Saturday, 10 March 2018

London Travel by Sourav

অনেকদিন পরে পুরোনো বন্ধুর সাথে দেখা হলে মন আনন্দে ভরে ওঠে, আর তার উপর যদি প্রিয় বন্ধু হয় তাহলে আনন্দ আরো কয়েকগুন বেড়ে যায়।
প্রায় ৫ বছর পর দেখা হলো আমার সাথে বাবুর, শেফিল্ডে। বাবু যে ইউনিভার্সিটিতে পড়াশুনা করে, সেখানে আমি একটা Talk দেয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। সেই সূত্রেই যাওয়া এবং দেখা হওয়া। স্টেশনে পৌঁছেই বাবুকে দেখে খুব আনন্দ হলো।
শেফিল্ড খুব শান্ত একটা শহর। সেখানে পৌছে মনটাও শান্ত হয়ে গেল। মনে হলো এইখানে বেশ কটা দিন চুপচাপ বসে কাটিয়ে দেওয়া যায়।
কিন্তু ইংল্যান্ড গেলাম আর লন্ডন দেখবো না তাই কি কখনো হয়। আর সেই জন্যই পরদিন সকালে আমরা ট্রেনে করে পৌছালাম St Pancras railway station -এ। কাছেই একটা হোস্টেলে আমাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেখানে আমাদের ব্যাগপত্র জমা করে আমরা বেরিয়ে পড়লাম লন্ডন ভ্রমণে। প্রথমেই গেলাম রানীর বাড়ী, Buckingham Palace-এ। আমরা খুব সকাল সকাল বেরিয়েছিলাম বলে একদম ফাঁকাই ফাঁকাই ঘুরতে পারলাম, নইলে বাবু বলেছিলো, ওখানে প্রচন্ড ভীড় হয়, দাঁড়ানোর জায়গা থাকে না।




আমরা অনেক ঘুরে ছবি তুলে একটা টিউবে করে পৌছালাম আমাদের পরবর্তী গন্তব্যে, Natural History Museum-এ। সেখানেও আগে পৌঁছে যাওয়ায় কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হলো, কিন্তু সকালের অল্প অল্প ঠান্ডায় লন্ডনের মাধুর্য আস্বাদন করতে ভালোই লাগছিলো, আর মিউজিয়ামের ভিতরে পৌঁছেও আরো অনেক মুগ্ধতা আমার মনকে ভরিয়ে তুললো। প্রথমে ঢুকেই দেখতে পেলাম, ডাইনোসরের জীবাশ্ম, যেটা পৃথিবীতে পাওয়া সম্পূর্ণ  জীবাশ্মগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি জীবাশ্ম। তাছাড়াও  মিউজিয়ামের প্রতিটা তলাতেই নানারকমের বিষ্ময়, মানুষের বিবর্তন থেকে এই পলিমাটি-র উৎপত্তি, কি নেই সেখানে! আছে সুদৃশ্য সব পাথর, অজস্ত্র পাখি (taxidermied)। যা কিছু Natural, তার সব কিছুই আছে এই মিউজিয়ামে, এমনকি, নকল ভূমিকম্পও অনুভব করা যাবে এইখানে গেলে।




সেই সব দেখে অনুভব করে পৌছালাম The National Gallery তে। অনেক ভীড়, ভিতরে যাওয়া হলো না। কাজেই কিছু ছবি তুলে Trafalgar Square-এ চক্কর মেরে, lunch সেরে নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে পৌছালাম Big Ben-এর সামনে।



এতক্ষন লন্ডনে তেমন ভীড় দেখিনি, কিন্তু এইখানে পৌঁছে বেশ গড়িয়াহাটের মতো মনে হলো, সঙ্গে সঙ্গেই মনে পড়লো কদিন আগেই এইখানেই ঘটে গেছে সেই জঙ্গি হানা। মনটা ভারাক্রান্ত হলো, কিন্তু আবারো হাটতে থাকলাম সবার মতোই, স্রোতের তালে। পৌঁছাতে হবে, নদীর এপার থেকে ওপারে। কারণ পৌঁছাতে হবে London Eye-এর কাছে, আগে থেকেই যে টিকিট কাটা আছে।
সেখানে পৌঁছে দেখা গেলো বিশাল লাইন, দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে মনে হচ্ছিলো বোধহয় আজ আর উঠতে পারলাম না। কিন্তু লাইন বেশ দ্রুতই এগোলো আর আমরাও London Eye-এর কোলে চেপে পড়লাম। একদম উঁচুতে উঠে পুরো শহরের দৃশ্য মনের মনিকোঠায় এবং অবশ্যই ক্যামেরায় বন্দি করলাম। আর হ্যা, একটা কথা, London Eye কিন্তু কখনোই থামেনা, ধীর গতিতে ঘুরতেই থাকে, ওর মধ্যেই উঠতে হয়, নামতে হয়।





সেখান থেকে বেরিয়ে আমরা আসলাম Sea Life London Aquarium-এ। হাঙ্গর, পেঙ্গুইন, রংবেরঙের মাছ আর জলজ উদ্ভিদ দেখে যখন বাইরে আসলাম, তখনও দেখি আকাশ রঙিন, সোনালী সূর্যের আলোয়, অথচ প্রায় সাড়ে ৭ টা বাজে। পড়ন্ত বিকেলের আলোয় ক্লান্তি কিছুটা দূর করে ফিরে আসলাম হোস্টেলে।




পরের দিন সকালে উঠেই প্রথমেই পৌছালাম Madame Tussauds London-এ। এখানেও অনেক সকালে পৌঁছেছিলাম বলে একটুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছিল লাইনে, দরজাই খোলেনি। কিন্তু তাতে আফশোস নেই, কারণ তার কিছুক্ষণের মধ্যেই এতো ভীড় হয়ে গেলো যে আগে না পৌঁছালে কোনো ছবিই তুলতে পারতাম না।


মোমের মূর্তিদের সাথে বেশ কিছুক্ষন কাটিয়ে, লন্ডনের লাল বাসে চেপে পৌঁছে গেলাম লর্ডসে। আমার সমনামী এইখানে জামা উড়িয়েছিলেন, ভেবেই মনে শিহরণ হলো। কিছু ছবিটবি তুলে সেইখান থেকে আবার বাসে করে পৌছালাম Baker Street-এ।



এইখানেই আছে Sherlock Holmes- এর মূর্তি আর museum, তার সামনেও প্রচুর লাইন।




আমাদের সময় বিশেষ ছিল না তাই আমরা চললাম পরের গন্তব্যে London Dungeon-এ।।
এটার বিশেষত্ব হলো অনেক অভিনেতা অভিনেত্রীরা পুরোনো লন্ডনের infamous history গুলোকে অভিনয়ের মাধ্যমে তুলে ধরেন। ঢোকার মুখে লেখা ছিল, দুর্বল চিত্তের লোকজন যেন না আসেন দেখতে। বাবুও বললো নেটে দেখেছে, এটা নাকি horror শোয়ের মতো, london eye -এর সাথে combined ticket পেয়েছিলো, তাই কেটেছিল টিকিট, নইলে আসতো না। কিন্তু আমার বেশ মজাই লেগেছে, কেউ ভয় দেখানোর আগেই খুব করে চেঁচিয়েছি যাতে ভয় না লাগে, অবশ্য তেমন ভয় লাগার মতো কিছুই ছিল না, শুধু রাস্তাগুলো ছিল অন্ধকার, আর সবাই পুরোনো দিনের পোশাক পড়েছিল বলে কেমন একটা লাগছিলো। সেখান থেকে বেরিয়ে আসে পাশে একটু ঘুরে নিয়ে চললাম আমাদের শেষ গন্তব্যে। লন্ডনের বিখ্যাত Tower Bridge দেখতে।


মনটা একটু ভারাক্রান্ত হলো। আরো কিছুটা সময় কাটাতে পারলে ভালো হতো, অনেক কিছুই যেমন দেখা হলো, তেমনি অনেক কিছুই বাদও রইলো। কিন্তু হাতে সময় যে খুবই কম, আমায় আবার ফিরতে হবে। কাজেই দেড় দিনের সফরের স্মৃতি মনে ভরে উঠে পড়লাম ফিরতি বাসে।

No comments:

Post a Comment

পড়া এবং পড়ানোর পাঁচকাহন।

  ছাত্র ছাত্রীদের "Electrostatics & Magnetostatics" পড়ানোর জন্য এই বইগুলো নিয়ে বসেছিলাম। একেই বলে জাহির করা। 🤭 "দেখো M...