Friday, 28 October 2016

হে বিধাতা, নারীকে আপন ভাগ্য জয় করিবার সুযোগ কি কখনো দেবেন?


ছোটবেলা থেকে আমার রবীন্দ্রপ্রেমী মায়ের কাছে শুনছি, ''নারীকে আপন ভাগ্য জয় করিবার কেহ নাহি দিবে অধিকার, হে বিধাতা', তাই নিজের ভাগ্য নিজেকেই গড়তে হবে'। কাল সেই মা-ই আবার বললেন, মেয়েরা আর কতদূর এগোবে, বিধাতাই তো মেরে রেখেছেন মেয়েদের। আসলে কথা হচ্ছিলো রূপালী গঙ্গোপাধ্যায়- এর লেখা 'মেয়েরা সংসার করবে, বিজ্ঞানীও হবে?' শীর্ষক ২৭শে অক্টোবরের আনন্দবাজারের নিবন্ধ ২ নিয়ে।


খুব সংক্ষেপে বললে ওনার লেখার বিষয়বস্তুটি হচ্ছে, উচ্চতর গবেষণায় ভারতীয় মেয়েদের দুরাবস্থা।বিয়ে, সংসার, ছেলে-মেয়ে মানুষ, এই সমস্ত করতে গিয়ে মেয়েদের পড়াশুনায় ছেদ পড়ে। তাই DST WOMEN SCIENTIST SCHOLARSHIP বলে একটি PROGRAMME চালু করেছিল মহিলা বিজ্ঞানীদের উৎসাহিত করার জন্য। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, এই উদ্দেশ্য একেবারেই সফল হয়নি। কারণটা সেই আদি ভারতীয় সমস্যা, সেটা হলো মেয়েদেরকে কেউ seriously নেয়না। আর তাই 'প্রজেক্ট মঞ্জুর হওয়ার আগে অনন্তকাল অপেক্ষা করতে হয়, প্রজেক্ট চালু হওয়ার পরও অনুদান আসে চূড়ান্ত অনিয়মিত ভাবে'। যারা এই সমস্ত কর্মকাণ্ডের মাথা, তারা নিজেরাই মেয়েদের উপর বিশ্বাস রাখতে পারেন না। আসলে রাখবেনই বা কি করে, বেশিরভাগ মেয়েরাই তো বিয়ের পর সংসারের বেড়াজালে এমন ভাবে জড়িয়ে পড়ে, সত্যি সত্যিই অনেক সময়ই তারা কর্মক্ষেত্রে তেমন ছাপ ফেলতে পারে না, বা বলা ভালো তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। তাই যতই গবেষণা করুক, সবাই ভেবে নেয়, হয়তো শখে এই কাজটা করছে, সংসার শুরু হয়ে গেলে, একটা কলেজে বা ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতার কাজটাই করবে, কাজেই এর প্রজেক্ট-এর অনুদান এতো গুরুত্বপূর্ণ নয়।

আরো কিছু কারণ আছে, এই PROGRAMME সফল না হওয়ার। সেটা নিবন্ধটিতে লেখা আছে, আমি আর পুনরাবৃত্তি করছি না। লিংক দিয়ে দিচ্ছি এই লেখার শেষে, এই বিষয়ে উৎসাহী হলে সেটা দেখে নিলেই হবে। আমি আজ তিনজন মহিলা গবেষকের সাথেও কথা বললাম, তারাও কিছু ক্ষেত্রে লেখিকার সাথে একমত।

এখন কেউ আমাকে প্রশ্ন করতেই পারেন,
তাহলে এই সমস্ত বিজ্ঞান গবেষণার মধ্যে হঠাৎ শিরোনামে 'বিধাতা' কেন? আসলে বিধাতা বলতে আমি ভগবান, দূর্গা, যীশু, আল্লা কাউকেই বোঝাতে চায় নি। আমি আদতে বিবর্তন এবং অভিযোজন (evolution and adaptation) প্রক্রিয়াটির কথা বলতে চেয়েছি, যার দৌলতে মেয়েদের শারীরিক গঠন, শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া এমনই হয়েছে যা মেয়েদের কর্মজীবনের অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।


সন্তান জন্ম দেয়ার প্রক্রিয়াটি জটিল এবং কষ্টসাধ্য, এই superfast generation-এ এসেও কেউই এই দীর্ঘ প্রক্রিয়াটি কে ত্বরান্বিত করতে পারে না। অগত্যা কাজে দীর্ঘ বিরতি। সেই বিরতিকে কাটিয়ে উঠে আবার আগের মতো কর্মক্ষম হতে অনেকটা সময় পেরিয়ে যায়। আর তার উপর সন্তান মানুষ করতে গেলে অনেক কিছু ত্যাগ করতে হয়, যেমন অফিসার হওয়ার সুযোগ প্রত্যাখ্যান করে কেরানি হয়েই জীবন কাটিয়ে দিতে হয়। বাবা যতই ভালো হোক না কেন, সন্তানকে স্তন্যপান তো মাকেই করাতে হবে। কিছু কাজ একান্ত ভাবেই মায়েদেরই এবং সেখানেই 'বিধাতার দান'।

এখন কথাটা হচ্ছে উচ্চাকাঙ্খী মেয়েরা বিয়ে সংসার না করলেই পারে।

কিন্তু সমাজ! সে তো ব্যাপারটা কিছুতেই মেনে নেবে না, বিয়ে না হওয়া নিয়ে অনেক গল্প ফাঁদবে, তারপর জ্বালাতনও করতে পারে, শেষে সহানুভূতি দেখিয়ে, বিয়ে না করে সে যে কত্ত বড় ভুল করেছে সেই অনুশোচনা বোধটাও মনের মধ্যে ঢুকিয়ে দিতে পারে।
তবে আমি মনে করি, যারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, যারা জীবনের প্রথম ধাপেই এমন একটা সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছে, এই সমস্ত সামাজিক বাক্যালাপে তারা প্রভাবিত হবে না। 

সমাজকে বাদ দিলেও, সেই বিধাতার জন্য শেষ অবধি সন্তান ধারণ করতেই হবে। মেয়ে মানেই মাতৃস্নেহে গদগদ সবাই, সন্তানকামনায় সবাই অতি-উৎসাহী এমনটা আমি যদিও মনে করিনা। কিন্তু তাও, ৩০ বছরের মধ্যে স্বামী সন্তান সহযোগে সংসারের মধ্যমণি হতে হয়। সন্তানের জন্ম দিলে অপত্যস্নেহ আসবে, স্বাভাবিক সেটা, কিন্তু তার আগে নিজের সুস্বাস্থ্যের জন্য সন্তান 'প্রয়োজনীয়'। (এই প্রয়োজনীয় কথাটা কারো কারো খারাপ লাগতে পারে, আমি তার জন্য আগে ভাগেই মার্জনা চেয়ে নিচ্ছি। )
কারণ University of Oxford-র Cancer Researcher Dr Kezia Gaitskell-এর মতে, প্রতিটি সন্তানের জন্ম মায়ের ওভারিয়ান ক্যান্সার-এর সম্ভাবনা কমায় (Mothers reduce risk of ovarian cancer with every child)। আর NHS UK- র সাইট বলছে ,স্তন্যপান স্তন ক্যান্সার-এর সম্ভাবনা কমায়। আরো অনেক study এটা প্রমান করেছে যে ৩০ বছর হলো মাহেন্দ্রক্ষণ সন্তান ধারণের, নইলে এরপর মা এবং ছানা দুজনেরই জীবন সংকটের সম্ভবনা বাড়তে থাকে।

আর বিধাতার সেই মাহেন্দ্রক্ষণের যতিচিহ্নের সুবাদে গবেষনা জীবনে প্রশ্নচিহ্ন পড়ে যায়।

অতি আশাবাদীরা অবশ্য বলেন, মেয়েদের দিন আসবে। সেই সব বোঝাতে তারা ডাইনোসোরের যুগে ফিরে যান, মানে বোঝাতে চান, সবার দিন সমান যায় না, একদিন মেয়েরাও শক্তিশালী হবে আর ডাইনোসোরের সমতুল্য পুরুষের ক্ষমতা অবলুপ্ত হবে। তবে আমি ততটা উৎসাহী নয়, আমি যতদূর জানি, মেয়ে ডাইনোসোররাই ডিম পারতো ! মানে বলতে চাইছি যে এক প্রজাতির থেকে আর এক প্রজাতি হয়তো শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে (but that is also not true, এই মানুষের জামানায় কত প্রাণীই নীরবে নিশ্চুপে অবলুপ্ত হয়ে গেলো, তাদের তো 'দিন আসলো না') কিন্তু এক প্রজাতির মধ্যেই স্ত্রী-জাতি হঠাৎ করে পুরুষজাতির থেকে শক্তিশালী হয়ে উঠলো, সেটা অলীককল্পনা ছাড়া কিছুই নয়।

কাজেই সেই অলীককল্পনা বাদ দিয়ে বাস্তবের মাটিতেই চলা ভালো। মেয়েদের কিছু প্রতিবন্ধকতা আছে, যেটা এই সৃষ্টি এবং বিবর্তনের দান, যাকে উপেক্ষা করা অসম্ভব। তাই বলে ঘরে বসে থাকলেও তো কোনো লাভ নেই।

অনেক অসুবিধার কথা বললাম তাই মধুর বাণী শুনিয়ে লেখাটা শেষ করি। একসময় মেয়েরা বাড়ি বসে শুধুই রান্না করতো, তারপর কিছু মেয়ে স্কুলের দিদিমনি হলো, তবে সেলাই দিদিমনি হয়েই কাটিয়ে দিলো আরো কিছু বছর। এক দুই দশক আগে বিজ্ঞান বিভাগেও মেয়েরা শিক্ষকতা করতে আসলো। এখন খুব কম সংখ্যায় হলেও মেয়েরা কলেজেও পড়াচ্ছে সাথে অল্প বিস্তর গবেষণাও করছে।

মানে যেটা এক কালে অবাস্তব ভাবনা ছিল অল্প হলেও বাস্তব হচ্ছে, খুব ধীর গতিতে, কিন্তু হচ্ছে। হয়তো আরো কিছু বছর পর নোবেল প্রাইজের মঞ্চেও নিজেরদের অংশীদারিত্ব বাড়িয়ে ফেলবে, ১১% থেকে ২২% ও হয়ে যেতে পারে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০১০ সাল অবধি নোবেল প্রাইজের মোটে ১১% মেয়েদের জিম্মায়। আগেই বলেছি, অতি উৎসাহী আমি নই, তাই সর্বক্ষত্রে including নোবেল মেয়েরা ৫০% জায়গা দখল করবে, সেটা আমি মনে করিনা। কিন্তু প্রতিকূলতার মধ্যেও চেষ্টা চালিয়ে গেলে কিছু কাজ করা সম্ভব হবে। সাথে যদি পরিবারের (read husband) সহযোগিতা পাওয়া যায়, আর পাশের মানুষ জনের নেতিবাচক মানসিকতা একটু পরিবর্তিত হয়, তাহলে হয়তো বিয়ের পর, সন্তান ধারণের পরও দু'কদম পা বাড়ানো যাবে।

http://www.anandabazar.com/editorial/women-going-back-on-the-field-of-research-works-1.502477

Wednesday, 19 October 2016

নারীজীবনের স্বার্থকতা

আমি যে পাড়ায় থাকি, আমাদের পাশের পড়াটায় মূলত শ্রমজীবী মানুষেরা থাকেন, শ্রমজীবী মানে পুরুষেরা সাধারণত রিক্সা চালান, দোকানে কাজ করেন, আর মহিলারা অন্যের বাড়ি কাজ করেন। এখন অবশ্য সরকারের '১০০ দিনের কাজ' প্রকল্পের দৌলতে, নারী পুরুষ নির্বিশেষে মাটি কাটার কাজ করেন, হাতে অনেক টাকা পান (তুলনামূলক ভাবে), তাই বাকি ২৬৫ দিন ঘরে বসে কাটাতে বেশি ভালোবাসেন। ২৬৫-ও না, ৩০০ দিন ও হতে পারে, কারণ কানাঘুষো শুনি, হাতে কলমে কাজ না করেও কিছু টাকা পাওয়া যায়, কারণ খাতায় কলমে '১০০ দিন' দেখালে দুইপক্ষেরই লাভ। আমি যদিও '১০০ দিনের কাজ' ও তার ব্যর্থতা কিংবা রাজনৈতিক তরজা নিয়ে লিখতে চাইছিনা। আরে বাবা, এখনকার দিনে সবার হৃদয় খুব কোমল, কার ভাবাবেগে কখন আঘাত পড়ে, তার পর সে'ই না আমায় আঘাত করে, এই নিয়ে আমি খুবই সন্ত্রস্ত। কাজেই সরাসরি যে কথাটা বলতে চাইছিলাম সেটাতেই ফিরে আসি।
তো সেই 'দিন আনি দিন খায়' পাড়ায় দুটো কথা খুব প্রচলিত ছিল, এক- ওর আবার বাচ্চা হবে, দুই- মেয়েটার বিয়ে দিতে হবে। যেহেতু গরিব কাজেই ওদের মেয়ের বিয়েতে আশে পাশের পাড়ার মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবসময়-ই সাহায্য করতো কিন্তু আড়ালে আবডালে কিংবা ওদের মুখের উপরই বলে দিতো, 'বিয়ে কেন দিচ্ছিস? কদিন পরই তো বাচ্চা কাঁখে ফিরে আসবে?'
হ্যা, তুই করেই বলতো বেশিরভাগ লোক, কারণ আপনি যদি অন্যের থেকে বেশি টাকার মালিক হন, আমাদের সমাজ ব্যবস্থাই আপনাকে অধিকার দেয় অন্যদেরকে তুই-তুকারি করার। তবে কথাটা মন্দ বলতো না কেউই, ওদের পাড়ায় মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়া মানে মাত্র ১বছরের অপেক্ষা মেয়ের ফিরে আসার। কখনো কখনো ২-৩ মাসের মধ্যেও ফিরে আসতো। কিন্তু সদ্য সদ্য বিয়ে হওয়ার কারণে সেই জামাই হয়তো কখনো সখনো নিজের তাগিদেই বৌকে ফিরিয়ে নিয়ে যেত। অথবা, মা বাবাও কখনো আলোচনা করে ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করতো। কিন্তু সময় একটু পেরিয়ে গেলে, যখন মেয়েটাও আবার সদ্য হওয়া বাচ্চাটাকে কোলে নিয়ে লোকের বাড়ি কাজে লেগে  পড়তো,ব্যাপারটা অনেকটা গা সওয়া হয়ে যেত।
একটা সময়,  আমি আর দিদি বোধহয় হিসাব করে দেখেছিলাম, যে ওই পাড়ায় একটা মেয়েও নেই যে বিয়ের পর ফিরে আসেনি।

এখন কথাটা হচ্ছে ওরা ফিরে আসতো কেন? বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মেয়েগুলো রজঃস্বলা হতে না হতেই বিয়ে দিয়ে দেয়া হতো, বরগুলো বয়সে বড় না হলেও, কাজ করতে শুরু করা মানেই মদ খাওয়া শুরু আর মদ খাওয়া মানেই রাতে কাজ থেকে ফিরে এসে বৌকে ধরে পেটানো। তার উপর শাশুড়িগুলোও যদি রূপকথার গল্পের সৎমায়ের মতো হয়, তাহলে তো কথাই নেই। 'গার্হস্থ্য উৎপীড়ন' মাত্রাছাড়া, সেটা সহ্য করা ওই টুকু মেয়ের পক্ষে সম্ভব হতো না, অগত্যা ফুলশয্যার মোহ কেটে যেতেই পিত্রালয়ে প্রর্তাবর্তন কয়েক মাসের মধ্যেই। 

এই ফিরে আসাটা এতোটাই স্বাভাবিক ছিল যে ওদের মধ্যে এটা নিয়ে কেউ কিছু বলতো না। কিন্তু ওই মধ্যবিত্ত ঘরের লোকজন সময় সুযোগ পেলে বাড়িতে কাজ করতে আসা বৌদি, কিংবা মাসীদেরকে কথা না শুনিয়ে ছাড়তো না। কারণ, মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে বিয়ের পর স্বামীর ঘর করতে না পারলে পরিবারের মাথা কাটা যায়। 

মধ্যবিত্ত সমাজে লোকলজ্জার ভয় প্রচুর, ছোট থেকে আমাদের শেখানো হয়, মেয়েদেরকে তো মানিয়ে গুছিয়েই চলতে হয়। সেই মানিয়ে গুছিয়ে চলাটা যে কতটা অবধি মানানো সেটা বলা বেশ কঠিন। কোনো ক্ষেত্রে হয়তো বরের ধমকি, কোনো ক্ষেত্রে হয়তো সারা গায়ে কালশিটে। আর সেই ঘটনাগুলো কিন্তু পরিবারের সবাই জানেন। এগুলো হলো 'ওপেন সিক্রেট', সবাই জানে কিন্তু প্রকাশ্যে বলতে মানা।
এই কদিন ধরে যত যত গৃহবধূ হত্যার খবর আমরা পড়লাম, প্রত্যেকটাতেই মেয়েগুলোর বাপের বাড়ির লোক কিন্তু বলেছে, আমরা জানতাম জামাই এরকম, পণের জন্য অত্যাচার করতো, কিন্তু কোনো অজ্ঞাত কারণে' প্রত্যেক পরিবারই ভেবেছিলো 'সব ঠিক হয়ে যাবে'। এই অজ্ঞাত কারণটা যে কি এবং কি ঠিক হয়ে যাবে সেইটা সেই ছোটবেলা থেকে আজও আমি বুঝে উঠতে পারলাম না।

মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর পরই কাকিমা জেঠিমারা নিজেদের জামাইয়ের প্রশংসায় পাগল হয়ে যেতেন, এমন জামাই নাকি হয় না। তারপর ধীরে ধীরে কানাঘুষো শোনা যেত, জামাইয়ের এই দোষ ওই দোষ। কিন্তু পুজো বা পারিবারিক অনুষ্ঠান ছাড়া মেয়ে বাপের বাড়ি আসতো না। এবং সেটি তার শ্বশুরবাড়ি ভালো হওয়ার নমুনা, 'NOT' সেই মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েটার সাফল্য।
আর ভুল ক্রমে কেউ যদি ফিরে আসতো, তাতে শ্বশুরবাড়ির বিশেষ দোষ হতো না, কিন্তু মেয়েটির মানিয়ে না নিতে পারার  অক্ষমতার প্রচুর সমালোচনা হতো।

এখন অবশ্য সেই 'দিন আনি দিন খায়' পাড়াতেও আমাদের মতো পাড়ার ছোঁয়া লেগেছে। গ্রামগুলোর সার্বিক উন্নতির দৌলতে তাদেরও পাকা ঘর হয়েছে, যে দুটো প্রচলিত কথা ছিল, সে দুটোই আজ পুরোনো হয়েছে, সরকরি প্রচার এবং 'আশা' স্বাস্থ্য কর্মীদের প্রচেষ্টায় মুহুর্মুহ বাচ্চা হওয়াটা বন্ধ হয়েছে, সাথে সাথে বিয়ের পর মেয়ের বাপের বাড়ি ফিরে আসার চলও কমেছে, হাতে টাকা এসে বোধহয় চক্ষুলজ্জা বেড়ে গেছে সকলের। 

কিন্তু ঘরের ভিতরের 'ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স' কি কমেছে, আশে পাশের কারণসুধা বিক্রির বহর দেখে তো তা মনে হয়না। 
তাই মনে প্রশ্ন জাগে, নারীজীবনের স্বার্থকতা কোনটাতে বেশি, কালশিটে গায়ে শ্বশুরবাড়ির হেঁসেল ঠেলা নাকি নবজাতককে কোলে নিয়ে অন্যের বাড়ি কাজ করে নিজের খরচ নিজেই জোগাড় করা?

আরো একটা কথা মনে পরে গেলো, সেটা দিয়েই আজকের লেখাটা শেষ করি। 
ওই পাড়াতে একটা বৌকেই মরতে দেখেছিলাম আগুনে পুড়ে, সরাসরি নয়, ঘরটা পুড়তে দেখেছিলাম। শুনেছিলাম সে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টায় ছিল। 


বিঃ দ্রঃ কারো কারো জামাই সত্যিই খুব ভালো হন, দয়া করে সেই জামাইদের শ্বাশুড়িরা আমায় গাল পাড়বেন না। আমি তো জানিই পৃথিবীতে ব্যতিক্রম আছেই, বৌমারাও দজ্জাল হন আর বৃদ্ধ পিতা মাতাদের প্রতি সন্তানদের অবহেলা সংক্রান্ত লেখা লিখেই আমার ব্লগটার সূচনা করেছিলাম। 

পড়া এবং পড়ানোর পাঁচকাহন।

  ছাত্র ছাত্রীদের "Electrostatics & Magnetostatics" পড়ানোর জন্য এই বইগুলো নিয়ে বসেছিলাম। একেই বলে জাহির করা। 🤭 "দেখো M...