবন্দর যে ট্রেন লাগবেই, অবশ্য দুবাই-ও তাই। তবে দুবাই-তে বোধহয় কাউন্টারে গিয়ে চেক-ইন করতে হয়। এখানে দেখলাম নিজে নিজেই সব করতে হয়, অনেক কম্পিউটার রাখা আছে, পর পর প্রশ্নের উত্তর দাও, পাসপোর্ট স্ক্যান করাও, দেন প্রিন্ট করো বোর্ডিং পাস আর লাগেজ ট্যাগ, তারপর সেই ট্যাগটা লাগিয়ে ওজন করে লাগেজ তুলে দাও এয়ারলাইন্স-এর কাছে। মানে নিজের কাজ নিজে করো। 'আমার প্রবাসী জীবন' ব্লগেও আমি লিখেছিলাম, উন্নত দেশ মানে সবকিছু সহজে, তেমনটা নয়, উন্নত হওয়া মানে বোধহয় স্বাবলম্বী হওয়াকেই বোঝায়। 

ইউ.কেতে এখনো ঘরের কাজ মূলত মেয়েরা করে (৬৬%), তাই বিজ্ঞাপন দিচ্ছে, সবে মিলে করো কাজ। আর ভারতে, এখনো মেয়ে দেখতে গিয়ে ছেলে গর্বের সাথে বলছে, আরে, আমি ওসব কাজটাজ কিছু জানি না, কিন্তু বৌকে সব জানতেই হবে। 

সবশেষে আশা করি সবাই উন্নত হোক, স্বাবলম্বী হোক। আমাদের দেশ সম্পর্কে বাইরের লোকজনের অনেক ভুল ধারণা আছে, সেটা কনফারেন্সে গিয়ে আরো একবার জানলাম। সবাই মিলে দেশকে আরো সুন্দর করি, ইউ.কে/ইউ.এস কে অনুকরণ করে নয়, বরং তাদের ভালো দিকগুলো কে অনুসরণ করে। 

পরিশেষে আরো কিছু ছবি দিলাম।


আকাশ থেকে ইউ.এস 


প্রভিডেন্সের ওমনি হোটেল 


প্রভিডেন্স নদীর পাশে





প্রভিডেন্স-এর রোড আইল্যান্ড স্কুল অফ ডিজাইন মিউজিয়াম


স্ট্যাচু অফ লিবার্টি, নিউইয়র্ক 


ভিনসেন্ট ভ্যান গগের আঁকা 'দা স্টারি নাইট, The Starry Night (original), মিউজিয়াম অফ মডার্ন আর্ট, নিউইয়র্ক 


বাড়ীর কর্ত্রীর তৈরী সকালের সুস্বাদু জলখাবার, রুজভেল্ট আইল্যান্ড, নিউইয়র্ক




স্থানীয় সাপ্তাহিক বাজার (farmers' market), রুজভেল্ট আইল্যান্ড, নিউইয়র্ক


স্ট্যাচু অফ লিবার্টি যাওয়ার পথে ফেরী থেকে ম্যানহাটন 


ব্রায়ান্ট পার্কনিউইয়র্ক


বাংলা বাজার, জ্যাকসন হাইটস, নিউইয়র্ক


জ্যাকসন হাইটসের দোকানে ডাল, পাবদা মাছ আর ছোট মায়া মাছের ঝাল 


বাড়ীর কর্ত্রীর তৈরী পুষ্টিকর এবং স্বাদু রাতের খাবার, রুজভেল্ট আইল্যান্ড, নিউইয়র্ক


নতুন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার 


ধ্বংস হয়ে যাওয়া ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার দুটো এখন দুটি বিশাল জলাশয়/ঝর্ণা 

পড়া এবং পড়ানোর পাঁচকাহন।

  ছাত্র ছাত্রীদের "Electrostatics & Magnetostatics" পড়ানোর জন্য এই বইগুলো নিয়ে বসেছিলাম। একেই বলে জাহির করা। 🤭 "দেখো M...