Tuesday, 8 November 2016

খেলনাবাটি খেলা আর মিছিমিছি কিছু টাকা পয়সার লেনদেন

ছোটবেলায় খেলনাবাটি খেলার সময় মিছিমিছি ভাত রান্না করতাম, মিছিমিছি মাছের ঝোল। আমাদের থেকে যারা বড়ো, যাদের মায়েদের সাথে রান্না ঘরে ঢুকে সত্যি মাছের ঝোল খুন্তি দিয়ে নাড়ার সুযোগ হয়েছিল, তারা আমাদের এই মিছিমিছি খেলা দেখলে তাচ্ছিল্য করতো। কোনোদিন কোনো বন্ধুর অনুপস্থিতিতে বিপাকে পড়ে বড়ো কাউকে যদি খেলতে বলতাম, বলতাম এই নাও টাকাটা ধরো, আর বাজার থেকে আলু পটল বেগুন নিয়ে এসো, তারা হেসে লুটিয়ে পড়তো। আমাদের খেলা পন্ড করে দেওয়ার জন্য খুব যুক্তিবাদীদের মতো বলতো, কোথায় টাকা, সত্যিকারের টাকা কই, মুখে বললে তো হবে না, কথার কি দাম? তখন হয়তো সাদা কাগজে লিখে দিলাম, এই নাও ৫ টাকা, এবার তো যাও, কিন্তু তাতেও তারা ভুলতো না, ওই সাদা কাগজের যে কোনো মূল্যই নেই।

তখন খুব দুঃখ হতো। আমাদের খেলা ভেঙে যেত, সত্যিকারের টাকা না দেখাতে পারার দুঃখে, বড়োদের মস্করায়। অথচ আজ দেখি/বুঝি সত্যিকারের টাকা বলে তো কিছুই হয়না। পুরোটাই তো কথার খেলা, আর কাগজের সই। মানিপার্স থেকে কোনো টাকা বের করে পড়ে দেখুন কি লেখা আছে। ভারতীয় টাকার ক্ষেত্রে, গভর্নর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন; দশ টাকার নোটের কথা ধরা যাক, ১০ সংখ্যা লেখা একটা কাগজে হস্তাক্ষর করে উনি বলছেন- I promise to pay the bearer the sum of ten rupees । মানে সোজা বাংলায় এটাই তো দাঁড়াচ্ছে, মেনে নাও এটা ১০ টাকা, এবার যাও বাজারে গিয়ে এর বিনিময়ে বাজার করে আনো।

ছোটবেলায় আমিও তো একই কথা বলতাম, শুধু গভর্নরের মতো 'লম্বা চওড়া পদ' ছিলনা বলে সেই ধুলোবালি মাখা রান্নাবাটি নিয়ে খেলতে বসা বাচ্চাটার কথা সবাই হেসেই উড়িয়ে দিতো।

এতো গেলো সত্যি সত্যি টাকার কাহিনী, মানে যা কিছুটা হলেও সত্যি, অন্তত ছুঁয়ে দেখা যায়। এবার যে টাকা ছুঁয়ে দেখা যায়না, মানে electronic money, সেটা নিয়ে একটু ভাবা যাক। সেটাতো আরো গোলমেলে। আমি আমার account থেকে তোমার account-এ টাকা পাঠাচ্ছি। আসলে কিন্তু কিছুই লেনদেন হচ্ছে না, digit গুলো আমার প্রতিশ্রুতি বা ইচ্ছে অনুসারে বদলে যাচ্ছে। আপাত জনপ্রিয় একটা site (but I can't put it as reference) থেকে জানলাম, 95% of all money is electronic, বাকি 5% real money, মানে ওই গভর্নরের প্রতিশ্রুতি দেওয়া ধাতব মুদ্রা বা কাগজের টুকরো।

এবার যদি কোনো কারণে সেই ডিজিটাল সিস্টেমে কোনোরকম কোনো গোলযোগ হয়....................
না থাক, আমি কোনোরকম কোনো অলুক্ষণে কথা বলছিনা, মা মানা করেছেন। তাই আমিও বিশ্বাস রাখি, গভর্নরের প্রতিশ্রুতিতে, এই সংখ্যাতন্ত্রে। After all, প্রতিমাসের শুরুতে আমার account-এও তো এই electronic money-ই University থেকে credited হয়।আর তার সৌজন্যেই আমি আমার বাড়ির মালিককে electronic money transfer করি, নিজের ভরণ পোষণ চালাই।

তাই সবকিছুই বিশ্বাস করছি, মিছিমিছিই।

পুনশচঃ আশ্চর্য সমাপতন, আজ সকালে এই লেখাটা যখন মাথায় এসেছিলো, তখনও জানিনা আজকে রাতের মধ্যেই ভারতে তোলপাড় হবে টাকা (বাতিল) নিয়ে।

No comments:

Post a Comment

পড়া এবং পড়ানোর পাঁচকাহন।

  ছাত্র ছাত্রীদের "Electrostatics & Magnetostatics" পড়ানোর জন্য এই বইগুলো নিয়ে বসেছিলাম। একেই বলে জাহির করা। 🤭 "দেখো M...