গতকাল আনন্দবাজার রবিবাসরীয়তে 'শুভময় মিত্র'-র বিলেত ভ্রমণ সংক্রান্ত লেখা পড়লাম। 'জাস্ট যাচ্ছি' আমার এমনিই পড়তে ভালো লাগে, তার উপর ওঁনার গতকালের লেখাটা ছিল বিলেতের জীবন নিয়ে, তাই আরও একাত্ম হয়ে পড়লাম। ওঁনার লেখা কখনোই তথাকথিত ভ্রমণ কাহিনী হয় না, কতগুলো দ্রষ্টব্য স্থান দেখে বর্ণনামূলক কাহিনী উনি লেখেন না, উনি সেই জায়গাটার স্পন্দনটা তুলে ধরেন, সেই কারণেই ওঁনার লেখা আমায় আকৃষ্ট করে। আমার প্রবাস জীবন নিয়ে অনেকেরই কৌতূহল আছে, তাই twitter-এ ওঁনার লেখাটা share-ও করে দিলাম।
তারপর মনে হলো, প্রবাসের ছাত্রজীবন নিয়ে আমিও কিছু সংযোজন করতে পারি। আমার পরিচিত অনেকজনের প্রবাস জীবন নিয়ে অনেক ভ্রান্ত ধারণা আছে এবং সেই ধারণা আবার তাঁরা প্রবাহিত করেন আরো অনেক লোকজনের মাঝে। তাঁদের সেই ভ্রান্তধারণা খুব একটা বদলাবে কি? জানি না। তবুও কিছু কথা জানানোর ইচ্ছে থেকেই এই লেখার অবতারণা।
আমার লেখাটা পড়ার আগে, এই লেখাটি পড়ে নেয়া যেতে পারে।
Story of a vagabond and a police - Anandabazar http://www.anandabazar.com/supplementary/rabibashoriyo/story-of-a-vagabond-and-a-police-1.479800
------
আমি যখন এদেশে আসি, তখন জানতাম, এদেশে নিজে রেঁধে খেতে হয়, তাতে আমি খুশি ছিলাম, অন্তত হোস্টেল-র ওই জঘন্য খাবার তো খেতে হবে না, খেতে খারাপ হলেও আমারই রান্না, ভালো হলেও তাই। কিন্তু এদেশে এসে, জানলাম, শুধু রান্না নয়, জুতো সেলাই থেকে চন্ডীপাঠ সবটাই নিজেকেই করতে হয়। এখানে শ্রমজীবীদের পারিশ্রমিক যথেষ্ট চড়া, তাই একমাত্র 'রাজা-রানী' বাদে কেউ-ই 'helping hand' রাখতে পারেন না। সাধারণ মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত, সকলকেই নিজের গাড়ী নিজেকেই চালাতে হয়, ঘর দোর সাফ সাফাই, রং করা, বাগান পরিষ্কার সমস্ত কিছু নিজের হাতে করতে হয়। এমনকি নিজের বাড়ি extension নিজেই করছেন, সেটাও আমি দেখেছি। কাজেই কাউকে দোষারোপ করার সংস্কৃতি এখানে একদমই নেই, 'কিরে মালতী ওই জায়গাটায় ধুলো কেন?', এখানে আসলে একথা বলার সুযোগ আপনি হারাবেন। আমার এই কর্মসংস্কৃতিতে মানাতে অসুবিধা হয়নি, কারণ বেশ ছোট থেকেই আমি নিজের কাজ নিজেই করতাম, তার উপর প্রায় ১০ বছর হতে চললো, আমি বাড়ির বাইরে আছি। তাই নিজের room-এর light ঠিক করার জন্য ladder চড়তে হলে আমি দুঃখ পাই না, বরং নিজের প্রতিটা কাজ নিজে করছি বলে, স্বাবলম্বী হওয়ার আনন্দটা পাই।
আগে আমি English-এ কথা বলতে ভয় পেতাম, আমি মুখ খুললেই কেউ না কেউ ভুল ধরিয়ে দেওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকতো।ভুল ধরিয়ে দেয়া খারাপ নয়, কিন্তু সেটা যখন উৎসাহের থেকে বেশি নিরুৎসাহিত করে, সেখানেই মুশকিল। অথচ এখানে এসে দেখলাম, আমরা ভারতীয়রা অনেক European, Chinese, Iraqi দের থেকে বেশ ভালোই কথা বলি (এটাও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, তথ্যগত নয় )। আর কেউ ভুল বললেও ওপর পক্ষ রে রে করে তেড়ে আসেনা, ভুল বলতে বলতেই শিখে যায়।
বিঃ দ্রঃ জানি একটু আক্রমণাত্মক লেখা লিখে ফেললাম, কিন্তু লোকজনের ভুলভাল কথা শুনতে শুনতে, মনে মনে একটু উত্তেজিত হয়তোবা হয়ে পড়েছিলাম। সেই কারণে, মাকেও একদিন বলে ফেলেছিলাম, মা আমার বিয়ের জন্য ছেলে দেখলে এমন ছেলে দেখো, যে অন্তত ২-৩মাসের জন্য হলেও বাইরে এসে নিজে রেঁধে বেড়ে খেয়ে কাজকর্ম করে গেছে।
তারপর মনে হলো, প্রবাসের ছাত্রজীবন নিয়ে আমিও কিছু সংযোজন করতে পারি। আমার পরিচিত অনেকজনের প্রবাস জীবন নিয়ে অনেক ভ্রান্ত ধারণা আছে এবং সেই ধারণা আবার তাঁরা প্রবাহিত করেন আরো অনেক লোকজনের মাঝে। তাঁদের সেই ভ্রান্তধারণা খুব একটা বদলাবে কি? জানি না। তবুও কিছু কথা জানানোর ইচ্ছে থেকেই এই লেখার অবতারণা।
আমার লেখাটা পড়ার আগে, এই লেখাটি পড়ে নেয়া যেতে পারে।
Story of a vagabond and a police - Anandabazar http://www.anandabazar.com/supplementary/rabibashoriyo/story-of-a-vagabond-and-a-police-1.479800
------
আমি যখন এদেশে আসি, তখন জানতাম, এদেশে নিজে রেঁধে খেতে হয়, তাতে আমি খুশি ছিলাম, অন্তত হোস্টেল-র ওই জঘন্য খাবার তো খেতে হবে না, খেতে খারাপ হলেও আমারই রান্না, ভালো হলেও তাই। কিন্তু এদেশে এসে, জানলাম, শুধু রান্না নয়, জুতো সেলাই থেকে চন্ডীপাঠ সবটাই নিজেকেই করতে হয়। এখানে শ্রমজীবীদের পারিশ্রমিক যথেষ্ট চড়া, তাই একমাত্র 'রাজা-রানী' বাদে কেউ-ই 'helping hand' রাখতে পারেন না। সাধারণ মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত, সকলকেই নিজের গাড়ী নিজেকেই চালাতে হয়, ঘর দোর সাফ সাফাই, রং করা, বাগান পরিষ্কার সমস্ত কিছু নিজের হাতে করতে হয়। এমনকি নিজের বাড়ি extension নিজেই করছেন, সেটাও আমি দেখেছি। কাজেই কাউকে দোষারোপ করার সংস্কৃতি এখানে একদমই নেই, 'কিরে মালতী ওই জায়গাটায় ধুলো কেন?', এখানে আসলে একথা বলার সুযোগ আপনি হারাবেন। আমার এই কর্মসংস্কৃতিতে মানাতে অসুবিধা হয়নি, কারণ বেশ ছোট থেকেই আমি নিজের কাজ নিজেই করতাম, তার উপর প্রায় ১০ বছর হতে চললো, আমি বাড়ির বাইরে আছি। তাই নিজের room-এর light ঠিক করার জন্য ladder চড়তে হলে আমি দুঃখ পাই না, বরং নিজের প্রতিটা কাজ নিজে করছি বলে, স্বাবলম্বী হওয়ার আনন্দটা পাই।
কাজেই পায়ের উপর পা তুলে চায়ের আড্ডায় বসে, যারা বলেন ও দেশ সুখের দেশ, তাহলে বলি, এদেশ তাদের জন্যই সুখের যারা নিজের কাজ নিজে করতে ভালোবাসেন।
তবে, দেশে থাকা লোকজনের ভুল ধারণা হওয়ার পিছনে আমাদেরও কিছু দোষ আছে। আমরা, যারা বাইরে থাকি তারা facebook-এ সবুজ country side এর ছবি দিই, শীতকালে বরফের মধ্যে লুটোপুটি করার ছবি দিই, বন্ধুদেরদের সাথে house party করার ছবি দিই, কিন্তু জানাইনা, অনেকক্ষনের driving-এর ক্লান্তির কথা, বরফের মধ্যে দৈনন্দিন জীবনযাপনের অসুবিধার কথা আর party শেষে বাড়িঘর ধুয়ে মুছে সাফ করার কথা।
এখানে public transport একদমই সস্তা নয়, তাই বেশিরভাগ লোকজনদেরই গাড়ি কিনতে হয়, বাজারঘাট করার জন্য। আপনি হাঁক দিলেন, ১০ তা রিকশা পেয়ে গেলেন, সে উপায় এখানে নেই।তবুও বলবো, UK-র public transport অনেক ভালো US-র থেকে (শোনা কথা, আর আমি কিন্তু প্রধান শহরের কথা বলছিনা, সবাই London বা Newyork তো থাকেন না)। আমার US নিবাসী বন্ধুদের সকলকেই প্রায় গাড়ী কিনতে হয়েছে, বিলাসিতার জন্য নয়, দরকারের জন্য। নইলে হয়তো কয়েক কিলোমিটার হেঁটে আসতে হবে, বাজারের ব্যাগ নিয়ে। আমার গাড়ি নেই, আমাকে প্রায়ই ৫/৭ কেজি জিনিসপত্র নিয়ে ১/২ কিলোমিটার হাঁটতে হয়। এটা এখানে খুব স্বাভাবিক ব্যাপার, অত্যন্ত বৃদ্ধ বয়স্ক মানুষজন যখন নিজের জন্য নিজেই জিনিসপত্র কিনে টুকটুক করে হেঁটে যান, তখন নিজের জন্য নয় বরং ওঁনাদের জন্য খারাপ লাগে।
বরফ না থাকলে অবশ্য হাঁটতে কোনো অসুবিধা হয়না। কিন্ত শীতের ঝোড়ো হওয়ার মধ্যে পিচ্ছিল বরফের উপর দিয়ে বাজারের ব্যাগ নিয়ে আসতে ভারী কষ্ট হয়। তার থেকেও কষ্ট হয়, যখন আছাড় খেতে খেতে বাস স্ট্যান্ডের প্রায় কাছে পৌঁছে দেখলাম, বাসটা চোখের সামনে দিয়ে চলে গেলো, অথচ দৌড়ে গিয়ে ধরবো, তার উপায় নেই, কারণ দৌড়াতে গেলে নির্ঘাত বাজার, আমি, ব্যাগ শুদ্ধ চিৎপটাং হবো। পরের বাসটা, লেখা যদিও আছে ৩০ মিনিট পর কিন্তু শীতকালে বাস টাইমটেবিল মেনে চললে সূর্যও পশ্চিম দিকে উঠবে। অগত্যা, ওই ঠান্ডায় ঝোড়ো হাওয়াই দাঁড়িয়ে কাঁপাই তখন ভবিতব্য। এই সমস্ত ব্যাপারগুলো নিয়ে আমার কিন্তু কারো কাছে কোনো অভিযোগ নেই, প্রতিদিনের জীবনের সাধারণ ঘটনা এগুলো। কিন্তু আমি এই কথাগুলো, তাদের জন্যই বলছি, যারা কথায় কথায় আমায় (আমার মতো প্রবাসী বন্ধুদের) বলেন, 'তোদের তো সুখের শেষ নেই', কারণ আমি/আমরা উন্নত দেশে থাকি। উন্নত দেশ এই কারণেই হয়তো বলা হয়, এখানে জীবন যাত্রার মান উন্নত, কিন্তু সব কিছুই সহজলভ্য, এমন নয়।
এই প্রসঙ্গে, আমি UK-র National Health Service (NHS)-এর কথা বলি। আমাদের দেশের মতো পয়সা দিয়ে চিকিৎসা কেনা যায় না বলে, আমি যে বিপদে পড়েছিলাম, সেই কথাটা একটু জানাই। আমার বাবা মা এসেছিলেন, আমার কাছে। এখানে private medical service খুঁজে পাওয়া খুব মুশকিল, যদিও বা আছে, তার জন্যও প্রচুর নিয়ম কানুন। UK-র বাসিন্দা অথবা UK-র ভ্রমণার্থী সকলকেই NHS-এর শরণাপন্ন হতে হয়। এখানে টাকা দিয়ে আপনি কোনো সুবিধা করতে পারবেন না। হটাৎ করে কোনো pharmacy-তে গেলেন, আর বললেন, 'আমায় এই এই ওষুধ দাও, আমার ব্লাড টেস্ট করে দাও', কোনোটাই হবে না। এখানে আসার পর, আমার বাবা জ্বরে পড়েন। আমি ৪-বার তাঁকে NHS centre নিয়ে গেছি, প্রতিবারই আমাদের কথা মন দিয়ে তারা শুনেছেন, কিন্তু কিছুতেই তাদের মনে হয়নি, ব্লাড টেস্ট করা জরুরি, তাই ৩ সপ্তাহের জ্বরের পরেও কোনো ব্লাড টেস্ট না করেই বাবাকে দেশে ফিরতে হয়েছিল। যদিও জানি, NHS একজন গৃহহীনকে যেভাবে চিকিৎসা দেবে, একজন মন্ত্রীকেও সেই একই রকমেরই পরিষেবা দেবে, টাকা দিয়ে চিকিৎসা যেহেতু এই দেশে হয়না, তাই সবাই সমান, কিন্তু বাবার শরীর খারাপের মধ্যে NHS system-এর উপর প্রচন্ড রাগ হচ্ছিলো, একটা অসহায়তা কাজ করছিলো যে আমি এদেরকে বোঝাতেই পারলামনা, আমার বাবা tropical country থেকে এসেছেন, ৩ সপ্তাহ জ্বর থাকলে, ব্লাড টেস্ট করা ভীষণ জরুরি।
তাই, উন্নত দেশ মানে হয়তো গরিব বড়োলোকের পরিষেবার পাওয়ার সম্যতা, পয়সা দিয়ে চিকিৎসা কেনা নয়।
এবার একটু আসি, ঘরের ভিতরের জীবনযাত্রাতে। এখানে 'undergrad'-এর ছেলে মেয়েরা হোস্টেলে থাকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, তবে এটা ভাবার কোনো কারণ নেই, 'ওমা ছেলে মেয়ে একসাথে, হায় রাম, ইসস ছিঃ ছিঃ'। এখানে আপনি দরজা বন্ধ করে থাকলে কেউ আপনাকে জ্বালাতে আসবে না, কেউ কারো প্রতি আসক্তি দেখাতেই পারে, কিন্তু ওপরপক্ষ উৎসাহ না দেখলে, দ্বিতীয়বার বিরক্ত করতে আসবে না। দেশের ভাষায় যাকে বলে পিছনে লাগা, সেইটা কেউ করবেনা। তেমনি আপনি 'bar' গিয়ে simple জল নিয়ে বসে থাকলেও বিষ্ময় দেখাবেনা কেউ বরং কোনো ভারতীয় আপনাকে দেখলে তাচ্ছিল্য করতে পারে।
'Undergrad'-এ যদিবা হৈ-হুল্লোড় করে বেনিয়মে চলে, আমরা Graduate student-রা তো almost staff chategory পড়ি। নিজেদের মতো বাড়ি ভাড়া করে থাকি । ৯-৫তা অফিস যাই।রোজকার sign-এর ব্যাপার নেই, কিন্তু কেউ কামাই করেনা, নিজের কাজ নিজে মুখ বুঝে করে যাওয়াটাই দস্তুর। পাশে বসা লোকটার পরিচয়-ও জানিনা। সবাই নিজের কাজ নিয়ে মগ্ন। তা বলে কি কথা হয়না? হয়, হয়তো কোনো get together হলো institute থেকেই, তখন হয়তো ৬মাস পর, পাশে বসা লোকটার নাম জানা গেলো। আমি যে অফিসে বসি, সেখানে মোটামুটি ৫০ জন বসেন, আমি মেরে কেটে ১০জনের নাম জানি।
তাহলে কি, এখানকার মানুষ social নয়? হয়তো নয়, কিন্তু তাতে কোনো সমস্যা নেই। আমাদের দেশে, নাম ধাম জেনে কে কার অসুবিধায় এগিয়ে আসে? মেকি সহানুভূতি দিখিয়ে যান অনেকেই, কিন্তু সত্যিকারের সাহায্য খুব কম লোকেই করে।এখানে আমার নাম না জানলেও, আমায় কেউ অসুবিধায় দেখলে জিজ্ঞেস করে যায়, Is everything alright? May I help you somehow?
আরো অনেক কিছু লেখার ছিল, কিন্তু ঘুমানোর সময় হয়ে গেলো, তাই reserch সংক্রান্ত দু-একটি কথা বলে এই লেখাটার পরিসমাপ্তি করি।
এখানে আসার আগে, আমি দেশের অগ্রগণ্য 'technological institute' গুলোর একটির student ছিলাম। সেখানে কিছু লোকজনের অদ্ভুত ধারণা ছিল। সেখানে অনেকেই বলতো, বাইরেতো কোনো কাজই করতে হয়না, তাই ৩ বছরে phd শেষ হয়ে যায়, কোনো Data নিজে নিতে হয়না, technician-রা সব করে হাতে ধরিয়ে দেয় result।
এটা একদমই সত্যি নয়! এদেশে এসে আমি দেখেছি, শুধু reserch নয়, reserch সংক্রান্ত সমস্ত কাজ নিজেকেই করতে হয়, যেমন laboratory ধোয়া মোছাও (যেটা দেশে কিন্তু আমি করিনি তেমন)।তবে শুধু আমরা নই, আমাদের প্রফেসরাও সেই কাজে নির্দ্বিধায় যোগ দেন।
এটা একদমই সত্যি নয়! এদেশে এসে আমি দেখেছি, শুধু reserch নয়, reserch সংক্রান্ত সমস্ত কাজ নিজেকেই করতে হয়, যেমন laboratory ধোয়া মোছাও (যেটা দেশে কিন্তু আমি করিনি তেমন)।তবে শুধু আমরা নই, আমাদের প্রফেসরাও সেই কাজে নির্দ্বিধায় যোগ দেন।
আগে আমি English-এ কথা বলতে ভয় পেতাম, আমি মুখ খুললেই কেউ না কেউ ভুল ধরিয়ে দেওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকতো।ভুল ধরিয়ে দেয়া খারাপ নয়, কিন্তু সেটা যখন উৎসাহের থেকে বেশি নিরুৎসাহিত করে, সেখানেই মুশকিল। অথচ এখানে এসে দেখলাম, আমরা ভারতীয়রা অনেক European, Chinese, Iraqi দের থেকে বেশ ভালোই কথা বলি (এটাও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, তথ্যগত নয় )। আর কেউ ভুল বললেও ওপর পক্ষ রে রে করে তেড়ে আসেনা, ভুল বলতে বলতেই শিখে যায়।
UK-তে research করে আমি আহামরি কিছু achieve করিনি, দেশে থাকলেও হয়তো এমন কিছুই করতাম।আমি যেটা অর্জন করেছি, সেটা অভিজ্ঞতা আর আত্মবিশ্বাস।এবং সেই দুটো আমার কাছে দামি। চাকরি পাওয়া আমার জন্য সহজ নয় (যারা ভাবেন খুব সহজ, তাদের অবগতির জন্য বলা!) কিন্তু আমি বিশ্বাস করি আমার অভিজ্ঞতা (not only related to research but about life) যেকোনো কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও আমাকে হতাশা থেকে বাঁচাবে এবং আত্মবিশ্বাস আমাকে ভবিষ্যতের লড়াইয়ের জন্য শক্তি যোগাবে।
'নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিশ্বাস, ওপারেতে সর্ব সুখ আমার বিশ্বাস'-এই চিন্তা ধারায় আমি কখনোই বিশ্বাসী ছিলাম না। আমি মনে করি অন্যে সুখে আছে ভেবে হা হুতাশ না করে নিজেকে কি করে সমৃদ্ধ করা যায়, সেই চেষ্টাই করা উচিত।
কিন্তু যারা ওই চিন্তাধারায় বিশ্বাসী, তাদের জন্যই এই লেখাটা। কারো জীবনই সহজ নয়, তাই খামোকা predict না করে একটু উন্মুক্তমনা হয়ে ভাবার চেষ্টা করা ভালো।
বিঃ দ্রঃ জানি একটু আক্রমণাত্মক লেখা লিখে ফেললাম, কিন্তু লোকজনের ভুলভাল কথা শুনতে শুনতে, মনে মনে একটু উত্তেজিত হয়তোবা হয়ে পড়েছিলাম। সেই কারণে, মাকেও একদিন বলে ফেলেছিলাম, মা আমার বিয়ের জন্য ছেলে দেখলে এমন ছেলে দেখো, যে অন্তত ২-৩মাসের জন্য হলেও বাইরে এসে নিজে রেঁধে বেড়ে খেয়ে কাজকর্ম করে গেছে।
আমি বাড়ীর একমাত্র ছেলে হওয়ায় সত্যি তেমন ভাবে বাড়ীর বাইরে থাকা হয়নি । কিন্তু যখনই প্রথম সুযোগ টা এসেছিল সেটাকে আর হাতছাড়া করতে পারিনি। প্রথমে NCC Cadet হিসাবে যখন দেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত ছুটেছি, দিনের পর দিন পাহাড়ে, জঙ্গলে, সমুদ্রের তীরে Trekking করেছি মনের জোরটা অনুভব করেছি সেই তখন থেকেই ...। Army Training Schedule এ নিজের কাজ নিজে করাটাই দস্তুর ...। তাই নিজের কাজ নিজে করার ভূত টা তখন থেকেই ঢুকেছিল ।
ReplyDeleteএরপর এলাকার কলেজ ছেড়ে একটু ঊচ্চশিক্ষার আশায় কড়া নাড়লাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজায় ...
বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম দিনগুলো খুব মধুর ছিলনা ...। ইংরেজির জন্য ঠোক্কর খেতে হত প্রতিপদে ...। সেগুলো ও পিছু হঠলো একদিন ।
বাঁচতে গেলে তো খেতে হবেই... কিন্তু হস্টেল এর খাবার খাওয়ার পর "শারীরশিক্ষা" চালিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিলনা তাই বাধ্য হয়েই রান্নায় 'হাতেখড়ি' । এখন তো রান্নাটা আমার কাছে একটা শিল্পকলা মনে হয় ।
তাই এখনও বলতে ইচ্ছে করে " ভেঙে মোর ঘরের চাবি নিয়ে যাবি কে আমারে...... ও বন্ধু আমার "
বাহ্! তোর কথা শুনে খুব ভালো লাগলো, নিজের কাজ নিজে করার মধ্যে একটা পরিতৃপ্তি আছে, অবশ্য এই কথা তাদের জন্যই প্রযোজ্য যারা কাজ করতে ভালোবাসে। 😊😊
Deleteঅনেক কিছু লেখার ইচ্ছে থাকলেও দিনগুলো মাত্র ২৪ ঘণ্টার ......।
ReplyDeleteসময় পেলে অবশ্যই লিখিস, তোর লেখা পরে খুব ভালো লাগলো।
Delete