Thursday, 29 September 2016

সাদাকালো

তুমি খারাপ আমি ভালো
সোজাসাপ্টা সাদাকালো।
আমি বাঁচলে মরবে তুমি
অথবা, তুমি বাঁচলে আমি।

আমার ভাবনা আমার নীতি
অরাজি হওয়াই তোমার রীতি।
শান্তিচুক্তি আলোচনা সব
সহাবস্থান অতি অসম্ভব।

আমি যদি রুখি শফকত আলী
তুমিও দেখোনা আনটোল্ড স্টোরি।
বিনা যুদ্ধে সুচাগ্র মেদিনী
কেহ নাহি দেব, এইটুকু জানি।

হামলা তুমি চালালে উরি'তে
আমার জবাবও এক তুড়িতে।
তোমার পঁয়ত্রিশ নাকি আমার আঠারো
গুনতিতে কম হলে আমার পোয়াবারো।

এরই মাঝে পড়ে আমার ছরা'তে
যদি আলো হারায় আমারই ঈশা,
মনে রেখো, তোমার গুলির ভয়েতে
বিলেতে বাঁচে তোমারও দিশা।

শান্তি নয়, তোমার যুদ্ধ চাই
মরলে মানুষ ক্ষতি কিছু নাই।
তবে চলুক এ লড়াই, চলতেই থাক
সমাজ উন্নয়ন সব থেমে যাক।

Sunday, 25 September 2016

Translation of অঙ্ক (Math), সুর (Tune), সৌভাগ্যবতী (Lucky girl)

অঙ্ক (Math)

Why are you analysing for the whole day?
As if my mind is math!
It’s ‘mind’ dear, way more complicated.
You can’t read it so easily.

So, it will be better if we stay quiet
And just look at the sky.

If you are always concerned about
The basic physics of the spectrum,
You will miss the pleasure of watching
Colours which are covering the sky.

Why to find the things which are meant to be lost?
Why to interpret the things which are baffling?

It’s life, not the math.
You can’t solve it just because you want to.
Let leave something mystified.
Is it too important to explain everything? 


সুর (Tune)

I wish I could tell you
Some of the stories.
But I can’t,
Because I am afraid.
I am afraid of
Interrupting the tune
Which has just been started
To play for us.

Those are not lullabies.
It will not help you to sleep.
Rather you may go through
Some sleepless nights.

I wish not to disturb
Your enchanting night.
I don’t want to make it
Painful restless for you.
So, I am keeping those
Broken-dream stories within me only.

সৌভাগ্যবতী (Lucky girl)

Oh Girl,
You are so lucky.
Because you have born,
Your mother had not to
Lie on bed of abortion room
Even after knowing
You are coming.

Really, very lucky you are.
You have got
The chance to go to college.
Your progressive family believes
Girls should be educated
Just like boys.

I must say
Lady luck is with you.
You have got a job and
Lucky enough to continue.
Because your family believes
Nowadays girls should be responsible
Just like boys.

You are really lucky my dear.
Because even after giving birth
To a girl child
Your husband kisses you on forehead
And tells you
‘For me girls are
Just like boys’.

And suddenly you wake up
From the dream of being lucky.
You remember, once
You wanted to be known
Just as a 'human'.

Instead you have registered your name
In a race
Where in every moment 
You have to prove
Girls are not weak
Girls can do everything
Just like boys.

All those frozen agonies
From your hearts come out
And flow from your eyes.
You tightly hold your daughter
With all of your affections.
And suddenly your entity
Of being a woman rises up.
You start to realise
You have to be way more careful
As a mother of a girl child.

Alas! Also in this ‘birth’
Your wish to be lucky
just as a ‘human’
got muffled by
‘Oh dear, you are a lucky girl’.

Thursday, 22 September 2016

Blog সংক্রান্ত

এই মুহূর্তে আমার ব্লগের view ২২২২, মোটে ২০ টা post আছে (এই লেখাটা এখুনি publish করলাম, তাই include করলাম না), তাহলে গড় করলে দাঁড়ায়, আমার প্রতিটা পোস্ট ১১১.১ জন করে পড়েছেন।
'আমার প্রবাসী জীবন' এই লেখাটা ৩ দিনে প্রায় ৩০০ বার পড়া হয়েছে, এটা আমার কাছে সত্যিই ভীষণ আনন্দের। আমি তেমন ভাবে ব্লগের প্রচার করিনি, মানে ব্লগে লিখলেও ফেসবুকে শেয়ার করতাম না। শেষে আমার বন্ধু, হানটুর ধমকিতে পড়ে, শেয়ার করতে শুরু করি। আসলে যখন আমি কিছু লিখি তখন শুধু লেখার আনন্দেই লিখি, এটা ভেবে হয়তো লিখিনা, যে কে পড়বে বা না পড়বে, কিন্তু লেখা হয়ে গেলে দুনিয়াকে জানাতে ইচ্ছে হয়, ইচ্ছে হয় আরো দু-চার জন পড়ুক। সেই দু-চার জন থেকে দুহাজার জন আমার লেখা পড়ে ফেলেছেন সেটা ভেবে সত্যিই আমি 'বিগলিত'। 😊😊😊😊
আমার লেখা আমার দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা, আমি যে ভাবে দুনিয়াকে দেখি, সেই ভাবেই লিখি। তাই, আমার লেখার মধ্যে যখন কেউ নিজেকে খুঁজে পায় তখন (বিষ্ময়-সহ) আনন্দ হয়।
আমার প্রিয় বন্ধুর ফরমায়েশে, 'এগারো বছর পর' লিখেছিলাম, তার ভালো লেগেছিলো, নিজেকে বেশ সার্থক মনে হয়েছিল। অবশ্য, অনেকেই ওই লেখার সাথে নিজের মিল খুঁজে পেয়েছেন। তবে আশ্চর্যের বিষয়, ওই লেখার পর, আমি আর এক বন্ধুর কাছ থেকে লেখার ফরমায়েশ পেয়েছি, তার মনে হয়েছে, আমি তার কথাটাও লিখে ফেলতে পারবো আর তার সেটা পড়তে ভালো লাগবে। সত্যিই এটা আমার কাছে প্রাপ্তি। আমি পেশাদার লিখিকা নয়, রোজ রোজ লিখিও না। তাই, আমার ব্লগ নিয়মিত update হয়না। উপরুন্তু, আমি লিখলে আমার মায়ের রাতে ঘুম হয়না, সে কথা উনি ফেসবুকে পোস্টও করেছেন।😜😜😜😜
তবুও যখন মাথার মধ্যে ভাবনা চিন্তা ঘুরে বেড়ায়, না লিখে উপায় থাকে না। বন্ধুর আবদার নিশ্চয় মেটাবো যদি মাথায় শব্দ আসে। মাঝে অনেক বছর লেখা, গান, ছবি আঁকা থেকে দূরে ছিলাম, চর্চায় ছেদ পড়েছে। তারপর দেখলাম, পড়াশুনো বাদে আমি যেমন থাকতে পারি না, এগুলো বাদেও আমি সম্পূর্ণ নই। নিজেকে ফিরে পাওয়ার প্রয়াসেই এই ব্লগের সূচনা। আমি প্রথম গল্প লিখেছিলাম তখন হয়তো আমার ৬/৭ বছর বয়স ছিল। এখন আমি নিজের ১২/১৩ বছর বয়সের লেখা বা ছবি আঁকা দেখলে নিজেই অবাক হয়ে যায়। স্কুলে ভর্তি হওয়ার আগে আঁকা আর গান গাওয়া শুরু করেছিলাম। সীতার বনবাসের মতো টানা চোদ্দ বছর গান শিখেছিলাম। এখন না গান না আঁকা, কিছুই আসে না তেমন। লেখাটাও আসে না। তবুও লিখি যা ভাবি তাই। মা, মামা, দিদি, ছোড়দিভাই, বন্ধু আর এই ব্লগ view আমাকে এইসব ছাই পাশ লেখাতেও উৎসাহিত করে। তাই লিখে যাই মাঝে মাঝে সময় সুযোগ পেলে। নিজেকে হারালে কষ্ট বড়ো তাই লেখার সাথে বেঁচে থাকি। 😊😊😊

অঙ্ক

কি সারাদিন অঙ্ক কষিস?
মন কি আমার অঙ্ক নাকি?
মন, সে তো জটিল অনেক,
খুঁজলেই কি তল পাবি তার?

তার চে বরং চুপ থাকি আয়।
চেয়ে চেয়ে আকাশ দেখি।

সাত রঙের ওই রামধনুতে
যদি শুধুই 'প্রিজম' খুঁজিস
আকাশ জুড়ে আলোক মালার
কিছুই কি আর ছুঁতে পাবি ?

খুঁজে কি লাভ যা হারিয়ে যাবে ?
বুঝে কি লাভ যা কঠিন বড় ?

জীবন এ তো, অঙ্ক তো নয়,
চাইলেই তুই (উত্তর ) মিলিয়ে দিবি ?
কিছুটা নয় নাই বোঝা থাক
সবকিছুই কি বুঝতে হবে?


Note: এটা আসলে আমার উদ্দেশ্যেই লেখা, আমি একটু বেশি বুঝতে চাই, আর সেটা বুঝতে গিয়ে অনেক সময় মুহূর্তগুলোকে হারিয়ে ফেলি। এটা আমার মায়ের জন্যও খাটে। কিন্তু 'বুঝে কি লাভ যা কঠিন বড় ? সবকিছুই কি বুঝতে হবে?'
So moral of the story is, বেশি ভালোবাসা, বেশি ভাবার মতো বেশি বোঝাও ভালো নয়। (আমার আগের লেখা গুলো যারা পড়েছেন তারা হয়তো relate করতে পারবেন, কেন বললাম।)

Monday, 19 September 2016

আমার প্রবাসী জীবন

গতকাল আনন্দবাজার রবিবাসরীয়তে 'শুভময় মিত্র'-র বিলেত ভ্রমণ সংক্রান্ত লেখা পড়লাম। 'জাস্ট যাচ্ছি' আমার এমনিই পড়তে ভালো লাগে, তার উপর ওঁনার গতকালের লেখাটা ছিল বিলেতের জীবন নিয়ে, তাই আরও একাত্ম হয়ে পড়লাম। ওঁনার লেখা কখনোই তথাকথিত ভ্রমণ কাহিনী হয় না, কতগুলো দ্রষ্টব্য স্থান দেখে বর্ণনামূলক কাহিনী উনি লেখেন না, উনি সেই জায়গাটার স্পন্দনটা তুলে ধরেন, সেই কারণেই ওঁনার লেখা আমায় আকৃষ্ট করে। আমার প্রবাস জীবন নিয়ে অনেকেরই কৌতূহল আছে, তাই twitter-এ ওঁনার লেখাটা share-ও করে দিলাম। 
তারপর মনে হলো, প্রবাসের ছাত্রজীবন নিয়ে আমিও কিছু সংযোজন করতে পারি। আমার পরিচিত অনেকজনের প্রবাস জীবন নিয়ে অনেক ভ্রান্ত ধারণা আছে এবং সেই ধারণা আবার তাঁরা প্রবাহিত করেন আরো অনেক লোকজনের মাঝে। তাঁদের সেই ভ্রান্তধারণা খুব একটা বদলাবে কি? জানি না। তবুও কিছু কথা জানানোর ইচ্ছে থেকেই এই লেখার অবতারণা।

আমার লেখাটা পড়ার আগে, এই লেখাটি পড়ে নেয়া যেতে পারে।  
Story of a vagabond and a police - Anandabazar http://www.anandabazar.com/supplementary/rabibashoriyo/story-of-a-vagabond-and-a-police-1.479800

------

আমি যখন এদেশে আসি, তখন জানতাম, এদেশে নিজে রেঁধে খেতে হয়, তাতে আমি খুশি ছিলাম, অন্তত হোস্টেল-র ওই জঘন্য খাবার তো খেতে হবে না, খেতে খারাপ হলেও আমারই রান্না, ভালো হলেও তাই। কিন্তু এদেশে এসে, জানলাম, শুধু রান্না নয়, জুতো সেলাই থেকে চন্ডীপাঠ সবটাই নিজেকেই করতে হয়। এখানে শ্রমজীবীদের পারিশ্রমিক যথেষ্ট চড়া, তাই একমাত্র 'রাজা-রানী' বাদে কেউ-ই 'helping hand' রাখতে পারেন না। সাধারণ মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত, সকলকেই নিজের গাড়ী নিজেকেই চালাতে হয়, ঘর দোর সাফ সাফাই, রং করা, বাগান পরিষ্কার সমস্ত কিছু নিজের হাতে করতে হয়। এমনকি নিজের বাড়ি extension নিজেই করছেন, সেটাও আমি দেখেছি। কাজেই কাউকে দোষারোপ করার সংস্কৃতি এখানে একদমই নেই, 'কিরে মালতী ওই জায়গাটায় ধুলো কেন?', এখানে আসলে একথা বলার সুযোগ আপনি হারাবেন। আমার এই কর্মসংস্কৃতিতে মানাতে অসুবিধা হয়নি, কারণ বেশ ছোট থেকেই আমি নিজের কাজ নিজেই করতাম, তার উপর প্রায় ১০ বছর হতে চললো, আমি বাড়ির বাইরে আছি। তাই নিজের room-এর light ঠিক করার জন্য ladder চড়তে হলে আমি দুঃখ পাই না, বরং নিজের প্রতিটা কাজ নিজে করছি বলে, স্বাবলম্বী হওয়ার আনন্দটা পাই।

কাজেই পায়ের উপর পা তুলে চায়ের আড্ডায় বসে, যারা বলেন ও দেশ সুখের দেশ, তাহলে বলি, এদেশ তাদের জন্যই সুখের যারা নিজের কাজ নিজে করতে ভালোবাসেন।

তবে, দেশে থাকা লোকজনের ভুল ধারণা হওয়ার পিছনে আমাদেরও কিছু দোষ আছে। আমরা, যারা বাইরে থাকি তারা facebook-এ সবুজ country side এর ছবি দিই, শীতকালে বরফের মধ্যে লুটোপুটি করার ছবি দিই, বন্ধুদেরদের সাথে house party করার ছবি দিই, কিন্তু জানাইনা, অনেকক্ষনের driving-এর ক্লান্তির কথা, বরফের মধ্যে দৈনন্দিন জীবনযাপনের অসুবিধার কথা আর party শেষে বাড়িঘর ধুয়ে মুছে সাফ করার কথা।
এখানে public transport একদমই সস্তা নয়, তাই বেশিরভাগ লোকজনদেরই গাড়ি কিনতে হয়, বাজারঘাট করার জন্য। আপনি হাঁক দিলেন, ১০ তা রিকশা পেয়ে গেলেন, সে উপায় এখানে নেই।তবুও বলবো, UK-র public transport অনেক ভালো US-র থেকে (শোনা কথা, আর আমি কিন্তু প্রধান শহরের কথা বলছিনা, সবাই London বা Newyork তো থাকেন না)। আমার US নিবাসী বন্ধুদের সকলকেই প্রায় গাড়ী কিনতে হয়েছে, বিলাসিতার জন্য নয়, দরকারের জন্য। নইলে হয়তো কয়েক কিলোমিটার হেঁটে আসতে হবে, বাজারের ব্যাগ নিয়ে। আমার গাড়ি নেই, আমাকে প্রায়ই ৫/৭ কেজি জিনিসপত্র নিয়ে ১/২ কিলোমিটার হাঁটতে হয়। এটা এখানে খুব স্বাভাবিক ব্যাপার, অত্যন্ত বৃদ্ধ বয়স্ক মানুষজন যখন নিজের জন্য নিজেই জিনিসপত্র কিনে টুকটুক করে হেঁটে যান, তখন নিজের জন্য নয় বরং ওঁনাদের জন্য খারাপ লাগে।

বরফ না থাকলে অবশ্য হাঁটতে কোনো অসুবিধা হয়না। কিন্ত শীতের ঝোড়ো হওয়ার মধ্যে পিচ্ছিল বরফের উপর দিয়ে বাজারের ব্যাগ নিয়ে আসতে ভারী কষ্ট হয়। তার থেকেও কষ্ট হয়, যখন আছাড় খেতে খেতে বাস স্ট্যান্ডের প্রায় কাছে পৌঁছে দেখলাম, বাসটা চোখের সামনে দিয়ে চলে গেলো, অথচ দৌড়ে গিয়ে ধরবো, তার উপায় নেই, কারণ দৌড়াতে গেলে নির্ঘাত বাজার, আমি, ব্যাগ শুদ্ধ চিৎপটাং হবো। পরের বাসটা, লেখা যদিও আছে ৩০ মিনিট পর কিন্তু শীতকালে বাস টাইমটেবিল মেনে চললে সূর্যও পশ্চিম দিকে উঠবে। অগত্যা, ওই ঠান্ডায় ঝোড়ো হাওয়াই দাঁড়িয়ে কাঁপাই তখন ভবিতব্য। এই সমস্ত ব্যাপারগুলো নিয়ে আমার কিন্তু কারো কাছে কোনো অভিযোগ নেই, প্রতিদিনের জীবনের সাধারণ ঘটনা এগুলো। কিন্তু আমি এই কথাগুলো, তাদের জন্যই বলছি, যারা কথায় কথায় আমায় (আমার মতো প্রবাসী বন্ধুদের) বলেন, 'তোদের তো সুখের শেষ নেই', কারণ আমি/আমরা উন্নত দেশে থাকি। উন্নত দেশ এই কারণেই হয়তো বলা হয়, এখানে জীবন যাত্রার মান উন্নত, কিন্তু সব কিছুই সহজলভ্য, এমন নয়।

এই প্রসঙ্গে, আমি UK-র National Health Service (NHS)-এর কথা বলি। আমাদের দেশের মতো পয়সা দিয়ে চিকিৎসা কেনা যায় না বলে, আমি যে বিপদে পড়েছিলাম, সেই কথাটা একটু জানাই। আমার বাবা মা এসেছিলেন, আমার কাছে। এখানে private medical service খুঁজে পাওয়া খুব মুশকিল, যদিও বা আছে, তার জন্যও প্রচুর নিয়ম কানুন। UK-র বাসিন্দা অথবা UK-র ভ্রমণার্থী সকলকেই NHS-এর শরণাপন্ন হতে হয়। এখানে টাকা দিয়ে আপনি কোনো সুবিধা করতে পারবেন না। হটাৎ করে কোনো pharmacy-তে গেলেন, আর বললেন, 'আমায় এই এই ওষুধ দাও, আমার ব্লাড টেস্ট করে দাও', কোনোটাই হবে না। এখানে আসার পর, আমার বাবা জ্বরে পড়েন। আমি ৪-বার তাঁকে NHS centre নিয়ে গেছি, প্রতিবারই আমাদের কথা মন দিয়ে তারা শুনেছেন, কিন্তু কিছুতেই তাদের মনে হয়নি, ব্লাড টেস্ট করা জরুরি, তাই ৩ সপ্তাহের জ্বরের পরেও কোনো ব্লাড টেস্ট না করেই বাবাকে দেশে ফিরতে হয়েছিল। যদিও জানি, NHS একজন গৃহহীনকে যেভাবে চিকিৎসা দেবে, একজন মন্ত্রীকেও সেই একই রকমেরই পরিষেবা দেবে, টাকা দিয়ে চিকিৎসা যেহেতু এই দেশে হয়না, তাই সবাই সমান, কিন্তু বাবার শরীর খারাপের মধ্যে NHS system-এর উপর প্রচন্ড রাগ হচ্ছিলো, একটা অসহায়তা কাজ করছিলো যে আমি এদেরকে বোঝাতেই পারলামনা, আমার বাবা tropical country থেকে এসেছেন, ৩ সপ্তাহ জ্বর থাকলে, ব্লাড টেস্ট করা ভীষণ জরুরি।
তাই, উন্নত দেশ মানে হয়তো গরিব বড়োলোকের পরিষেবার পাওয়ার সম্যতা, পয়সা দিয়ে চিকিৎসা কেনা  নয়।

এবার একটু আসি, ঘরের ভিতরের জীবনযাত্রাতে। এখানে 'undergrad'-এর ছেলে মেয়েরা হোস্টেলে থাকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, তবে এটা ভাবার কোনো কারণ নেই, 'ওমা ছেলে মেয়ে একসাথে, হায় রাম, ইসস ছিঃ ছিঃ'। এখানে আপনি দরজা বন্ধ করে থাকলে কেউ আপনাকে জ্বালাতে আসবে না, কেউ কারো প্রতি আসক্তি দেখাতেই পারে, কিন্তু ওপরপক্ষ উৎসাহ না দেখলে, দ্বিতীয়বার বিরক্ত করতে আসবে না। দেশের ভাষায় যাকে বলে পিছনে লাগা, সেইটা কেউ করবেনা। তেমনি আপনি 'bar' গিয়ে simple জল নিয়ে বসে থাকলেও বিষ্ময় দেখাবেনা কেউ বরং কোনো ভারতীয় আপনাকে দেখলে  তাচ্ছিল্য করতে পারে।

'Undergrad'-এ যদিবা হৈ-হুল্লোড় করে বেনিয়মে চলে, আমরা Graduate student-রা তো almost staff chategory পড়ি। নিজেদের মতো বাড়ি ভাড়া করে থাকি । ৯-৫তা অফিস যাই।রোজকার sign-এর ব্যাপার নেই, কিন্তু কেউ কামাই করেনা, নিজের কাজ নিজে মুখ বুঝে করে যাওয়াটাই দস্তুর। পাশে বসা লোকটার পরিচয়-ও জানিনা। সবাই নিজের কাজ নিয়ে মগ্ন। তা বলে কি কথা হয়না? হয়, হয়তো কোনো get together হলো institute থেকেই, তখন হয়তো ৬মাস পর, পাশে বসা লোকটার নাম জানা গেলো। আমি যে অফিসে বসি, সেখানে মোটামুটি ৫০ জন বসেন, আমি মেরে কেটে ১০জনের নাম জানি।
তাহলে কি, এখানকার মানুষ social নয়? হয়তো নয়, কিন্তু তাতে কোনো সমস্যা নেই। আমাদের দেশে, নাম ধাম জেনে কে কার অসুবিধায় এগিয়ে আসে? মেকি সহানুভূতি দিখিয়ে যান অনেকেই, কিন্তু সত্যিকারের সাহায্য খুব কম লোকেই করে।এখানে আমার নাম না জানলেও, আমায় কেউ অসুবিধায় দেখলে জিজ্ঞেস করে যায়, Is everything alright? May I help you somehow?

আরো অনেক কিছু লেখার ছিল, কিন্তু ঘুমানোর সময় হয়ে গেলো, তাই reserch সংক্রান্ত দু-একটি কথা বলে এই লেখাটার পরিসমাপ্তি করি।

এখানে আসার আগে, আমি দেশের অগ্রগণ্য 'technological institute' গুলোর একটির student ছিলাম। সেখানে কিছু লোকজনের অদ্ভুত ধারণা ছিল। সেখানে অনেকেই বলতো, বাইরেতো কোনো কাজই করতে হয়না, তাই ৩ বছরে phd শেষ হয়ে যায়, কোনো Data নিজে নিতে হয়না, technician-রা সব করে হাতে ধরিয়ে দেয় result।
এটা একদমই সত্যি নয়! এদেশে এসে আমি দেখেছি, শুধু reserch নয়, reserch সংক্রান্ত সমস্ত কাজ নিজেকেই করতে হয়, যেমন laboratory ধোয়া মোছাও (যেটা দেশে কিন্তু আমি করিনি তেমন)।তবে শুধু আমরা নই, আমাদের প্রফেসরাও সেই কাজে নির্দ্বিধায় যোগ দেন।

আগে আমি English-এ কথা বলতে ভয় পেতাম, আমি মুখ খুললেই কেউ না কেউ ভুল ধরিয়ে দেওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকতো।ভুল ধরিয়ে দেয়া খারাপ নয়, কিন্তু সেটা যখন উৎসাহের থেকে বেশি নিরুৎসাহিত করে, সেখানেই মুশকিল। অথচ এখানে এসে দেখলাম, আমরা ভারতীয়রা অনেক European, Chinese, Iraqi দের থেকে বেশ ভালোই কথা বলি (এটাও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, তথ্যগত নয় )। আর কেউ ভুল বললেও ওপর পক্ষ রে রে করে তেড়ে আসেনা, ভুল বলতে বলতেই শিখে যায়।

UK-তে research করে আমি আহামরি কিছু achieve করিনি, দেশে থাকলেও হয়তো এমন কিছুই করতাম।আমি যেটা অর্জন করেছি, সেটা অভিজ্ঞতা আর আত্মবিশ্বাস।এবং সেই দুটো আমার কাছে দামি। চাকরি পাওয়া আমার জন্য সহজ নয় (যারা ভাবেন খুব সহজ, তাদের অবগতির জন্য বলা!) কিন্তু আমি বিশ্বাস করি আমার অভিজ্ঞতা (not only related to research but about life) যেকোনো কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও আমাকে হতাশা থেকে বাঁচাবে এবং আত্মবিশ্বাস আমাকে ভবিষ্যতের লড়াইয়ের জন্য শক্তি যোগাবে।

'নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিশ্বাস, ওপারেতে সর্ব সুখ আমার বিশ্বাস'-এই চিন্তা ধারায় আমি কখনোই বিশ্বাসী ছিলাম না। আমি মনে করি অন্যে সুখে আছে ভেবে হা হুতাশ না করে নিজেকে কি করে সমৃদ্ধ করা যায়, সেই চেষ্টাই করা উচিত।
কিন্তু যারা ওই চিন্তাধারায় বিশ্বাসী, তাদের জন্যই এই লেখাটা। কারো জীবনই সহজ নয়, তাই খামোকা predict না করে  একটু উন্মুক্তমনা হয়ে ভাবার চেষ্টা করা ভালো।

বিঃ দ্রঃ জানি একটু আক্রমণাত্মক লেখা লিখে ফেললাম, কিন্তু লোকজনের ভুলভাল কথা শুনতে শুনতে, মনে মনে একটু উত্তেজিত হয়তোবা হয়ে পড়েছিলাম। সেই কারণে, মাকেও একদিন বলে ফেলেছিলাম, মা আমার বিয়ের জন্য ছেলে দেখলে এমন ছেলে দেখো, যে অন্তত ২-৩মাসের জন্য হলেও বাইরে এসে নিজে রেঁধে বেড়ে খেয়ে কাজকর্ম করে গেছে।     

Wednesday, 14 September 2016

এগারো বছর পর

পাঁচ সাত নাকি এগারো
কবে প্রথম দেখা হয়েছিল
মনে পড়ে কি, এখনো?

স্কুলের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে
অপেক্ষায় থাকতাম তোর
বুঝতে কি পেরেছিলি, কখনো?

কখনো বা রাস্তার মোড়ে
আটকে রাখতাম তোকে
কবিতা কিম্বা রাজনীতির অজুহাতে।

সাইকেল করে বাড়ি ফেরার পথে
গান শোনাতাম, তোরও কি কিছু
ভালোলাগা মিশেছিল তাতে?

অথবা সেই বৃষ্টি মাথায় পড়তে যাওয়া
সে তো ছিল কেবল তোকে
একটিবার দেখতে চাওয়ার ছুঁতো।

সাইন্স ল্যাবের ক্লাস আলাদা
রাগ হতো খুব।
এখন ভাবি, ইস, যদি একসাথে হতো।

তারপর সেই হারিয়ে গেলি,
বলা হলো না সেসব কথা
অজস্র সব আঁকিবুকি, ভাবনা আমার।

পেরিয়ে গেলো অনেক বছর
এখন যদি হটাৎ করে
ডাকি তোকে, আসবি আবার?

বিঃ দ্রঃ এই লেখাটা এক বন্ধুর ফরমায়েশে লেখা, প্রথমবার চেষ্টা করছি কারো হয়ে ভাবতে, ঠিকঠাক তার ভাবটা প্রকাশ করতে পারলাম কিনা, বুঝতে পারলাম না। পরীক্ষায় পাস করলাম কিনা, সেটা জানার অপেক্ষায় থাকলাম। 

শিকার

একসাথে থাকলেই কি বন্ধু হওয়া যায়?
সে তো সিংহ আর হরিণ একবনেই থাকে।
মাঝে সাঝে সিংহ যে খেলা করেনা
হরিণশিশুর সাথে, তা নয়।
কিন্তু ওটা কেবলমাত্র খেলাই।
খেলা শেষে সিংহের খিদে পেলে,
হরিণশিশুর কিন্তু রেহাই নেই।

তার থেকে বরং ভালো হতো
সিংহ যদি বন্ধুত্বের ভেক  না ধরতো।
প্রানপন দৌড় করতো,
যতক্ষন না হরিণের শ্বাস আটকে যায়,
বাঁচার আশা শেষ হয়ে যায়।

বেচারা হরিণশিশু, ঘাড়ে তীক্ষ্ন দাঁতের
স্বর্শ পাওয়ার আগে অবধি বুঝতেই পারলো না
যাকে সে বন্ধুত্বের স্বাদ ভেবেছিলো,
সে তো খালি তাকে রক্তের স্বাদের জন্য
জিইয়ে রেখেছিলো।

খাদ্য খাদকের সম্পর্কে
অযথা ভালোবাসার রং চড়িয়ে কি লাভ?

লেখার উৎসাহটা পেয়েছি, অনেকদিন আগের একটা বাস্তব ঘটনা থেকে, কৌতূহলীদের জন্য খুঁজে পেতে লিংক টাও দিয়ে দিলাম।
তবে ছদ্দ্ব ভালোবাসার কাহিনীর সাথেও মন্দ যায় না। লেখার সময় আসলে সেই মিলটাই মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিলো
http://www.livescience.com/34279-lioness-baby-antelope-kob.html

সুর

তোমাকে অনেক গল্প
বলতে ইচ্ছে করে।
বলতে পারিনা,
ভয় লাগে বড্ডো।
যে তারটা বাধঁছিলাম
তোমার জন্য,
সেটা যদি বেসুরো হয়ে যায় হটাৎ!

গল্পগুলোতো রূপকথা নয়,
তাই শুনতে শুনতে
ঘুমিয়ে পড়বে
তারও উপায় নেই।
বরং জেগে থাকতে পারো,
অনেককটা রাত।

তোমার মায়াবী রাত গুলোকে
নিষ্ঠূর কর্কশ বানাতে
ইচ্ছে করে না।
তাই স্বপ্ন ভাঙ্গার কষ্ট
সেটা নয় আমার কাছেই থাক।

Monday, 12 September 2016

নারীবাদ?

আজ আনন্দবাজারে অমিতাভ বচ্চনের সাক্ষাৎকার পড়লাম। দুটো কথা বেশ মনে দাগ কেটেছে।
১. ঢোল, গওয়ার, শুদ্র, পশু, নারী, ইয়ে সব তাড়নকে অধিকারী। কী অসম্ভব বিদ্বেষমূলক একটা মন্তব্য। অথচ যুগ যুগ ধরে চলছে।
২. ‘পিঙ্ক’ রিলিজ হতে দিন। দেখবেন মহিলাদের ছোট করে পার্টিফার্টিতে হাসিমশকরা আর তাদের পিছনে লাগাটা বন্ধ হয়ে যাবে।

অত্যন্ত অশাদায়ক কথা। কিন্তু একই সঙ্গে পরস্পরবিরোধী। একবার বলা হলো যে নারীদের (এই লেখাতে শুধুমাত্র নারীদের নিয়েই বলছি, তাই বাকিগুলো উল্লেখ করলাম না) প্রতি বিদ্বেষ যুগ যুগ ধরে চলছে আর পরক্ষনেই বলা যে একটি সিনেমা পুরো পরিস্থিতি বদলে দেবে! ফিল্মী ডায়লগ হিসাবে মন্দ নয়, কিন্তু বাস্তবসম্মত কি?

অনেকে আমাকে জিজ্ঞেস করেন আমি কি নারীবাদী, নারীদের নিয়ে আমার সচেতনতা তারা ঠিক বুঝতে পারেন না। কেউ কেউ অবশ্য চেষ্টা করেন, তাদেরকে ধন্যবাদ। এবার প্রশ্ন হলো আমি কি নারীবাদী? উত্তরটা জটিল নয় কিন্তু এক কথায় হ্যা বা নাও বলতে পারছিনা।
নারীস্বাধীনতা মানে যদি উচ্চবিত্ত ঘরের মেয়েদের সিগারেট মদ খাওয়ার অধিকার হয়, polygamy-র স্বাধীনতা হয়, তাহলে না, আমি মোটেই নারীবাদী নয়। প্রথমকথা, আমি ব্যক্তিগতভাবে সিগেরেট বা মদ্যপানের বিরোধী হলেও কারোর খাওয়া নিয়ে আমার কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। আমি এটাকে, 'ওরে বাবা, একি অনাছিষ্টি' ভাবিনা, তেমনি এর মধ্যে 'Hey Dude, be cool' মার্কা কোনো আহামরি ব্যাপারও দেখিনা। ছেলেরা যেটা করছে সেটা আমাকে করে ওদের মতোই হতে হবে, এর মধ্যে প্রতিযোগীতা থাকতে পারে, স্বাধীনতা আছে কি?
আর polygamy ছেলেদের জন্য biologically খুব স্বাভাবিক ঘটনা, মেয়েদের জন্য নয়।
কাজেই সেই 'Hey dude, I am cool' দেখানোর জন্য অনেকের শয্যাসঙ্গিনী হওয়ার মধ্যে সার্থকতা নেই। এবার কারো যদি সেটা ব্যক্তিগত পছন্দের ব্যাপার হয়, কারো দ্বারা প্রভাবিত না হয়েই, শুধুমাত্র নিজের ইচ্ছে হয়, সে ক্ষেত্রে, আমার কোনো বক্তব্য নেই।
প্রসঙ্গত উলেখ্য, শারীরিক সুস্বাস্থ্যের জন্য নারী পুরুষ নির্বিশেষে monogamy তে বিশ্বাসী হওয়ায় শ্রেয়।

এবার উক্ত ঘটনা বাদে নারীর অধিকার সংক্রান্ত দাবিদাওয়া, যেমন একটা মেয়েকে জন্মাতে দেয়ার অধিকার, একটা মেয়েকে স্কুলে পড়তে দেয়ার অধিকার, একটা মেয়েকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে দেয়ার অধিকারের জন্য গলা ফাটালে সেটা যদি নারীবাদ হয়, তাহলে আমি ভীষণ ভাবে নারীবাদী। আর যে দেশে, প্রতিদিন লাখ লাখ মেয়ে জন্মানোর আগেই মরে যায়, যে দেশে প্রতিনিয়ত ধর্ষিতারা ওড়নায় মুখ লুকায় আর ধর্ষক বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায়, সে দেশের শুধু মেয়েরা নয়, যে কোনো সংবেদনশীল মানুষেরই নারীবাদী হওয়া উচিত।
এই নারীবাদী শব্দটার মানে কিন্তু চশমা পরে হাতে ঝান্ডা নিয়ে প্রতিবাদসভায় বসা নয়, হ্যা সেটাও দরকার কোনো কোনো চরম পরিস্থিতিতে, কিন্তু প্রথমত নারীবাদ মানে আমি বুঝি একটা অনুভূতি, প্রতিমুহূর্তে দেশে দেশে যত মেয়েরা লাঞ্ছিত হচ্ছে, তাদের জন্য কিছু, ভালো কিছু করার ইচ্ছেটা হলো নারীবাদ। অসহায় মেয়েদের পাশে দাঁড়ানোটা হলো নারীবাদ, এমনকি কোনো স্বামী যদি তার স্ত্রীকে জীবনে চলার পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেন, তাহলে আজকের এই সামাজিক পরিস্থিতির সামনে দাঁড়িয়ে, সেটাও নারীবাদ। একজন মানুষ আর একজনকে সাহায্য করলে সেটা মানবতা হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু বৃহত্তর সমাজ মেয়েদেরকে তো মানুষ হিসাবেই মনে করে না। কাজেই একজন বিপরীত লিঙ্গের মানুষ যদি নারীকে যোগ্য মনে করেন, তাহলে তাকে নারীবাদীই বলতে হয়।
মেয়েরা শারীরিক সক্ষমতায় পুরুষদের সমান হতে পারবে না (খেলোয়াড়দের কথা আলাদা), আবার মেয়েরা যে কাজ করতে পারবে সেটা ছেলেদের পক্ষেও করা সম্ভব নয়। তাই নারীকে সর্বক্ষেত্রেই পুরুষের সমান হতে হবে এই ভাবনা বোধহয় সমস্যার সমাধান করতে পারবে না, যেটা করবে সেটা একটা প্রতিযোগিতা হবে, সেটা একটা ক্ষোভের জন্ম দেবে। বরং যদি ভাবা যায়, দুজন দু রকমের মানুষ, কেউ কারো মতো হতেও পারবে না, হওয়ার চেষ্টাও করতে হবে না, বরং দুই পক্ষই একে অপরকে বুঝুক, একে ওপরকে সম্মান করুক, তাহলে বোধহয় এই বিভাজনটা কিছুটা মিটতে পারে।
'আরে তুই মেয়ে, তুই তোর দাদার মতো থোড়ি না হতে পারবি?' এই কথাটা বলার কি দরকার? এই কথাটাতো দাদার প্রতি হিংসার জন্ম দেবে, নিজে মেয়ে হওয়ার জন্য হতাশা জন্ম দেবে, পরে সে যখন মা হবে, তখন সে নিজের মেয়ের মধ্যেও এই হতাশাকে সঞ্চারিত  করবে। তার থেকে যদি বলা যেত, 'তুমি তোমার মতো, তুমি যেটা পারো সেটা করো, দাদার সাথে তুলনারই দরকার নেই', তাহলে মেয়েটা বোধহয় মেয়ে হওয়ার জন্য দুঃখ পেতোনা।

আমি জানি আমার এই সব কথায় কিছুই পরিবর্তন হবে না, যুগ যুগ ধরে যে বৈষম্য রক্তে মিশে গেছে, যে বিদ্বেষ মিশে গেছে, একটা লেখা বা একটা সিনেমা সেই বিদ্বেষ সেই বৈষম্য কিছুই মেটাতে পারবে না। কিন্তু বড্ডো অসহায় লাগে যখন প্রতিদিন খবরের কাগজ খুললেই দেখি, অ্যাসিড আক্রমণে একটা ফুটফুটে মেয়ে সৌন্দর্যের সাথে সাথে মনোবল হারিয়েছে, নবজাতিকাকে কুকুরে ছিঁড়ে খেয়েছে, কন্যাভ্রূণ হত্যার ঘটনা শহরাঞ্চলে বেড়ে গেছে আর তার অবসম্ভাবী ফলস্বরূপ কন্যাপাচার। (মেয়ে আমি চাই না চাই, বৌ (read, যৌনকর্মী ) ছাড়া কি চলে? )

তবুও ভাবতে ভালো লাগে, অমিতাভ বচ্চনের ফিল্মি ডায়ালগ বিশ্বাস করতে খুব ইচ্ছে করে, 'পিঙ্ক' মুক্তি পেলেই পরিস্থিতি পাল্টে যাবে।
কিছুই পারিনা করতে, তবুও যদি একজনকেও নারীবাদী বানাতে পারে আমার এই লেখা তবেই আমার সার্থকতা, নারীবাদী হিসাবে। 

বিঃ দ্রঃ ঢোল, গওয়ার, শুদ্র, পশু নিয়ে অন্য একদিন আলোচনা করবো ।

Wednesday, 7 September 2016

অনু রূপকথা

রাজপুত্রকে পৌছাতে হবে রাজকন্যার কাছে। পথে অনেক বাধা, অনেক রাক্ষস খোক্ষস সামলে রাজপুত্র তো পৌছালো রাজকন্যার কাছে, কিন্তু বিধি বাম; রাজকন্যা নিজেই এক ঝঞ্ঝাট। সে তার অভিমানের ডালা সাজিয়ে বসে আছে। রাজপুত্রের যে পৌছাতে পৌছাতে এক যুগ পেরিয়ে গেছে!এতো দিনের অভিমান একদিনে কি মেটে? কিন্তু তাতে কি? আমাদের রাজপুত্র কি এতো অল্পে ঘাবড়ে যাওয়ার মানুষ?
না; মানুষ হলে তো ঘাবড়েই যেতো, রাজপুত্র বলেই ঘাবড়ায়নি। সাত সুমদ্র তেরো নদী সে পার করলো, আর রাজকন্যার মনের আঁধারটুকু সে ভাঙ্গতে পারবে না?
পারবে সে নিশ্চয়, রূপকথাগুলো হারিয়ে যাচ্ছে, সেগুলো বাঁচিয়ে রাখা দরকার।  আর তাইতো গল্পের শেষে রাজপুত্র সিংহাসন পায় আর রাজকন্যা হয় তার রানী।

যে রূপকথায় কাঁদে চোখ, সে রাজা রানীর ভালো হোক। । 

পড়া এবং পড়ানোর পাঁচকাহন।

  ছাত্র ছাত্রীদের "Electrostatics & Magnetostatics" পড়ানোর জন্য এই বইগুলো নিয়ে বসেছিলাম। একেই বলে জাহির করা। 🤭 "দেখো M...