Monday, 5 December 2016

স্বগতোক্তি

প্রতিদিন কত কথা ভাবি, কতজনের সাথে কত বিষয়ে কথা বলি, বলতে বলতে মাথায় শব্দরা খেলা করে, মনে হয়, বাহ্, এই তো বেশ কবিতা কবিতা ভাব আসলো, এইটাকে এখন ডাইরিতে(Blog-এ) লিখে ফেললেই কেল্লাফতে। কিন্তু কথা বলতে বলতে শব্দগুলো হারিয়ে যায় আবার। পরে চেষ্টা করলেও মনে করতে পারিনা। তবুও মায়ের মতো কিংবা মল্লিকা সেনগুপ্তের মতো ভাবি, 'নাহ্, আজ একটা কবিতা লিখতেই হবে', শব্দগুলো হারিয়ে যাচ্ছে দ্রুত।

অনেকদিন আগে এক বন্ধুকে কথা দিয়েছিলাম তার প্রেম নিয়ে কবিতা লিখবো, সে হয়তো ভুলে গেছে, কিন্তু আমি ভুলিনি, মাঝে মধ্যেই মনে হয়, ইশ্, কথা দিয়েছিলাম, কথা রাখা হলো না। আর কিছু সময় হয়, ঠিক যে বিষয়ে ভাবছি, দেখি অজস্র শত শত লেখা সেই কবেই লেখা হয়ে গেছে। তখন মনে হয়, ঠিক এমনই তো ভাবছিলুম, তাহলে আর লিখে কি হবে। দিন দুই চার আগে আগে এক বান্ধবীর সাথে বিবাহ প্রসঙ্গে কথা হচ্ছিলো, সেই থেকে সতীত্ব, কৌমার্য এই সব নিয়ে গম্ভীর আলোচনা হলো। ভাবলাম বেশ তো, লিখে ফেলা যাক কিছু। ওমা, ইউটিউব খুলে দেখি তাসলিমা নাসরিন কবেই পাঠ করে রেখেছেন আমার ভাবনাগুলো।

আর ইদানীংকালের সবচেয়ে আলোচ্য বিষয় demonetization, কিন্তু তা নিয়ে আর কি কিছু বলতে বাকি আছে? আর থাকলেও বা, আমি আর বুঝি কত?

নতুন নতুন scientific discovery আমাকে বেশ আকর্ষণ করে, সব যে বুঝি তা নয়, কিন্তু বোঝার চেষ্টা করি আর বুঝতে পারলে সেই জ্ঞান বিতরণ করি মুক্ত হস্তে, কবি বলে গিয়েছেন, জ্ঞানদান করলে জ্ঞান বাড়ে।
কিন্তু demonetization-এর পর, ব্যাঙ্কের লাইনেই সবার দিন কেটে যাচ্ছে, কে আর আমার কাছ থেকে জ্ঞান নিতে চাইবে? পেটে ভাত পড়লে তবে তো জ্ঞানার্জনের প্রসঙ্গ। ওহ হ্যাঁ, ভাতের কথায় মনে পড়লো, demonetization-এর ফলে কৃষকরা বীজ কিনতে পারছেননা। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে, ভাত না হোক, অন্য শস্যের জন্য আমজনতার কপালে ভাঁজ পড়তেই পারে।

লেখার আরো বিষয় ছিল, যার মধ্যে একটি বিষয় নিয়ে এই মুহূর্তে বাংলাতে বেশ আলোড়ন উঠেছে, infant trafficking, কিন্তু বিষয়টা এতই ধূসর যে এই নিয়ে লিখতে বসলে মন আরো খারাপ হয়ে যাবে। এমনিতেই বিলেতে শীতের দিন ভীষণ বিষণ্ণ, সূর্যের দেখা পাওয়া দুষ্কর, মন এমনিতেই দুঃখী দুঃখী, তাই এই বিষয়ে বেশি কিছু ভাবতে বা লিখতে ইচ্ছে করলো না।

তবে, infant trafficking-এর সাথে সাথে আরো একটা জিনিস জানা গেলো, গ্রামে গঞ্জে শহরে এখন কন্যাভ্রূণ হত্যা একেবারে জলভাত। বিষয়টা অজানা কারো নয়, তবে খবরগুলো আরো ভালো করে চোখে আঙ্গুল দিয়ে জানিয়ে গেলো। আর সাথে সাথে আমার মনে যে অল্প এটটুসখানি ধন্দ ছিল, কেন এতো লাঞ্ছিত হতে হয় মেয়েদের সর্বত্র, সেইটা কেটে গেছে। আরে বাবা, যারা জন্মের আগেই অনাকাঙ্খিত, জন্মের পর সমানাধিকার, সম্মান পাওয়ার এমনকি বেঁচে থাকার অধিকারও তাদের থাকতে পারেনা। কাজেই এই সমাজে ধর্ষণ বধূহত্যা অত্যন্ত স্বাভাবিক আর তাই আমি ঠিক করেছি, এই বিষয়ে অতিকথন তো দূর, স্বল্প কথনও আর করবো না (মোটামুটি ভাবে এটাই ঠিক করেছি, শপথ যদিও নিইনি)।

আপাতত পড়াশুনা সংক্রান্ত অনেক কিছু লেখার আছে। পাশ্চাত্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এই ব্যাপারে খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ, অনেক অনেক research session-এর বন্দোবস্ত করে 'how to write'-এর উপর। তাতে যে আহামরি কিছু লাভ হয়, আমার তো মনে হয় না, বরং সমস্ত session গুলো attain করার পর আমি বরং বেশিই ঘাবড়ে যায়। যাওবা ভেবেছিলুম লিখবো, তাও আর লিখে উঠতে পারিনা।
এই একটু আগেই একটা session attain করে আসলাম। ভালোই চলছিল প্রথমে, instructor (উপদেশক) বললেন, 'লিখতে গেলে পড়তে হবে আরো বেশি', জানা কথা। এবার শেষে এসে উনি বললেন, 'তুমি যদি তোমার পরীক্ষককে বোঝাতে না পারো, তোমার কাজটা একেবারে নতুন (it's an original work, not blindly copied from someone), তাহলে তোমায় বাড়ি ফিরতে হবে খালি হাতে। ডক্টর হওয়ার আশায় বালি।' শুনে টুনে আমার 'Dilwa Beating Fast Sasura' । আর তাই আমার fast dil কে বাগে আনার জন্য মনে হলো কিছু লিখে ফেলা জরুরি, পড়াশুনো হোক বা না পড়াশুনা।

অগত্যা কিছু লিখে ফেলার তাগিদে কিছুটা স্বগতোক্তিই করলাম আজ।


Note: লেখার কথা মনে পড়লে আমার মতো যাদের 'দিল ধড়াকনে লাগে' তাদের নাকি Pat Thomson-এর blog পড়া উচিত, এটাও instructor-ই বললেন। আর এই কারণেই আমি ক্লাসগুলোতে যাই, কাজের কাজ না হলেও অন্য অনেক অন্য রকম তথ্য জানা যায়, দেশে থাকতে যে সুযোগগুলো আমার ছিলোনা।
https://patthomson.net/

No comments:

Post a Comment

পড়া এবং পড়ানোর পাঁচকাহন।

  ছাত্র ছাত্রীদের "Electrostatics & Magnetostatics" পড়ানোর জন্য এই বইগুলো নিয়ে বসেছিলাম। একেই বলে জাহির করা। 🤭 "দেখো M...