ভাবলাম, ভালো মন্দ মিশিয়ে বছরটা কেটে যাবে, কিন্তু তা নয়। বছর শেষে আমি ঘুমাতে পারছিনা, সেই ঘুম যা আমার অত্যন্ত প্রিয় এবং পরম আপন। ঘুমাতে যাওয়ার জন্য ঘরের আলো নিভিয়ে দিলেই ভয়ে হৃদয় স্পন্দন এতো বেড়ে যাচ্ছে, সেই শব্দ শুনেই আমি ভয়ে পাগল হয়ে যাচ্ছি। আমি মোটেই মজা করছিনা, সত্যি সত্যিই ভূতের ভয়ে আমি যারপরনাই সন্ত্রস্ত এবং ভীত। না, ভূত আমায় ভয় দেখাচ্ছে না কিন্তু আমি ভয় পাচ্ছি ভূতকে নিজে থেকে ভেবে ভেবেই। এ হলো সুস্থ শরীর নিজে নিজে ব্যস্ত করা, যা নেই তাকে ভেবে অযথাই নিজের উপর নির্যাতন করা। কিন্তু করবোটাই বা কি ? নিজের ইচ্ছেই এই সব ভয় আমি ডেকে আনিনি। সব নষ্টের মূল, ২৫শে ডিসেম্বরের রাত। সেদিন বন্ধুবৎসল হওয়ার ফলে আমায় বসে বসে 'কনজুরিং ২' দেখতে হয়েছে। এবং সেটা দেখতে হচ্ছে বলে, আমি পুরোটা সময়ই নিজের মোবাইলের দিকে তাকিয়ে ছিলাম, আর আমাকে জোর করা হচ্ছে বলে আমি একটু রূঢ় ব্যবহার-ও করেছিলাম। এখন মনে হচ্ছে, আরো একটু রূঢ় হয়ে সেই ঘরে বসে না থাকলেই হতো। কারণ যারা আমায় জোর করেছিল, তারা তো নিজের নিজের ঘরে ঘুমাচ্ছে, আমি দুর্বল হৃদয় মানুষ, একা জেগে বসে আছি।
জেগে বসে থাকতে আপত্তি ছিল না, কিন্তু আমার প্রিয় ঘুম আমি ঘুমাতে পারছিনা। সেই দুঃখে আমি ভয়ানক কাতর। মনে হয় নতুন বছরের কিছুটা সময় আমি জেগেই কাটাবো। মজার বিষয় হলো, আমি আবার নাকি নাস্তিক, যে ভূত বা ভগবান কাউকেই বিশ্বাস করে না। ছোটবেলায় যখন বুঝতাম না ভগবান কি, তখন পরীক্ষা দিতে যাওয়ার আগে ভগবানকে ডাকার কোনো প্রশ্ন ছিল না আর যখন বুঝতে শিখলাম তখন তো আরোই প্রশ্ন নেই। আমি জানি নিজের কাজ নিজেকেই করতে হয়, ভগবান তেমন সাহায্য টাহায্য করেন না। কাজেই, আমার এই ভূতের ভয় কাটাতে আমি ভগবানকেও ডাকতে পারছিনা। এই হচ্ছে উভয় সংকট। আর এই উভয় সংকটের জ্বালায় আমার ঘুমটাই মাটি। এমন ঘুম মাটি আমার M.Sc তে পড়ার সময় হয়েছিল। এক বন্ধু রাতের ট্রেনে বাড়ি যেতে যেতে একটা ragging-এর গল্প শুনিয়েছিল। কি আশ্চর্য, লিখতে লিখতেই মনে পড়লো সেটাও এক ডিসেম্বর ছিল, একটা সেমিস্টার শেষ হওয়ার পর আমরা বাড়ি যাচ্ছিলাম ট্রেনে করে।
বাড়িতে পৌঁছে কোনো অসুবিধা হয়নি রাতে ঘুমাতে, মায়ের আদরে ঘুমাতাম। কিন্তু হোস্টেলে ফিরে এসে ২ মাস রাতে আলো জ্বালিয়ে ঘুমাতাম। আলো জ্বালালে আমার ঘুম ঠিক মতো হয় না, হতোও না, এখনো হচ্ছে না।
সবার কৌতুক আরো বাড়িয়ে জানায়, সেই ragging-এর গল্পে কোনো ভূতের চিহ্ন মাত্র ছিল না, আর কদিন আগে আড়চোখে দেখা সিনেমাতেও আমি ভূতটিকে ভালোভাবে দেখিনি। কিন্তু আমার কল্পনাশক্তি এতোই সক্রিয় যে, ভয়ানক কিছু কল্পনা করে নেয়া আমার মস্তিষ্কের পক্ষে কঠিন কিছুনা।
আমার মস্তিস্ক কল্পনা করছে, আর আমি চোখ বুঝলেই ভয়ানক ভূত দেখছি। সেই ভয়ে, না আমি চোখ বন্ধ করতে পারছি, না আমি আলো নেভাতে পারছি, না আমি ঘুমাতে পারছি।
তাই, ২০১৬ সালের কাছে শেষ অনুরোধ, যা যা ভেবেছিলাম, পড়াশুনো গবেষণা সংক্রান্ত, কিছুই তো পূরণ করতে দিলে না, তার আগেই দৌড়ে পালিয়ে গেলে, please আমার ঘুমটা কেড়ে নিয়ে যেও না। 😖
নতুন বছর সবার ভালো কাটুক এই প্রার্থনা করি, সেই সাথে আমিও যেন ভালো করে ঘুমাতে পারি। বিশ্বাস করুন বন্ধুগণ, আমার প্রিয় ঘুমকে হারিয়ে বড্ডো মনোকষ্টে আছি।
Note: So moral of today's story is: খুব বেশি ভালোবাসা, ভাবার মতো খুব বেশি কল্পনা করাও ভালো নয়। Little extra of these make life difficult. 😟😞
জেগে বসে থাকতে আপত্তি ছিল না, কিন্তু আমার প্রিয় ঘুম আমি ঘুমাতে পারছিনা। সেই দুঃখে আমি ভয়ানক কাতর। মনে হয় নতুন বছরের কিছুটা সময় আমি জেগেই কাটাবো। মজার বিষয় হলো, আমি আবার নাকি নাস্তিক, যে ভূত বা ভগবান কাউকেই বিশ্বাস করে না। ছোটবেলায় যখন বুঝতাম না ভগবান কি, তখন পরীক্ষা দিতে যাওয়ার আগে ভগবানকে ডাকার কোনো প্রশ্ন ছিল না আর যখন বুঝতে শিখলাম তখন তো আরোই প্রশ্ন নেই। আমি জানি নিজের কাজ নিজেকেই করতে হয়, ভগবান তেমন সাহায্য টাহায্য করেন না। কাজেই, আমার এই ভূতের ভয় কাটাতে আমি ভগবানকেও ডাকতে পারছিনা। এই হচ্ছে উভয় সংকট। আর এই উভয় সংকটের জ্বালায় আমার ঘুমটাই মাটি। এমন ঘুম মাটি আমার M.Sc তে পড়ার সময় হয়েছিল। এক বন্ধু রাতের ট্রেনে বাড়ি যেতে যেতে একটা ragging-এর গল্প শুনিয়েছিল। কি আশ্চর্য, লিখতে লিখতেই মনে পড়লো সেটাও এক ডিসেম্বর ছিল, একটা সেমিস্টার শেষ হওয়ার পর আমরা বাড়ি যাচ্ছিলাম ট্রেনে করে।
বাড়িতে পৌঁছে কোনো অসুবিধা হয়নি রাতে ঘুমাতে, মায়ের আদরে ঘুমাতাম। কিন্তু হোস্টেলে ফিরে এসে ২ মাস রাতে আলো জ্বালিয়ে ঘুমাতাম। আলো জ্বালালে আমার ঘুম ঠিক মতো হয় না, হতোও না, এখনো হচ্ছে না।
সবার কৌতুক আরো বাড়িয়ে জানায়, সেই ragging-এর গল্পে কোনো ভূতের চিহ্ন মাত্র ছিল না, আর কদিন আগে আড়চোখে দেখা সিনেমাতেও আমি ভূতটিকে ভালোভাবে দেখিনি। কিন্তু আমার কল্পনাশক্তি এতোই সক্রিয় যে, ভয়ানক কিছু কল্পনা করে নেয়া আমার মস্তিষ্কের পক্ষে কঠিন কিছুনা।
আমার মস্তিস্ক কল্পনা করছে, আর আমি চোখ বুঝলেই ভয়ানক ভূত দেখছি। সেই ভয়ে, না আমি চোখ বন্ধ করতে পারছি, না আমি আলো নেভাতে পারছি, না আমি ঘুমাতে পারছি।
তাই, ২০১৬ সালের কাছে শেষ অনুরোধ, যা যা ভেবেছিলাম, পড়াশুনো গবেষণা সংক্রান্ত, কিছুই তো পূরণ করতে দিলে না, তার আগেই দৌড়ে পালিয়ে গেলে, please আমার ঘুমটা কেড়ে নিয়ে যেও না। 😖
নতুন বছর সবার ভালো কাটুক এই প্রার্থনা করি, সেই সাথে আমিও যেন ভালো করে ঘুমাতে পারি। বিশ্বাস করুন বন্ধুগণ, আমার প্রিয় ঘুমকে হারিয়ে বড্ডো মনোকষ্টে আছি।
Note: So moral of today's story is: খুব বেশি ভালোবাসা, ভাবার মতো খুব বেশি কল্পনা করাও ভালো নয়। Little extra of these make life difficult. 😟😞
প্রিয় বন্ধুটি, সব থেকে best পার্ট হলো moral টা, কেন জানিস, আমার কল্পনা শক্তি আরো ভয়ানক যে একটা পুরো movie বানিয়ে ফেলা যাবে, যেখানে শেষ scene এ আমি মৃত!😜
ReplyDeleteহা হা হা। এই কল্পনাটা আরো ভালো তো। আরো চমকপ্রদ !
ReplyDelete