Tuesday, 23 August 2016

একটি ত্রিকোণ প্রেমের গল্প

দিন যায় দিন চলে যায় নতুন সকালের সম্ভাবনায়। দিন আসে দিন যায়, অনেক দিন এমন যায় যে সময় এর সাথে ছুটেও তল পাওয়া যায় না, আবার কোনো কোনো দিন যেন কাটতেই চায় না। এই প্রসঙ্গে সেই আমার মনে আসাতে পারতো 'রিলেটিভিটি তত্ত্বের কথা', কিন্তু মাথায় এসে বাসা বাঁধলো এক গাঁজাখুরি প্রেমের গল্প। এখন মাথায় যখন এসেই গেছে, সেটা লিখে ফেলার জন্য মন তা উচাটন হয়ে পরলো, অগত্যা লিখেই ফেললাম।

আমার গল্পের চরিত্রগুলো খুব পরিচিত, যেহেতু দিন সংক্রান্ত চিন্তা থেকে এই প্রেমের গল্পের সূচনা তাই পৃথিবী চাঁদ আর সূর্য বাদে গল্পটা শুরুই বা হবে কি করে। সুন্দর সুন্দর প্রতিশব্দ খুঁজে দিতে পারলে ভালো হতো, কিন্তু লিখে ফেরার তাড়ায় আর খোঁজা হলো না।

ধরা যাক, পৃথিবী খুব ভালোবাসে সূর্যকে, সূর্য যে বাসে না ভালো, তা নয়, কিন্তু খুব ব্যস্ত সে, পুরো বিশ্ব-ব্রম্ভান্ড জুড়ে তার কাজ কর্ম, তাই নির্দিষ্ট কিছু ঘন্টা বাদে, সে পৃথিবীকে সঙ্গে দিতে পারেনা, আসলেই তার যাওয়ার তাড়া থাকে। তাতে পৃথিবীর বড্ডো অভিমান হয়, অভিমানে আঁধার হয় সে। পৃথিবীর এই দুঃখ একজন একদম সহ্য করতে পারে না, সে হলো সময়, খুব জলদি এগোতে থাকে সে, যাতে পৃথিবী আবার সূর্যের দেখা পায়। আর সেই কারণেই বোধ হয় এতো দ্রুত রাত কেটে যায়, আমরা ঘুমের ঘরে চোখ বুজলেই সময় দৌড়াতে থাকে, আর হটাৎ করে অ্যালার্ম ক্লকটা বেজে ওঠে।

আর দিন কেন দ্রুত কাটে এতো খুব এ সহজ ব্যাপার, সুন্দর মুহূর্ত খুব জলদি কেটে যায়। পৃথিবীর সাথে সূর্যের দেখা সাক্ষাৎ হয়, আনন্দে উল্লাশে দিন কেটে যায়। আর ঠিক এই কারণেই মেঘলা দিন যেন কাটতেই চায় না, সেদিন রাস্তার জ্যামে আটক পরে সূর্য, পৃথিবীর সাথে তার আর দেখা হয়না, বিষন্ন পৃথিবীর অপেক্ষা দীর্ঘ হয়। 

wait wait wait, এখানে ত্রিকোণের 'ত্রি' তা কোথায়? পুরোটাই তো একটা সাদামাটা প্রেমের গল্প হয়ে গেলো। 

না না, আছে আছে, প্রলাপ যখন একবার শুরু করেছি, প্রেমটাকে 'ত্রি' না বানিয়ে আমি শেষ করছি না। 

চাঁদের কথা ভুললে চলবে কেন? ও তো আমার গল্পের তৃতীয় চরিত্র। 
পূর্ণিমার রাতে জোৎস্নার আলোতে মুগ্দ্ধ হয়নি এমন লোক পাওয়া দুষ্কর। সেই জোৎস্না রাতে চাঁদ আসলে গল্প করতে আসে পৃথিবীর সাথে। চাঁদ যখন জানেই পৃথিবী ভালোবাসে সূর্যকে, তখন তার পৃথিবীর কাছে আসার কি দরকার? কিন্তু হায়, secret lover, পৃথিবীকে সূর্য বিরহে কাঁদতে দেখে, নিজেকে আর দূরে রাখতে পারেনা, সঙ্গ দিতে আসে, মন ভোলাতে আসে। অনেক গল্প হয়, পৃথিবী খুশিতে উচ্ছল  হয়ে ওঠে, কিন্তু  ওর মন থেকে সূর্য কখনোই যায় না।
পৃথিবী যখন কথায় কথায় ওর কথা তোলে, চাঁদের বড় অভিমান হয়, ধীরে ধীরে সে নিজেকে গুটিয়ে নেয়, মুখ ঢাকতে থাকে, হয়তো চোখের জল আড়াল করতেই একদিন পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যায়। 
কিন্তু প্রেমের টান এতো দুর্নিবার যে চাঁদ পৃথিবী থেকে বেশিদিন দূরে থাকতে পারেনা, আবার একটু একটু করে উঁকি দিতে থাকে, আর একদিন সব অভিমান ভুলে আবার আসে গল্পে মাতাতে।

আর এই প্রেম কাহানি মেগা সিরিয়ালের মতো চলতেই থাকে। এর ফাঁদে পরে আমাদের মতো নশ্বর জীবের জীবন যেন এক মুহূর্তে জন্ম থেকে জরায় পৌঁছে যায়। 

(বিঃ দ্রঃ এই লেখাটা বেশ কয়েকমাস আগের লেখা, কিন্তু এতো গাঁজাখুরি, যে নিজের বিজ্ঞান মনস্কতা এই লেখাটাকে publish করতে বাঁধা দিচ্ছিলো। কিন্তু শেষমেশ আমার এক প্রিয় বন্ধুর উৎসাহে লেখাটাকে সকলের পড়ার জন্য উন্মুক্ত করেই দিলাম। )

No comments:

Post a Comment

পড়া এবং পড়ানোর পাঁচকাহন।

  ছাত্র ছাত্রীদের "Electrostatics & Magnetostatics" পড়ানোর জন্য এই বইগুলো নিয়ে বসেছিলাম। একেই বলে জাহির করা। 🤭 "দেখো M...