Tuesday, 9 May 2017

নিউইয়র্কের পথে পথে

এখানে এখন গভীর রাত, কিন্তু ঘুম নেই চোখে, সম্ভবত জেট ল্যাগ। কি করি কি করে ভেবে ভেবে শেষে ল্যাপটপ খুলে বসলাম, আমার সদ্য দেখা শহরকে নিয়ে কিছু বলার জন্য। নিউইয়র্ক নিয়ে এতো জন এতো কথা লিখেছেন, আমার আর নতুন করে বলার কিছু নেই। কাজেই খুব বেশি কিছু বলছি না এই শহরকে নিয়ে, বরং আমি এই শহরের সাথে আরো একটা শহরের কথাও বলবো। কিন্তু সেইটা ছোট্ট শহর, সেই নামটা দিয়ে পোস্ট করলে, কেউ চিনতেও পারবে না, তাই  নামটা 'নিউইয়র্কের পথে পথে'-ই রাখলাম। এই প্রসঙ্গে বলে রাখি, এই নামটাও আমার নিজের মাথা থেকে আসেনি, মায়ের লেখা একটা ভ্রমণকাহিনী আছে, লন্ডন নিয়ে, সেই নামটা থেকে অনুকরণ করলাম মাত্র। 

নামকরণ তো হলো, এবার আসি আসল গল্পে। অনেক রাত এখন, বেশি কথা না বাড়িয়ে গল্প শুরু করায় ভালো। অবশ্য এই রাত কথাটাও আপেক্ষিক, তিন দিন নিউইয়র্ক-এ থেকে সেটাই জানলাম। নিউইয়র্ক সেই শহর যেখানে রাতেই দিন শুরু হয়। অবশ্য সত্যিকারের দিন যে দিন নয়, তা বলছি না। চারিদিকে সব সময়ই লোকে লোকারণ্য। আমি বাসে করে প্রভিডেন্স বলে আর একটা শহর থেকে নিউইয়র্ক আসছিলাম, তখন বিকেল। রাস্তায় এতো ভীড়, দেখে কলকাতার কথা মনে পড়ে গেলো। পরে গুগলে দেখলাম, শহরের কেন্দ্রস্থলের (ম্যানহাটন) জনসংখ্যার ঘনত্ব কলকাতাকেও হার মানায়। অবশ্য পুরো নিউইয়র্ক শহরটাকে হিসেবের মধ্যে ধরলে পরিসংখ্যান একটু আলাদা। নিউইয়র্ক শহরটা পাঁচটি অঞ্চল (Borough) তে বিভক্ত, ম্যানহাটন, ব্রুকলিন, কুইন্স, স্ট্যাটেন আইল্যান্ড এবং দা ব্রঙ্ক্স (The Bronx)। নিউইয়র্কের যত ছবি আমরা দেখি, আকাশচুম্বী অট্টালিকা তার বেশিরভাগটাই ম্যানহাটন-এর ছবি, এখানেই সেই টাইমস স্কয়ার, যা বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত জায়গা। সবাই শুধু এ রাস্তা থেকে ও রাস্তা, ও প্রান্ত থেকে এ প্রান্ত হেটে যাচ্ছে। বড় বড় স্ক্রিনে সব সময় বিজ্ঞাপন চলছে, যেটা রাতে খুব ভালো করে বোঝা যায়, কিন্তু দিনের বেলাতেও সেগুলো চলতেই থাকে। আমি প্রথমে দেখেই ভাবলাম, ইস্স, কত্ত শক্তি (energy) নষ্ট, কেউ তো তাকিয়েও দেখছে না। আর দেখবেই বা কি করে, সবাই তো শুধু চলছেই আর চলছেই, থামার মধ্যে টুক করে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা, আর তারপর আবার চলা।





টাইমস স্কয়ার রাতের বেলায় 

এ চলার যেন শেষ নেই, তাই মধ্য রাতেও মেট্রো সচল, লোকে ভর্তি, মনেই হয়না রাত দুটো বাজে।
বড়ো শহর নিয়ে আমাদের মধ্যে একটা ভয় কাজ করে, কিন্তু যে শহরে রাত দুটোতেও অনায়াসে যাতায়াত করা যায়, সে শহর নিঃসন্দেহে আমাদের দেশের শহরগুলোর থেকে নিরাপদ। 

আমার সাথে অবশ্য আমার বন্ধু ছিল, সে আমেরিকাতেই থাকে অন্য শহরে, আমি ওই দেশে গেছি বলে, নিজের শহর থেকে উড়ে এসে আমার সাথে দেখা করতে এসেছিলো, পুরো গুরুজনদের মতো যত্ন করে হাত ধরে ঘুরিয়েছে আমাকে। নিউইয়র্ক পৌঁছনোর আগে পাঁচদিন আমি অন্য শহরে ছিলাম, তখন রোজ রোজ খোঁজ নিয়েছে, ওর দেশে গিয়ে আমার যাতে কোনো অসুবিধা না হয়, সেইটা দেখার দায়িত্ব ও নিয়ে নিয়েছিল। অথচ কে বলবে ওর সাথে আমার সাত বছর পর দেখা হলো, সেই কলেজ ছাড়ার পর। থাকার ব্যবস্থাও ওই করেছিল, ওত্তোবড় অচেনা শহরে একেবারে বাড়ির মতো আদর পেলাম, ওর পরিচিতের বাড়িতে। এখন অবশ্য আমার ও পরিচিত। তিনি খুব সুন্দর রান্না করেন, খুব সুন্দর ছবি আঁকেন আবার গলার স্বর খুব মিষ্টি। ধন্যবাদ জানিয়ে কাজ নেই, বরং বলতে পারি, আমার এখানে আসলে তোমাদের দুজনকেই যত্ন করার চেষ্টা করবো।
অবশ্য লন্ডন তোমাদের কতটা ভালো লাগবে জানিনা। 

তুলনা করা সবসময় উচিত নয় কিন্তু আমরা কথায় কথায় তুলনা করতে থাকি। আমি পুরো নিউইয়র্ক যেমন ঘুরে দেখিনি, তেমনি গ্রেটার লন্ডনও নয়।   কাজেই খুব বেশি আলোচনা বা সমালোচনা করা উচিত হবে না। তবে দুটো শহরের কেন্দ্রস্থল যদি তুলনা করি, তাহলে লন্ডন অনেক বেশি সবুজ। রাস্তার পাশে পাশে গাছ। সেখানে ম্যানহাটনে গাছ দেখতে সেন্ট্রাল পার্কে যেতে হবে, অবশ্য পার্কটা খুবই সুন্দর। এই পার্কেই অনেক হলিউড সেলিব্রিটি নাকি জগিং করেন (বান্ধবী বলেছেন)।







সেন্ট্রাল পার্ক 

পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দিক থেকে লন্ডন হয়তো একটু এগিয়ে থাকবে। আমি যদি বলি লন্ডনেও আমার অসুবিধা হয় তাহলে লোকে পেটাতে আসবে, কলকাতার পার্কসার্কাসে যে থেকেছে, সে কোন সাহসে বলে লন্ডন নোংরা ! কিন্তু সত্যি বলতে কি, ইউ.কের ছোট্ট শহরগুলো এত্ত পরিষ্কার (ইউ.এস তেও বোধহয় তাই) যে বড় শহর গুলোকে বেশ অপরিষ্কার লাগে। লন্ডনকে একটু এগিয়ে রাখছি, কারণ নিউইয়র্ক শহরের মেট্রো, বা একটু গলি, অন্ধকার রাস্তা, এমনকি মেট্রো স্টেশনের লিফটও পুঁতিগন্ধময়। অসহ্য রকমের ঝাঁজাল গন্ধ। যার কারণ হচ্ছে এই শহরে প্রচুর গৃহহীনদের বাস আর তারাই এই কুকীর্তি গুলো করে রাখে। এত্ত বড় শহরকে পরিষ্কার রাখা মুখের কথা নয়। তবুও কলকাতার মতো নয়। কলকাতাবাসী বন্ধুরা দুঃখ পাবেন না, আমি শুধু তুলনা করার জন্য কলকাতাকে টেনে এনেছিলাম। 


টাইমস স্কয়ার দিনের বেলায় 

আর নিউইয়র্ক অনেক অনেক বেশি জনাকীর্ণ। লন্ডনের রাস্তা অনেক তাড়াতাড়ি ফাঁকা হয়ে যায়। রাত ১০ টা অবধি বাইরে থেকেছিলাম লন্ডনের, তখনই কিছু কিছু জায়গা প্রায় খালি, দোকানও বন্ধ হয়ে গেছিলো। আর নিউইয়র্কে রাত ১০ টা তেই বেরোলাম, এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং-এর ৮৬তলা থেকে শহরটাকে দেখার জন্য। প্রচন্ড হাওয়া আর ঠান্ডা, কিন্তু ওই হওয়ার মধ্যেও দিগন্তব্যাপ্ত আলোকমালা দেখলে মনে হয়, হ্যা আরো কিছু ক্ষণের জন্য এই হাওয়া সহ্য করা যেতেই পারে। 


এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং-এর ৮৬তলা থেকে শহর

এখন রেসিজম নিয়ে অনেক কথা হয়, আমি এমন কোনো অবস্থার মুখে পড়িনি।  এতো বড় শহরে, এতো রকম মানুষ, ফর্সা কালো, লম্বা বেটে, রোগা মোটা, কে যে কোথা থেকে বোঝা দায়। আরো আশ্চর্যের বিষয় ওখানে হালাল কার্ট-এ (চাকা লাগানো খাবারের গাড়ী, যেগুলো প্রধানত বাংলাদেশী বা পাকিস্থানীরা চালায়) পর্ক বিক্রি হয়। সেখানে ইউ.কে তে একটা বিশেষ ধর্মের মানুষ অনেক বেশি ধর্মীয় ভাবে রক্ষণশীল। এখানে আমরা ভাবতেই পারিনা, তারা পর্ক খাবে, এমনকি হালাল নয় এমন মাংস খাবে। তাছাড়া রাস্তাতে প্রচুর লোকজন দেখা যায় যারা ধর্মীয় পোশাক পরিধান করে, বিশেষত মেয়েরা। নিউইয়র্কে তেমন চোখে পড়েনি। 

নিউইয়র্কে যাওয়ার আগে বেশ ভয়ে ছিলাম, এত্ত ভীড় শুনেছি। গিয়ে কিন্তু কোনো অসুবিধা হয়নি। আর আমার যেটা সবচেয়ে ভালো লেগেছে, সেটা হলো রাস্তার পরিকল্পনা। পুরো শহরটা কাটাকুটি খেলার মতো লাইন টানা রাস্তায় বিভক্ত। সমান্তরালে চলে গেছে এভিনিউ আর এভিনিউগুলোকে আড়াআড়ি ভাবে কেটে কেটে চলে গেছে স্ট্রিট (বা উল্টো করেও বলা যায়)। কোনো জায়গার স্ট্রিট আর এভিনিউ নম্বর জানা থাকলে ঠিকই পৌঁছে যাওয়া যাবে, হয়তো উল্টো দিকে হেটে ফেললেন, এভিনিউ পাঁচের জায়গায় সাতে চলে চলে গেলেন, কুছ পরোয়া নেহি, ১৮০ ডিগ্ৰী ঘুরে যান, নাক বরাবর হাটতে থাকুন যে দিক থেকে এসেছিলেন সেদিকেই। শুধু খেয়াল রাখতে হবে, কোনদিকে স্ট্রিট বাড়ছে, আর কোনদিকে এভিনিউ নম্বর। ব্যস, যতই ভীড় হোক, আপনি হারাবেন না। জিপিএস কাজ করছিলো না ঠিকঠাক, তাই আমরা অনেকবার এই উল্টো দিকে যাওয়া আসা করেছি আর গন্তব্যে পৌঁছেও গেছি। 

ভালো লাগার মধ্যে আছে রুজভেল্ট আইল্যান্ড। এখানেই আমি থেকেছি তিন দিন। এটা ম্যানহাটনেরই অন্তর্গত, কিন্তু মূল শহর থেকে একটা আলাদা, নদীর মধ্যে একটা দ্বীপ। ছোট্ট সুন্দর, কোলাহল ভীড় থেকে দূরে অথচ একটা মেট্রো স্টপেজ পার করলেই মূলশহরে পৌঁছে যাওয়া যায়। ট্রামও চলে, সেটা বিশেষ করে এই দ্বীপের জন্যই। ট্রাম কিন্তু কলকাতা শহরের রাস্তা দিয়ে চলা ট্রাম নয়, এই ট্রাম চলে আকাশ দিয়ে। 



আকাশপথে ট্রাম আর নদীর মাঝে রুজভেল্ট আইল্যান্ড
(এই দুটো ছবি গুগল থেকে নেওয়া।)

একদিন সকালে আমি দ্বীপটা চক্কর কেটে আসলাম, ১৮৭২ সালে তৈরী একটা লাইটহাউস আছে দ্বীপের এক মাথায়, সেইটা দেখে আসলাম।  কিছুক্ষন নদীর ধরে বসলাম, মনটা উদাস হয়ে গেলো। শহর দেখতেই এসেছিলাম, কিন্তু সেই শহরের ভিড়ভাট্টায় দুদিনেই ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম, এই রুজভেল্ট আইল্যান্ড, নাটোরের বনলতা সেনের হয়ে দায়িত্ব পালন করলো। 



রুজভেল্ট আইল্যান্ড'স  লাইটহাউস

অনেক বড় লেখা হয়ে গেছে, এখানেও সকাল হয়ে গেছে প্রায়। ইউনিভার্সিটি যেতে হবে আজ এতদিন পরে। কাজেই আর অল্প একটু লিখে আর ছবি সেঁটে আজকের মতো শেষ করি আমার ব্লগ। 

শেষ করার আগে বলি কেন গেছিলাম ওদেশে। আমি আসলে গেছিলাম কনফারেন্স, প্রভিডেন্স নামে 
রোড আইল্যান্ড-এর  একটা শহরে, সেখানেই ছিলাম পাঁচ দিন। কাজেই দিন গুজরানের অনুপাত হিসাবে ওখানেই বেশিদিন ছিলাম, তাই সেই শহরটা নিয়েও কিছু বলা দরকার। খুব বেশি ঘুরতে পারিনি, প্রতিদিন এ সকাল সাতটা থেকে সন্ধ্যে সাতটা কনফারেন্স-এই কেটে গেছে। তাই তেমন ঘোরা হয়নি। তবে যেদিন সন্ধ্যেতে পৌঁছায় তার পরদিন সকালে শহরের প্রধান জায়গা গুলো ঘুরে নিয়েছিলাম, ব্রাজিল থেকে আসা একজনের সাথে। সেও আমার মতো কনফারেন্সে আসার জন্য স্পন্সরশীপ পেয়েছিলো, আর আমাদের একই ঘরে থাকতে দেওয়া হয়েছিল। সেও খুবই মিষ্টি, কিন্তু দুঃখের কথা, আমি যে তার বিষয়ে লিখলাম সে তো বুঝতেই পারবে না।

প্রভিডেন্স ছোট্ট শহর, ফাঁকা ফাঁকা, রাস্তায় মানুষজন নেই তেমন, শেফিল্ডের থেকেও শান্ত। অনেক পুরোনো শহর, ব্রিটিশরা এসে ঘাঁটি গেড়েছিল, তাই প্রভিডেন্স-এর আশেপাশের জায়গাগুলোর নামও ইউ.কের মতো।







প্রভিডেন্স

একটা সুন্দর ইউনিভার্সিটি আছে, সেটাও খুব পুরোনো, আর ক্যাম্পাসটা দারুন। দেখে দুঃখ হলো, আমার ইউনিভার্সিটি খুব বড় বটে, কিন্তু এমন ক্যাম্পাস নেই।



জনসন ও ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়

আর একটা বিষয়ে নিয়ে আমি খুবই উত্তেজিত (excited, not angry), সেটা হলো, প্রভিডেন্স-এর রোড আইল্যান্ড স্কুল অফ ডিজাইন মিউজিয়াম-এ গিয়ে, পাল বংশের বিষ্ণুমূর্তি দেখে। ইতিহাসের নিদর্শন কোথা থেকে কোথায় চলে গেছে। যে ভাবেই পৌঁছাক মূর্তিটা, বাঙলী মেয়ে ওদেশে না গেলে জানতেই পারতো না, অমন ছোট্ট শহরেও এই বাংলার একটা নিদর্শন আছে। 


পাল বংশের বিষ্ণুমূর্তি

বেশি লিখবো না ভেবেও অনেক বেশিই লিখে ফেললাম, জানিনা সবার পড়ার ধৈর্য থাকবে কিনা। 

আমার মাথায়তো এখন কথার পর কথা এসে যাচ্ছে। কিন্তু না, আর না। জে এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর কথা বলে শেষ করি। বিমানবন্দরটা মূল শহর থেকে একটু দূরে, প্রথমে মেট্রো, তারপর এয়ারট্রেনে করে যেতে হয়। এয়ারট্রেনটা বিমানবন্দরের বিভিন্ন টার্মিনালে পৌঁছে দেবার জন্যই, এত্ত বিশাল বিমানবন্দর যে ট্রেন লাগবেই, অবশ্য দুবাই-ও তাই। তবে দুবাই-তে বোধহয় কাউন্টারে গিয়ে চেক-ইন করতে হয়। এখানে দেখলাম নিজে নিজেই সব করতে হয়, অনেক কম্পিউটার রাখা আছে, পর পর প্রশ্নের উত্তর দাও, পাসপোর্ট স্ক্যান করাও, দেন প্রিন্ট করো বোর্ডিং পাস আর লাগেজ ট্যাগ, তারপর সেই ট্যাগটা লাগিয়ে ওজন করে লাগেজ তুলে দাও এয়ারলাইন্স-এর কাছে। মানে নিজের কাজ নিজে করো। 'আমার প্রবাসী জীবন' ব্লগেও আমি লিখেছিলাম, উন্নত দেশ মানে সবকিছু সহজে, তেমনটা নয়, উন্নত হওয়া মানে বোধহয় স্বাবলম্বী হওয়াকেই বোঝায়। 

ইউ.কেতে এখনো ঘরের কাজ মূলত মেয়েরা করে (৬৬%), তাই বিজ্ঞাপন দিচ্ছে, সবে মিলে করো কাজ। আর ভারতে, এখনো মেয়ে দেখতে গিয়ে ছেলে গর্বের সাথে বলছে, আরে, আমি ওসব কাজটাজ কিছু জানি না, কিন্তু বৌকে সব জানতেই হবে। 

সবশেষে আশা করি সবাই উন্নত হোক, স্বাবলম্বী হোক। আমাদের দেশ সম্পর্কে বাইরের লোকজনের অনেক ভুল ধারণা আছে, সেটা কনফারেন্সে গিয়ে আরো একবার জানলাম। সবাই মিলে দেশকে আরো সুন্দর করি, ইউ.কে/ইউ.এস কে অনুকরণ করে নয়, বরং তাদের ভালো দিকগুলো কে অনুসরণ করে। 

পরিশেষে আরো কিছু ছবি দিলাম।


আকাশ থেকে ইউ.এস 


প্রভিডেন্সের ওমনি হোটেল 


প্রভিডেন্স নদীর পাশে





প্রভিডেন্স-এর রোড আইল্যান্ড স্কুল অফ ডিজাইন মিউজিয়াম


স্ট্যাচু অফ লিবার্টি, নিউইয়র্ক 


ভিনসেন্ট ভ্যান গগের আঁকা 'দা স্টারি নাইট, The Starry Night (original), মিউজিয়াম অফ মডার্ন আর্ট, নিউইয়র্ক 


বাড়ীর কর্ত্রীর তৈরী সকালের সুস্বাদু জলখাবার, রুজভেল্ট আইল্যান্ড, নিউইয়র্ক




স্থানীয় সাপ্তাহিক বাজার (farmers' market), রুজভেল্ট আইল্যান্ড, নিউইয়র্ক


স্ট্যাচু অফ লিবার্টি যাওয়ার পথে ফেরী থেকে ম্যানহাটন 


ব্রায়ান্ট পার্কনিউইয়র্ক


বাংলা বাজার, জ্যাকসন হাইটস, নিউইয়র্ক


জ্যাকসন হাইটসের দোকানে ডাল, পাবদা মাছ আর ছোট মায়া মাছের ঝাল 


বাড়ীর কর্ত্রীর তৈরী পুষ্টিকর এবং স্বাদু রাতের খাবার, রুজভেল্ট আইল্যান্ড, নিউইয়র্ক


নতুন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার 


ধ্বংস হয়ে যাওয়া ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার দুটো এখন দুটি বিশাল জলাশয়/ঝর্ণা 

Wednesday, 26 April 2017

প্রবাহ ২

বড় অস্থির এ সময়
বোঝা দায়, কখন কি হয়।

চারিদিকে শুধু চিলচিৎকার
চোখ রাঙানী, রণহুংকার।

বিদ্ধেষ ভরা ক্রূঢ় দৃষ্টি
ধ্বংস করতে চায় এ সৃষ্টি।

ক্ষুব্ধ মানব বড় অধৈর্য্য
প্রমান করতে নিজ শৌর্য।

হীন শক্তি আয়ু অল্প
কিন্তু বানাতে যে হবেই গল্প। 

অলক্ষ্যেতে মহাকাল হাসে
সবই তো আছে, লেখা ইতিহাসে।

দম্ভে অন্ধ মানব হৃদয়
সে লেখনী আর দেখতে কি পায়?

নাতিদীর্ঘ এ আয়ুষ্কালে 
সবুর অসাধ্য সময়ের আকালে। 

আদতে অস্থির সময় তো নয়
নিজ নিয়মেই সে তো শুধু বয়।


প্রবাহ

সময় বড়ো দ্রুত বয়ে যাচ্ছে। আবার সময় কাটতেও চাইছে না। 

বড় দ্রুত, কেটে যাচ্ছে সময় 
চাইছি খুব, কিন্তু তাকে আটকানো দায়। 
অথচ, বিষন্ন এই বিকেলগুলো ক্রমশ দীর্ঘ হয়।

মনে হয় আবার করে পড়তে হবে আপেক্ষিকতা তত্ত্ব
ভালো করে বুঝতে হবে  সময়ের অর্থ। 

সময়, শুধু তো বয়েই যাচ্ছে, হারিয়ে যাচ্ছে পথের বাঁকে। 
নিজের মতো কাটিয়ে দিয়ে দিনগুলোকে,
লাভ কি হল, দোষ দিয়ে খালি সময়টাকে?

Tuesday, 18 April 2017

মহিষের স্নানযাত্রা by Sourav

ভাঙ্গা পথ পাশে খাল 
এই পথে চলাচল। 
ছুটিছে পিছনে মহিষ 
নাহিকো কোনো সহিস। 
বাড়াইয়া সাইকেলে গতি 
ছুটে চলি দ্রুত অতি।
করিয়া পগার পার
বোধদয় হয় আমার।
পাইছিলাম ভয় মিছে 
মহিষ আসে নাই পিছে।
খালে ব্যাটা দিয়েছে ঝাঁপ,
উফ্ফ! বাঁচিলাম, ছাড়িয়া হাঁফ।

Monday, 20 March 2017

জালিকাটটু: Faking News By Sourav

জালিকাটটু- সমর্থকদের জন্য সুখবর। তাদের ঐতিহাসিক প্রতিবাদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে পার্লামেন্টের সদস্যরা একত্রিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন যেন সমস্ত রাজ্য থেকে সমস্ত ষাঁড়কে তামিলনাড়ুতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। রাষ্ট্রপতির কাছেও এই মর্মে লিখিত আবেদন জমা দেয়া হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এই কর্মকান্ডের জন্য রেলমন্ত্রকের কাছে সাহায্য চাওয়া হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে রেলমন্ত্রক এই ব্যাপারে সম্মতিও জানিয়েছেন যে একদিন ভারতের সমস্ত তামিলনাডুগামী ট্রেনে ষাঁড়ই যাবে, মানুষ নয় এবং এই জন্য তামিলনাড়ুর মানুষের কাছ থেকে সহযোগিতা প্রার্থনা করা হয়েছে। তামিলনাড়ুর অধিকাংশ মানুষই অবশ্য এই ব্যাপারে অতি সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। ইতিমধ্যে 'BRING ALL BULLS TO TAMILNADU' ফেসবুককের  পেজটি সমর্থকদের 'LIKE , SHARE and COMMENTS' - ভরে গেছে। TWITTER-এর #bringallbullstotamilnadu-  TRENDING এই খবরের পর।

শুধুমাত্র দেশে নয়, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও জালিকাটটু নিয়ে এই প্রতিবাদ আলোড়ন ফেলেছে। পাকিস্তানও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। তারা এবার থেকে জঙ্গি অনুপ্রবেশ বন্ধ করে ষাঁড়-প্রবেশ করাবে বলে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে জানিয়েছে। যদিও এই ব্যাপারে ভারতীয় সেনা বাহিনী খুব একটা নিশ্চন্ত হতে পারছে না। গোপনসূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী পাকিস্তান নাকি ভারতে পাঠানোর আগে ষাঁড়গুলোকে আইসিস এবং আলকায়দা জঙ্গিদের দিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। আমেরিকার গোয়েন্দাদপ্তর এই বিষয়ে ভারতকে আগাম সতর্কবার্তা জানিয়েছে।

তবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীকে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছেন। ষাঁড়গুলোকে তামিলনাড়ু পাঠানোর আগে উনি দলের কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে সবাইকে একত্রিত করে ময়দানে আনা হয় এবং উনি তাদের উদেশ্যে ভাষণ দেবেন বলে সরকারি সূত্রে খবর। দলের মুখপাত্র জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর চান আমাদের বাংলার মুখ যেন উজ্জ্বল হয় এবং সেটা পুরোটাই এখন ষাঁড়দের হাতে। বাংলার সম্মান এবং ঐতিহ্যের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী আপোষ করতে চান না, তাই উত্তরবঙ্গ সফরের থেকে একদিন উনি বাতিল করে ময়দানে ভাষণ দেবেন ষাঁড়দেরকে অনুপ্রাণিত করার জন্য।

প্রসঙ্গত উলেখ্য, ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি এবং কেজরিওয়ালের আমি আদমি পার্টি এই আবেদনের বিপক্ষে গিয়ে আন্দোলন শুরু করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। দুই পার্টি- বক্তব্য যদিও এক নয়। কেজরিওয়ালের মতে শুধুমাত্র ষাঁড়েদের 'free rides' পাওয়া অন্য পশুপাখিদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের সামিল। তারাই বা কেন বঞ্চিত হবে, সেই জন্যে উনি আগামী সোমবার যন্তরমন্তরের সামনে গরু ছাগল মোষ নিয়ে ধর্নায় বসবেন বলে twitter- জানিয়েছেন। ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টিও 'SEND ALL BULLS TO TAMILNADU'- বিরুদ্ধে, তবে তাদের দাবীটা আলাদা। পশ্চিমবঙ্গের কমিউনিস্ট পার্টি- সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন যে, মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণের দিন ওনারা ময়দানে উপস্থিত হয়ে লাল ঝান্ডা নিয়ে প্রতিবাদ জানাবেন। কারণ তারা মনে করেন ষাঁড়দের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে অন্য রাজ্যে স্থানান্তরিত করা দাসত্বপ্রথারই সমতুল।
কমিউনিস্ট পার্টি জন্মলঙ্গ থেকে শ্রমজীবীদের তথা দাসেদের জন্য লড়েছেন আর আজ যখন ষাঁড়েদের এই করুন অবস্থা, তারা কিছুতেই মুখ্যমন্ত্রীর পুলিশের ভয়ে চুপ থাকবেন না, অন্যায়ের প্রতিবাদ তারা জানাবেনই।

যাদের নিয়ে দেশ উত্তাল, সেই ষাঁড়েদের বক্তব্য জানার জন্য আমাদের প্রতিনিধিরা মাঠে ঘাটে গোয়ালে ছুটে গেছেন। কিন্তু প্রিয় পাঠক, দুঃখের সাথে জানাচ্ছি আমরা এখনো পর্যন্ত তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পায়নি। আমাদের প্রতিনিধিদের ক্যামেরা মাইক দেখে ষাঁড়েরা অত্যন্ত বিরক্ত হয়ে গুঁতোতে এসেছেন, এখনো পর্যন্ত প্রাণহানির কোনো খবর নেই কিন্তু আমাদের তিনজন প্রতিনিধি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তবে দলে দলে আমাদের প্রতিনিধিরা ষাঁড়েদের প্রতিক্রিয়া পাওয়ার জন্য প্রাণের ঝুঁকি অগ্রাহ্য করে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছেন। সঙ্গে থাকুন, আমরাই আপনাদের কাছে এই বিষয়ে সমস্ত খবর সবার আগে পৌঁছে দেব।
বিঃদ্রঃ জালিকাটটু- এক উগ্র সমর্থক আশা প্রকাশ করেছেন যে সমস্ত দেশ থেকে ষাঁড়েদের আগমন হলে তামিলনাড়ুর ষাঁড়েদের মধ্যেও প্রতিযোগিতাসুলভ মানসিকতা গড়ে উঠবে এবং তারা আরো বেশি উৎসাহিত হবে এই খেলায় অংশগ্রহণ করতে। এবং এই আগমনের ফলস্বরূপ পরবর্তীতে তামিলনাড়ুতে ষাঁড়ের উৎপাদনও বেড়ে যাবে

তবে এর বিপরীত মতও আছে। কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, অতিরিক্ত ষাঁড়ের প্রবেশের ফলে খেলার রাশ মানুষের বদলে ষাঁড়েদের হাতে না চলে যায়।

Thursday, 19 January 2017

তামিলনাড়ু, ভাঙড়, সোদপুর ও নাদাবপাড়া : অযৌক্তিক অসন্তোষ এবং উন্মত্ত বহিঃপ্রকাশ

তামিলনাড়ু, ভাঙড়, সোদপুর বা অতটা না আলোচিত নাদাবপাড়া। সর্বত্রই এক ঘটনা। অযৌক্তিক অসন্তোষ এবং তার উন্মত্ত বহিঃপ্রকাশ।

সোদপুরে একজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে ট্রেনের ধাক্কায়, যেকোনো মৃত্যুই বেদনার এবং মৃতের পরিবারের প্রতি আমি সহানুভূতিশীল। কিন্তু কথাটা হচ্ছে এতে ট্রেনের কোনো দোষ ছিল না (ঘোষণায় ছিল ), ট্রেনের চালক রেল লাইন ধরেই ট্রেন চালাচ্ছিলেন। সালমান খানের গাড়ির মতো ট্রেন নিজের রাস্তা ছেড়ে ফুটপাথে উঠে আসেনি। অবশ্য এই দুর্ঘটনার পরবর্তীতে জনসাধারণের কার্যকলাপ দেখে মনে হচ্ছে, ট্রেন যদি সত্যিই এটটু কষ্ট করে 'সাইড' দিতো তাহলেই আর এই দুর্ঘটনা ঘটতো না। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে, ট্রেন নিজের ট্র্যাক ছাড়া চলতে পারেনা। আমরা সবাই জানি সেটা, জেনেও ব্যস্ত রেল লাইন পার করতে থাকি রোজ রোজ (আমি নিজে করিনা মোটেই, কিন্তু আমি তর্কের খাতিরে সেই জনতার মধ্যেই নিজেকে অন্তর্ভুক্ত করলাম) শুধু মাত্র কিছু সময় বাঁচানোর জন্য। আর আমাদের সেই রেল লাইন ধরে যাতায়াতের জন্য লোকাল ট্রেনগুলো ধীরে চলে গন্তব্যে দেরীতে পৌঁছালে, সেই আমরাই আবার রেলদপ্তরের কর্মীদের আলস্যের সমালোচনায় মুখরিত হই।

আসলে আমাদের দাবিটা যে কি সেটা নিজেরাই ঠিক করে উঠতে পারিনি। পারবো বলেও মনে হয়না।

টাটার ন্যানো পশ্চিমবঙ্গ থেকে চলে গেছে। তাতে যে আমাদের রাজ্যের কিছু লাভ হয়েছে, এই ক'বছরে আমার তো সেটা মনে হয় নি। আমি ভেবেছিলাম বাকি সবারই একই মতামত। কিন্তু ভাঙড়ের ঘটনা আমায় সেই সিঙ্গুরের কথাই মনে করিয়ে দিলো। এখানে অবশ্য বিপুল পরিমান জমি দরকার হয়নি, তা সত্ত্বেও জনতার বিক্ষোভের আগুন সিঙ্গুরের থেকে কিছু কম বলে মনে হলো না। কিছু পেতে গেলে কিছু ছাড়তে হবে। সিঙ্গুরের ক্ষেত্রে এই কথাটা যদিও খাটে, এক্ষেত্রে তো লাভ ছাড়া লোকশান কিছু ছিল না। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার কয়েক লক্ষ মানুষ উপকৃত হতো যদি এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত করা যেত।
কলকাতা থেকে আমার বাড়ি যাওয়ার পথে দিগন্ত ব্যাপী চাষের জমি দেখা যায় আর দেখা যায় সেই জমিগুলোর উপর দাঁড়িয়ে থাকা আকাশ ছোঁয়া, অনেক অনেক ইলেকট্রিক ট্রান্সমিশন টাওয়ার। আবার সেই জমিতে সারাবছর ধরেই তাতে নানারকম ঢেউ খেলানো ফসলও দেখতে পাই।
যদিও আমি সীমিত জ্ঞানের অধিকারী, তা সত্ত্বেও আমার এই চাক্ষুশ অভিজ্ঞতা থেকে আমার মনে হয়, অনেক উঁচু দিয়ে হাইটেনশন বিদ্যুতের লাইন গেলে, চাষবাসের বিশেষ কোনো ক্ষতি হয় না।

কিন্তু ভাঙড়ের মানুষকে কে বোঝাবে, যাদের বোঝানোর দরকার ছিল তারা ক্ষমতালোভী। সিংহাসন বড্ডো প্রিয় তাদের।ক্ষুদ্র স্বার্থের সামনে বৃহত্তর জনস্বার্থের মূল্য  তাদের কাছে নেই। কাজেই যুক্তি দিয়ে বোঝানোর বদলে সান্তনা দিয়ে প্রশ্রয় দেওয়াই দস্তুর হয়ে দাঁড়িয়েছে এ রাজ্যে।

শুধু এ রাজ্য কেন, তামিলনাড়ুতেও তো সিংহাসনপ্রিয় শাসকদল উন্মত্ত জনতাকে নিরস্ত্র করার বদলে তাদের অযৌক্তিক দাবীকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। ঐতিহ্য এবং প্রথা এই দুটো শব্দের মধ্যে আকাশ পাতাল পার্থক্য, এই সহজ বিষয়টা কেউ বুঝতে না পারলে শাসকের কর্তব্য সেটা বুঝিয়ে দেয়া।

কেরালাতে একটা প্রথা ছিল, নিচুজাতের নারীরা স্তন আচ্ছাদিত করে রাখতে পারবে না, যে রাখবে তাকে চড়া রাজকর দিতে হবে। এই প্রথাটাও তো অনেকদিন ধরে চালু ছিল। কিন্তু তাই বলে কি একে ঐতিহ্য বলা যায় ? এতো এক কলঙ্ক, সমাজের একদল মানুষের প্রতি তথাকথিত উচ্চবর্ণের মানুষের বৈষম্যতার দলিল। ঠিক তেমনই জাল্লিকাটটু-ও পশুর প্রতি মানুষের অহেতুক অত্যাচারের প্রতিচ্ছবি। অহেতুক বললাম, কারণ উদরপূর্তির জন্য আমরা মাছ মাংস রোজ খায়, কিন্তু এক্ষেত্রে তিল তিল করে কষ্ট দেয়া হয় একটা ষাঁড়কে। ষাঁড়তো তাও মনুষ্যেতর প্রাণী, তার কষ্ট ছেড়েই দিলাম। কিন্তু কিছু মানুষও  তো এই খেলায় অংশ নিয়ে মারা যায় এবং জখম হয় আরো বেশি। শুধু শুধু ঐতিহ্য বলে এমন প্রথাকে বাঁচিয়ে রাখা কি শুভবুদ্ধির পরিচয়?

কিন্তু 'শুভবুদ্ধি শুভবুদ্ধি' বলে আমি একা চেঁচিয়ে কি করবো? শুভবুদ্ধির কি সত্যিই কি কোনো মূল্য আছে? শুভবুদ্ধি তো শুধুই বিপদ ডেকে আনে। যেমন ডেকে এনেছে বিউটির জীবনে।
নাদাবপাড়া গ্রামের এই কিশোরী মেয়েটি বিয়েবাড়ি গেছিলো বৌ দেখতে। দেখেই তার মনে হয়েছে নববধূ নাবালিকা। সরকারি প্রচারের সৌজন্যে সে জানতো নাবালিকার বিয়ে দেয়া আইনত অপরাধ। সেই শুভবুদ্ধি কাজে লাগিয়ে প্রতিবাদ করতেই তার কপালে জুটেছে চড়-থাপ্পড় মার আর পুলিশের খাতায় নালিশ (সৌজন্যে: গ্রামের মোড়োল )। কারণ শুভবুদ্ধির থেকে শুভবিবাহ গুরুত্বপূর্ন, যতই সেটা বেআইনী হোক।

সত্যি সেলুকাস কি বিচিত্র এই দেশ।

পরিশেষে, একটা প্রশ্ন আমার বাঙালী পাঠকদের কাছে। বাঙালীরা তো নিজেদেরকে সংবেদনশীল বলে  দাবী করে, তাই  আশা করি অনেকেই এই জালিকাটটুর বিপক্ষে। কিন্তু কখনো দুর্গাপুজো নিয়ে এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হলে তারা কি করবেন?

দুর্গাপুজোর জন্য বারবনিতার প্রাঙ্গনের মাটি লাগে। হয়তো কোনোদিন এমন হলো যে বেশ্যাবৃত্তিটাই বিলুপ্ত হয়ে গেলো (অলীক কল্পনা যদিও, তবুও ধরলাম ) । বাঙালি তখন কি করবে ? উন্মত্ত আবেগে অন্ধ হয়ে, কাউকে বানাবে আম্রপালী ? ঐতিহ্য রক্ষা নাকি নারীর স্ব-ইচ্ছার মর্যাদা, কোনটাকে দেবে গুরুত্ব ?




কৃতজ্ঞতাস্বীকার: আজকের লেখাটা আমার থেকে বেশী আমার বন্ধুর অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ।
তাই লেখার অনুপ্রেরণা - সৌরভ বিশ্বাসের ক্ষোভ। 😡


বিঃদ্রঃ সবাই নিশ্চয়  বৈশালীর নগরনটী  আম্রপালীর কথা পড়েছেন, গৌতম বুদ্ধ সংক্রান্ত রচনায়। কিন্তু যদি মনে না থাকে, তাই মনে করিয়ে দিই,  আম্রপালী নিজ ইচ্ছায় নগরনটী হননি, রাজার আদেশ তাঁকে বাধ্য করেছিল। অতিসুন্দরী আম্রপালীর রূপে মুগ্ধ ছিল বণিক থেকে রাজপুত্র সকলেই। তাই রাজার আদেশে, তাঁকে সকলের হতে হয়।

Saturday, 31 December 2016

ঘুমহীন রাতের পাঁচালী

ভাবলাম, ভালো মন্দ মিশিয়ে বছরটা কেটে যাবে, কিন্তু তা নয়। বছর শেষে আমি ঘুমাতে পারছিনা, সেই ঘুম যা আমার অত্যন্ত প্রিয় এবং পরম আপন। ঘুমাতে যাওয়ার জন্য ঘরের আলো নিভিয়ে দিলেই ভয়ে হৃদয় স্পন্দন এতো বেড়ে যাচ্ছে, সেই শব্দ শুনেই আমি ভয়ে পাগল হয়ে যাচ্ছি। আমি মোটেই মজা করছিনা, সত্যি সত্যিই ভূতের ভয়ে আমি যারপরনাই সন্ত্রস্ত এবং ভীত। না, ভূত আমায় ভয় দেখাচ্ছে না কিন্তু আমি ভয় পাচ্ছি ভূতকে নিজে থেকে ভেবে ভেবেই। এ হলো সুস্থ শরীর নিজে নিজে ব্যস্ত করা, যা নেই তাকে ভেবে অযথাই নিজের উপর নির্যাতন করা। কিন্তু করবোটাই বা কি ? নিজের ইচ্ছেই এই সব ভয় আমি ডেকে আনিনি। সব নষ্টের মূল, ২৫শে ডিসেম্বরের রাত। সেদিন বন্ধুবৎসল হওয়ার ফলে আমায় বসে বসে 'কনজুরিং ২' দেখতে হয়েছে। এবং সেটা দেখতে হচ্ছে বলে, আমি পুরোটা সময়ই নিজের মোবাইলের দিকে তাকিয়ে ছিলাম, আর আমাকে জোর করা হচ্ছে বলে আমি একটু রূঢ় ব্যবহার-ও করেছিলাম। এখন মনে হচ্ছে, আরো একটু  রূঢ় হয়ে সেই ঘরে বসে না থাকলেই হতো। কারণ যারা আমায় জোর করেছিল, তারা তো নিজের নিজের ঘরে ঘুমাচ্ছে, আমি দুর্বল হৃদয় মানুষ, একা জেগে বসে আছি।

জেগে বসে থাকতে আপত্তি ছিল না, কিন্তু আমার প্রিয় ঘুম আমি ঘুমাতে পারছিনা। সেই দুঃখে আমি ভয়ানক কাতর। মনে হয় নতুন বছরের কিছুটা সময় আমি জেগেই কাটাবো। মজার বিষয় হলো, আমি আবার নাকি নাস্তিক, যে ভূত বা ভগবান কাউকেই বিশ্বাস করে না। ছোটবেলায় যখন বুঝতাম না ভগবান কি, তখন পরীক্ষা দিতে যাওয়ার আগে ভগবানকে ডাকার কোনো প্রশ্ন ছিল না আর যখন বুঝতে শিখলাম তখন তো আরোই প্রশ্ন নেই। আমি জানি নিজের কাজ নিজেকেই করতে হয়, ভগবান তেমন সাহায্য টাহায্য করেন না। কাজেই, আমার এই ভূতের ভয় কাটাতে আমি ভগবানকেও ডাকতে পারছিনা। এই হচ্ছে উভয় সংকট। আর এই উভয় সংকটের জ্বালায় আমার ঘুমটাই মাটি। এমন ঘুম মাটি আমার M.Sc তে পড়ার সময় হয়েছিল। এক বন্ধু রাতের ট্রেনে বাড়ি যেতে যেতে একটা ragging-এর গল্প শুনিয়েছিল। কি আশ্চর্য, লিখতে লিখতেই মনে পড়লো সেটাও এক ডিসেম্বর ছিল, একটা সেমিস্টার শেষ হওয়ার পর আমরা বাড়ি যাচ্ছিলাম ট্রেনে করে।
বাড়িতে পৌঁছে কোনো অসুবিধা হয়নি রাতে ঘুমাতে, মায়ের আদরে ঘুমাতাম। কিন্তু হোস্টেলে ফিরে এসে ২ মাস রাতে আলো জ্বালিয়ে ঘুমাতাম। আলো জ্বালালে আমার ঘুম ঠিক মতো হয় না, হতোও  না, এখনো হচ্ছে না।
সবার কৌতুক আরো বাড়িয়ে জানায়, সেই ragging-এর গল্পে কোনো ভূতের চিহ্ন মাত্র ছিল না, আর কদিন আগে আড়চোখে দেখা সিনেমাতেও আমি ভূতটিকে ভালোভাবে দেখিনি। কিন্তু আমার কল্পনাশক্তি এতোই সক্রিয় যে, ভয়ানক কিছু কল্পনা করে নেয়া আমার মস্তিষ্কের পক্ষে কঠিন কিছুনা।
আমার মস্তিস্ক কল্পনা করছে, আর আমি চোখ বুঝলেই ভয়ানক ভূত দেখছি। সেই ভয়ে, না আমি চোখ বন্ধ করতে পারছি, না আমি আলো নেভাতে পারছি, না আমি ঘুমাতে পারছি।

তাই, ২০১৬ সালের কাছে শেষ অনুরোধ, যা যা ভেবেছিলাম, পড়াশুনো গবেষণা সংক্রান্ত, কিছুই তো পূরণ করতে দিলে না, তার আগেই দৌড়ে পালিয়ে গেলে, please আমার ঘুমটা কেড়ে নিয়ে যেও না। 😖

নতুন বছর সবার ভালো কাটুক এই প্রার্থনা করি, সেই সাথে আমিও যেন ভালো করে ঘুমাতে পারি। বিশ্বাস করুন বন্ধুগণ, আমার প্রিয় ঘুমকে হারিয়ে বড্ডো মনোকষ্টে আছি।

Note: So moral of today's story is: খুব বেশি ভালোবাসা, ভাবার মতো খুব বেশি কল্পনা করাও ভালো নয়।  Little extra of these make life difficult. 😟😞

Saturday, 24 December 2016

My positive inputs to make your holiday a happy one

Another year is coming to the end. Like many other people, I also could not complete the tasks of the 'to do' list, I had thought of doing.
But that's natural, it always happens to me. Although I am used to, still it hurts sometime.
I am not that big dreamer so my lists are full of small steps which I want to ride. May be that's why it hurts more because I feel, 'if I would try I could achieve that. I didn't try enough.' This self judgement forces me to think, I am worth of nothing.

And after reaching this point, I start to think just in the opposite way.
I start to think, new year will be far better, not only for me but for the whole world. In spite of knowing that there will be hardly any change.

Then why do I think in that way? Because positive thinking helps me to breathe,  it helps me to believe in myself.

In this cruel world, fairy tales can't be happened but I still love to believe in that. Because thinking in that way helps me to live in peace.

It's hard to stay strong and it hurts a lot to act like a strong person when you know you are actually not.
But living a life of a weak person does not help me.
What I have understood so far is that, we, human, are selfish. We want ourselves to be happy, we want to protect ourselves from upcoming pain and suffering.
My way of protecting myself is 'be positive, stay positive.'

The people who are full of negative thoughts, they are also trying to protect themselves from being hurt.
Consider a guy who thinks perfect love is a myth, is absolutely correct although but deep inside he is not bothered about what is right or wrong. He did not meet a girl who was perfect and he will never do so because no perfect one is out there. However, by telling himself all those unsuccessful love stories, he controls his mind and tries to train it not to expect perfect love.
There is nothing wrong with that upto this point. But it could go wrong if more and more harsh true facts start to capture his mind and he forgets to see the little bit of positivity of life still remaining.
Then he will need a psychiatrist to help him.

And this is the reason why I believe in fairy tales, this is why I love to watch Disney movies. They do the same things what psychiatrist does to that guy. And I don't want to fall in love with psychiatrist like Alia did in 'Dear Zindegi' (if it is Shahrukh khan with that look I may).
So I will better stick with my Disney world.

It's good to know the real facts, it's good to be aware of all the negative possibilities but it's harmful to be controlled by those negative thinking.

After all that will not help us.

So, enjoy the upcoming holidays, try to think that some good things will certainly happen in this new year. I am also trying to think and that is why I have written a big essay about an imaginary guy just because I want to convince myself, hopes never die, it can't be.
And Moana will certainly be successful to convince Maui to give back the heart of Te fiti.


Monday, 5 December 2016

স্বগতোক্তি

প্রতিদিন কত কথা ভাবি, কতজনের সাথে কত বিষয়ে কথা বলি, বলতে বলতে মাথায় শব্দরা খেলা করে, মনে হয়, বাহ্, এই তো বেশ কবিতা কবিতা ভাব আসলো, এইটাকে এখন ডাইরিতে(Blog-এ) লিখে ফেললেই কেল্লাফতে। কিন্তু কথা বলতে বলতে শব্দগুলো হারিয়ে যায় আবার। পরে চেষ্টা করলেও মনে করতে পারিনা। তবুও মায়ের মতো কিংবা মল্লিকা সেনগুপ্তের মতো ভাবি, 'নাহ্, আজ একটা কবিতা লিখতেই হবে', শব্দগুলো হারিয়ে যাচ্ছে দ্রুত।

অনেকদিন আগে এক বন্ধুকে কথা দিয়েছিলাম তার প্রেম নিয়ে কবিতা লিখবো, সে হয়তো ভুলে গেছে, কিন্তু আমি ভুলিনি, মাঝে মধ্যেই মনে হয়, ইশ্, কথা দিয়েছিলাম, কথা রাখা হলো না। আর কিছু সময় হয়, ঠিক যে বিষয়ে ভাবছি, দেখি অজস্র শত শত লেখা সেই কবেই লেখা হয়ে গেছে। তখন মনে হয়, ঠিক এমনই তো ভাবছিলুম, তাহলে আর লিখে কি হবে। দিন দুই চার আগে আগে এক বান্ধবীর সাথে বিবাহ প্রসঙ্গে কথা হচ্ছিলো, সেই থেকে সতীত্ব, কৌমার্য এই সব নিয়ে গম্ভীর আলোচনা হলো। ভাবলাম বেশ তো, লিখে ফেলা যাক কিছু। ওমা, ইউটিউব খুলে দেখি তাসলিমা নাসরিন কবেই পাঠ করে রেখেছেন আমার ভাবনাগুলো।

আর ইদানীংকালের সবচেয়ে আলোচ্য বিষয় demonetization, কিন্তু তা নিয়ে আর কি কিছু বলতে বাকি আছে? আর থাকলেও বা, আমি আর বুঝি কত?

নতুন নতুন scientific discovery আমাকে বেশ আকর্ষণ করে, সব যে বুঝি তা নয়, কিন্তু বোঝার চেষ্টা করি আর বুঝতে পারলে সেই জ্ঞান বিতরণ করি মুক্ত হস্তে, কবি বলে গিয়েছেন, জ্ঞানদান করলে জ্ঞান বাড়ে।
কিন্তু demonetization-এর পর, ব্যাঙ্কের লাইনেই সবার দিন কেটে যাচ্ছে, কে আর আমার কাছ থেকে জ্ঞান নিতে চাইবে? পেটে ভাত পড়লে তবে তো জ্ঞানার্জনের প্রসঙ্গ। ওহ হ্যাঁ, ভাতের কথায় মনে পড়লো, demonetization-এর ফলে কৃষকরা বীজ কিনতে পারছেননা। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে, ভাত না হোক, অন্য শস্যের জন্য আমজনতার কপালে ভাঁজ পড়তেই পারে।

লেখার আরো বিষয় ছিল, যার মধ্যে একটি বিষয় নিয়ে এই মুহূর্তে বাংলাতে বেশ আলোড়ন উঠেছে, infant trafficking, কিন্তু বিষয়টা এতই ধূসর যে এই নিয়ে লিখতে বসলে মন আরো খারাপ হয়ে যাবে। এমনিতেই বিলেতে শীতের দিন ভীষণ বিষণ্ণ, সূর্যের দেখা পাওয়া দুষ্কর, মন এমনিতেই দুঃখী দুঃখী, তাই এই বিষয়ে বেশি কিছু ভাবতে বা লিখতে ইচ্ছে করলো না।

তবে, infant trafficking-এর সাথে সাথে আরো একটা জিনিস জানা গেলো, গ্রামে গঞ্জে শহরে এখন কন্যাভ্রূণ হত্যা একেবারে জলভাত। বিষয়টা অজানা কারো নয়, তবে খবরগুলো আরো ভালো করে চোখে আঙ্গুল দিয়ে জানিয়ে গেলো। আর সাথে সাথে আমার মনে যে অল্প এটটুসখানি ধন্দ ছিল, কেন এতো লাঞ্ছিত হতে হয় মেয়েদের সর্বত্র, সেইটা কেটে গেছে। আরে বাবা, যারা জন্মের আগেই অনাকাঙ্খিত, জন্মের পর সমানাধিকার, সম্মান পাওয়ার এমনকি বেঁচে থাকার অধিকারও তাদের থাকতে পারেনা। কাজেই এই সমাজে ধর্ষণ বধূহত্যা অত্যন্ত স্বাভাবিক আর তাই আমি ঠিক করেছি, এই বিষয়ে অতিকথন তো দূর, স্বল্প কথনও আর করবো না (মোটামুটি ভাবে এটাই ঠিক করেছি, শপথ যদিও নিইনি)।

আপাতত পড়াশুনা সংক্রান্ত অনেক কিছু লেখার আছে। পাশ্চাত্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এই ব্যাপারে খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ, অনেক অনেক research session-এর বন্দোবস্ত করে 'how to write'-এর উপর। তাতে যে আহামরি কিছু লাভ হয়, আমার তো মনে হয় না, বরং সমস্ত session গুলো attain করার পর আমি বরং বেশিই ঘাবড়ে যায়। যাওবা ভেবেছিলুম লিখবো, তাও আর লিখে উঠতে পারিনা।
এই একটু আগেই একটা session attain করে আসলাম। ভালোই চলছিল প্রথমে, instructor (উপদেশক) বললেন, 'লিখতে গেলে পড়তে হবে আরো বেশি', জানা কথা। এবার শেষে এসে উনি বললেন, 'তুমি যদি তোমার পরীক্ষককে বোঝাতে না পারো, তোমার কাজটা একেবারে নতুন (it's an original work, not blindly copied from someone), তাহলে তোমায় বাড়ি ফিরতে হবে খালি হাতে। ডক্টর হওয়ার আশায় বালি।' শুনে টুনে আমার 'Dilwa Beating Fast Sasura' । আর তাই আমার fast dil কে বাগে আনার জন্য মনে হলো কিছু লিখে ফেলা জরুরি, পড়াশুনো হোক বা না পড়াশুনা।

অগত্যা কিছু লিখে ফেলার তাগিদে কিছুটা স্বগতোক্তিই করলাম আজ।


Note: লেখার কথা মনে পড়লে আমার মতো যাদের 'দিল ধড়াকনে লাগে' তাদের নাকি Pat Thomson-এর blog পড়া উচিত, এটাও instructor-ই বললেন। আর এই কারণেই আমি ক্লাসগুলোতে যাই, কাজের কাজ না হলেও অন্য অনেক অন্য রকম তথ্য জানা যায়, দেশে থাকতে যে সুযোগগুলো আমার ছিলোনা।
https://patthomson.net/

ভোটের বাজারে বা বাজারে ভোট!

আজ বাজারে বেড়িয়ে এনার সাথে দেখা হলো। হাস্যমুখে ঘুরে বেড়াচ্ছেন দলের সাথে। বাজারের মধ্যে একজন আওয়াজ দিলো, কে vote দেবে CPIM কে...