Friday, 18 November 2016

এক কৌটো বাতাস

এককালে পৃথিবীর সম্পদে সমস্ত জীবদেরই সমান অধিকার ছিল। ধীরে ধীরে মানুষ যত বুদ্ধিমান হতে লাগলো অন্য প্রাণীদের অস্তিত্ত্ব সংকট বাড়লো। এখন অবশ্য একদল মানুষের জন্য বাকি সব মানুষের অস্তিত্বই সংকটে। যার শক্তি যত বেশি সে তত বেশি সম্পদের উপর নিজের দাবি জানাচ্ছে। শক্তিবলে জমি দখল দিয়ে শুরু হয়েছিল।
(যার ফলে, আদিম জনজাতি প্রায় বিলুপ্ত। ভারতবর্ষে আদিবাসীরা যেমন কোনঠাসা, আমেরিকাতেও তেমনি জনসংখ্যার মোটে ২% Native American.)

কিছু লোকের জমি গেলো তো কিছু লোক জমি পেল। তাও নদী সমুদ্র জল সে তো সবার ছিল।
কালে কালে রাষ্ট্রের সীমানার সাথে সাথে সমুদ্রেরও সীমানা তৈরী হয়ে গেলো, নদীর জলবণ্টন নিয়েও তরজা শুরু হলো। গ্রামগুলোতে জাতপাত মেনে কুয়োও ভাগ হলো। জলের অধিকারও সমান থাকলো না।
জমি হারিয়ে যারা ভেবেছিলো বাতাস আর জল খেয়ে বেঁচে থাকবে, তাদের সেই পরিকল্পনা গেলো ভেস্তে।

একমাত্র ছিল বাতাস, ইদানিং কালে সেটাও কৌটোজাত। ১৬০ বার প্রশ্বাস নেয়ার বাতাসের দাম মোটে ৮০ পাউন্ড, মানে ভারতীয় মুদ্রায় ৭০০০ টাকা।

কাজেই, জোর যার, শুধু মুল্লুক নয়, জল বাতাস সবই এখন তার।

Wednesday, 9 November 2016

Tusi great ho

2014 সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতে এসেছিলেন ব্যবসায়িক স্বার্থে, তখন তাকে নিয়ে মস্করা করা হয়েছিলো।ভারতের সম্পর্কে কিছু বলতে বলা হলে উনি সব কথার একটাই জবাব দিয়েছিলেন, India is great, India is doing great. তাতেই সবাই মজা পেয়েছিল, আরে এ তো ভারত সম্পর্কে কিছু জানে না, কিন্তু কিছু বলতে হবে, তাই Great বলে বলে কাজ চালানোর চেষ্টা।

কিন্তু এখন পাশা পাল্টে গেছে। ভারতে অনেক দিন ধরেই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে মাতামাতি চলছে। এবার উনি US President হিসাবে ভারতে আসলে, সেই আমরাই বলবো, Trump you are great, you are doing great কারন বেশীরভাগ ভারতীয়রাই ওনার সম্পর্কে কিচ্ছু জানিনা। 

Tuesday, 8 November 2016

খেলনাবাটি খেলা আর মিছিমিছি কিছু টাকা পয়সার লেনদেন

ছোটবেলায় খেলনাবাটি খেলার সময় মিছিমিছি ভাত রান্না করতাম, মিছিমিছি মাছের ঝোল। আমাদের থেকে যারা বড়ো, যাদের মায়েদের সাথে রান্না ঘরে ঢুকে সত্যি মাছের ঝোল খুন্তি দিয়ে নাড়ার সুযোগ হয়েছিল, তারা আমাদের এই মিছিমিছি খেলা দেখলে তাচ্ছিল্য করতো। কোনোদিন কোনো বন্ধুর অনুপস্থিতিতে বিপাকে পড়ে বড়ো কাউকে যদি খেলতে বলতাম, বলতাম এই নাও টাকাটা ধরো, আর বাজার থেকে আলু পটল বেগুন নিয়ে এসো, তারা হেসে লুটিয়ে পড়তো। আমাদের খেলা পন্ড করে দেওয়ার জন্য খুব যুক্তিবাদীদের মতো বলতো, কোথায় টাকা, সত্যিকারের টাকা কই, মুখে বললে তো হবে না, কথার কি দাম? তখন হয়তো সাদা কাগজে লিখে দিলাম, এই নাও ৫ টাকা, এবার তো যাও, কিন্তু তাতেও তারা ভুলতো না, ওই সাদা কাগজের যে কোনো মূল্যই নেই।

তখন খুব দুঃখ হতো। আমাদের খেলা ভেঙে যেত, সত্যিকারের টাকা না দেখাতে পারার দুঃখে, বড়োদের মস্করায়। অথচ আজ দেখি/বুঝি সত্যিকারের টাকা বলে তো কিছুই হয়না। পুরোটাই তো কথার খেলা, আর কাগজের সই। মানিপার্স থেকে কোনো টাকা বের করে পড়ে দেখুন কি লেখা আছে। ভারতীয় টাকার ক্ষেত্রে, গভর্নর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন; দশ টাকার নোটের কথা ধরা যাক, ১০ সংখ্যা লেখা একটা কাগজে হস্তাক্ষর করে উনি বলছেন- I promise to pay the bearer the sum of ten rupees । মানে সোজা বাংলায় এটাই তো দাঁড়াচ্ছে, মেনে নাও এটা ১০ টাকা, এবার যাও বাজারে গিয়ে এর বিনিময়ে বাজার করে আনো।

ছোটবেলায় আমিও তো একই কথা বলতাম, শুধু গভর্নরের মতো 'লম্বা চওড়া পদ' ছিলনা বলে সেই ধুলোবালি মাখা রান্নাবাটি নিয়ে খেলতে বসা বাচ্চাটার কথা সবাই হেসেই উড়িয়ে দিতো।

এতো গেলো সত্যি সত্যি টাকার কাহিনী, মানে যা কিছুটা হলেও সত্যি, অন্তত ছুঁয়ে দেখা যায়। এবার যে টাকা ছুঁয়ে দেখা যায়না, মানে electronic money, সেটা নিয়ে একটু ভাবা যাক। সেটাতো আরো গোলমেলে। আমি আমার account থেকে তোমার account-এ টাকা পাঠাচ্ছি। আসলে কিন্তু কিছুই লেনদেন হচ্ছে না, digit গুলো আমার প্রতিশ্রুতি বা ইচ্ছে অনুসারে বদলে যাচ্ছে। আপাত জনপ্রিয় একটা site (but I can't put it as reference) থেকে জানলাম, 95% of all money is electronic, বাকি 5% real money, মানে ওই গভর্নরের প্রতিশ্রুতি দেওয়া ধাতব মুদ্রা বা কাগজের টুকরো।

এবার যদি কোনো কারণে সেই ডিজিটাল সিস্টেমে কোনোরকম কোনো গোলযোগ হয়....................
না থাক, আমি কোনোরকম কোনো অলুক্ষণে কথা বলছিনা, মা মানা করেছেন। তাই আমিও বিশ্বাস রাখি, গভর্নরের প্রতিশ্রুতিতে, এই সংখ্যাতন্ত্রে। After all, প্রতিমাসের শুরুতে আমার account-এও তো এই electronic money-ই University থেকে credited হয়।আর তার সৌজন্যেই আমি আমার বাড়ির মালিককে electronic money transfer করি, নিজের ভরণ পোষণ চালাই।

তাই সবকিছুই বিশ্বাস করছি, মিছিমিছিই।

পুনশচঃ আশ্চর্য সমাপতন, আজ সকালে এই লেখাটা যখন মাথায় এসেছিলো, তখনও জানিনা আজকে রাতের মধ্যেই ভারতে তোলপাড় হবে টাকা (বাতিল) নিয়ে।

প্রফেসর শংকুর বটিকা ইন্ডিকা আর Face electrodes

রসগোল্লা খেতে আমি বড্ড বেশি ভালোবাসি, দিনে পাঁচ-ছটা রসগোল্লা আমি বাড়িতে থাকলে হামেশাই খাই।এই বিদেশ বিভুঁয়ে এসে রসগোল্লার শোকে আমাকে চকলেট খাওয়া ধরতে হয়েছে। কোথায় আমার সেই মাজদিয়ার রসগোল্লা কোথায় এই চকলেট। যারা মাজদিয়ার রসগোল্লা খেয়েছেন, তারা অন্তত মানবেন আমার এই তুলনাটা মোটেই অমূলক নয়। তবে আমার তুলনা যদি  চকলেট প্রেমীদের হৃদয়ে আঘাত হানে তাহলে আমি যারপরনাই দুঃখিত।
আমি চকোলেটও ভালোবাসি , আমায় এখন যদি কেউ এক বাক্স চকলেট উপহার দেয়, আমি ভীষণ খুশি হবো। কিন্তু কেউ যদি আমায় চকলেটের বদলে এক হাঁড়ি রসগোল্লা দিয়ে প্রেম নিবেদন করে তাহলে আমি একটু বেশিই গদগদ হয়ে পড়ব।
এখন কথাটা হচ্ছে চকলেট বা রসগোল্লা যে রকমই মিষ্টি হোক না কেন, কোনোটাই শরীরের পক্ষে ভালো নয়। যত বেশি চিনি, তত বেশি মোটা, তত high blood pressure উপরন্তু Diabetes এর চোখ রাঙানি।

 কিন্তু বন্ধুগণ, চিন্তার কোনো কারণ নেই।  আমাদের মতো খাদ্যরসিকদের সমস্যার সমাধান করতে এসে গেছে face electrode । National University of Singapore-এর বিজ্ঞানীরা এমন এক ইলেকট্রোড বানানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন যাতে আপনি virtual খাবারের স্বাদ পাবেন। 
আহা! কি মধুর কথা। আপনার কত খাটনি কমে গেলো ভাবুন। আপনার ইচ্ছে বাড়িতে নেমন্তন্ন করে বন্ধুদের খাওয়াবেন। বন্ধুদের ডাকলেন, তারা আসতেই হাতে খান তিনেক পাঁউরুটি ধরিয়ে দিলেন। বন্ধুরাতো চটে লাল, শেষে ঝুলি থেকে বিড়াল বের করার মতো, আপনার তুরুপের তাস face electrode বের করে চাটতে দিলেন। 

বাড়ি থেকে যাওয়ার আগে আপনার বন্ধুরা আপনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। এমন বিরিয়ানির স্বাদ তারা আগে কোনোদিন পায়নি। এমনকি আপনার পেটরোগা বন্ধু হয়তো আপনাকে জড়িয়ে একখান চুমুই দিয়ে দিলো।পেটের রোগের ভয়ে আজ পর্যন্ত সে হয়তো বিরিয়ানি চেঁখেই দেখতে পারেনি, শুধু ঘ্রানেই অর্ধ ভোজন।কিন্তু আপনার দেয়া এমন বিরিয়ানি চাঁখলে no side effect; পেট ব্যাথা, গ্যাস, পেট খারাপের কোনো সম্ভবনায়  নেই।

সত্যিই কি আবিষ্কার।আর কদিন পর হয়তো প্রফেসর শংকুর সেই ট্যাবলেট বটিকা ইন্ডিকা-ও আবিষ্কার হয়ে যাবে, যার একখানা খেয়ে নিলেই সেদিনের মতো খিদে তেষ্টার ভাবনা উধাও। 
তখন কষ্ট করে পাউরুটিটুকুও আপনাকে কিনে আনতে হবে না। একটা করে বটিকা ইন্ডিকা আর একটা করে face electrode, যখন তখন যেখানে সেখানে যা ইচ্ছে তাই খান।

তথ্য সূত্র: https://www.newscientist.com/article/2111371-face-electrodes-let-you-taste-and-chew-in-virtual-reality/

পুনশচঃ এখনো অবশ্য face electrode এর বাণিজ্যিকরণ হয়নি।তাই নিজের হাতে রেঁধেই খাচ্ছি, food party করছি। সেই সব রান্নার ছবি বন্ধুগণের সাথে share করি। আর হ্যাঁ, রসগোল্লার শোকে একদিন নিজেও রসগোল্লা বানিয়েছিলাম।






এক প্রাগৈতিহাসিক মস

আমি সবুজ খুব ভালোবাসি, তাই শহরে থাকতে আমার ভালো লাগে না। গাছপালায় মোড়া গ্রাম আমার বেশি প্রিয়। অবশ্য বৃক্ষ শ্রেণীর (Tree) গাছ, যেমন আম কাঁঠাল কিংবা UK-র Elderberry আর Cherry Tree আমার বেশি পছন্দের, সুস্বাদু ফল পাওয়া যায় এদের থেকে। আবার সবুজ হলেও
 শ্যাওলা কিন্তু পছন্দের নয়। বর্ষাকালে রাস্তার পাশে অথবা নোনা ধরা পুরনো দেয়ালে যখন শ্যাওলা জমে ওঠে আমি কিন্তু মোটেই প্রীত হইনা।
তাই ভাবি ভাগ্যিস আমার জন্ম এই জামানায় হয়েছিল, সেই প্রাগৈতিহাসিক যুগে নয় যখন বৃক্ষশ্রেণীর অস্তিত্বই ছিল না, থাকলেও তা প্রাথমিক পর্যায়ে। সেই লক্ষ কোটি বছর আগে উদ্ভিদের দেশে রাজত্ব করতো, আজ যাদের আমরা আগাছা বলি, সেই শৈবাল, শ্যাওলা গোত্রের উদ্ভিদ।

কদিন আগে Sheffield Botanical Gardens -এ গিয়ে এমনই এক আগাছার গুঁড়ি দেখে আসলাম। দেখা ইস্তক সবাইকে এই গুঁড়িটা দেখানোর জন্য মনটা আকুল হয়ে উঠেছিল, আজ শেষমেশ সময় পেলাম।



এই গুঁড়িটা একটা প্রকান্ড মসের (Giant Club Moss), যার পোশাকি নাম Lycopod (Lepidodendron)। এই lycopod হচ্ছে এক ধরণের arborescent plant মানে tree-লাইক plant, বৃক্ষের মতো কিন্তু আদতে বৃক্ষ নয়।





৩০ কোটি বছরের পুরোনো গাছটা ছুঁয়ে দেখতেই কেমন যেন একটা শিহরণ জাগলো। প্রাগৈতিহাসিক যুগ বলতেই ডাইনোসোরদের কথা আমাদের মনে আসে, তাই নিয়ে খুঁজলে কত কত documentary । আর  এই উদ্ভিদশ্রেণী লাফিয়ে ঝাঁপিয়ে বেড়াতে পারেনা বলেই উদ্ভিদবিজ্ঞানী বাদে, এদের নিয়ে আমাদের কোনো উৎসাহ নেই। অথচ এদের বিবর্তনটাও তো সমান আকর্ষণীয়।

৩০ ফুট লম্বা মহীরুরর মতো প্রকান্ড এই মস একদিন হারিয়ে গেলো আর আজ তার বংশধরেরা রাজ্যপাট হারিয়ে নোনাধরা পাঁচিলে অস্তিস্ত্ব টিকিয়ে রাখার সংগ্রামে ব্যস্ত । সত্যিই প্রকৃতি বড় খামখেয়ালী আর অপরিসীম শক্তিধর। তার ইচ্ছের কাছে, শক্তির কাছে সবাই তুচ্ছ । আমরা আপাত চালাক আদতে বোকা মনুষ্যশ্রেণী খামোখাই আস্ফালন করে গেলাম।


Internet ঘেঁটে শিল্পীর কল্পনার Giant Club Moss-এর ছবি পেলাম। কৌতূহলীদের জন্য সঙ্গে দিলাম।
P.C :https://museum.wales/articles/2007-06-12/Waless-tropical-rainforests/

পড়া এবং পড়ানোর পাঁচকাহন।

  ছাত্র ছাত্রীদের "Electrostatics & Magnetostatics" পড়ানোর জন্য এই বইগুলো নিয়ে বসেছিলাম। একেই বলে জাহির করা। 🤭 "দেখো M...