Saturday, 31 December 2016

ঘুমহীন রাতের পাঁচালী

ভাবলাম, ভালো মন্দ মিশিয়ে বছরটা কেটে যাবে, কিন্তু তা নয়। বছর শেষে আমি ঘুমাতে পারছিনা, সেই ঘুম যা আমার অত্যন্ত প্রিয় এবং পরম আপন। ঘুমাতে যাওয়ার জন্য ঘরের আলো নিভিয়ে দিলেই ভয়ে হৃদয় স্পন্দন এতো বেড়ে যাচ্ছে, সেই শব্দ শুনেই আমি ভয়ে পাগল হয়ে যাচ্ছি। আমি মোটেই মজা করছিনা, সত্যি সত্যিই ভূতের ভয়ে আমি যারপরনাই সন্ত্রস্ত এবং ভীত। না, ভূত আমায় ভয় দেখাচ্ছে না কিন্তু আমি ভয় পাচ্ছি ভূতকে নিজে থেকে ভেবে ভেবেই। এ হলো সুস্থ শরীর নিজে নিজে ব্যস্ত করা, যা নেই তাকে ভেবে অযথাই নিজের উপর নির্যাতন করা। কিন্তু করবোটাই বা কি ? নিজের ইচ্ছেই এই সব ভয় আমি ডেকে আনিনি। সব নষ্টের মূল, ২৫শে ডিসেম্বরের রাত। সেদিন বন্ধুবৎসল হওয়ার ফলে আমায় বসে বসে 'কনজুরিং ২' দেখতে হয়েছে। এবং সেটা দেখতে হচ্ছে বলে, আমি পুরোটা সময়ই নিজের মোবাইলের দিকে তাকিয়ে ছিলাম, আর আমাকে জোর করা হচ্ছে বলে আমি একটু রূঢ় ব্যবহার-ও করেছিলাম। এখন মনে হচ্ছে, আরো একটু  রূঢ় হয়ে সেই ঘরে বসে না থাকলেই হতো। কারণ যারা আমায় জোর করেছিল, তারা তো নিজের নিজের ঘরে ঘুমাচ্ছে, আমি দুর্বল হৃদয় মানুষ, একা জেগে বসে আছি।

জেগে বসে থাকতে আপত্তি ছিল না, কিন্তু আমার প্রিয় ঘুম আমি ঘুমাতে পারছিনা। সেই দুঃখে আমি ভয়ানক কাতর। মনে হয় নতুন বছরের কিছুটা সময় আমি জেগেই কাটাবো। মজার বিষয় হলো, আমি আবার নাকি নাস্তিক, যে ভূত বা ভগবান কাউকেই বিশ্বাস করে না। ছোটবেলায় যখন বুঝতাম না ভগবান কি, তখন পরীক্ষা দিতে যাওয়ার আগে ভগবানকে ডাকার কোনো প্রশ্ন ছিল না আর যখন বুঝতে শিখলাম তখন তো আরোই প্রশ্ন নেই। আমি জানি নিজের কাজ নিজেকেই করতে হয়, ভগবান তেমন সাহায্য টাহায্য করেন না। কাজেই, আমার এই ভূতের ভয় কাটাতে আমি ভগবানকেও ডাকতে পারছিনা। এই হচ্ছে উভয় সংকট। আর এই উভয় সংকটের জ্বালায় আমার ঘুমটাই মাটি। এমন ঘুম মাটি আমার M.Sc তে পড়ার সময় হয়েছিল। এক বন্ধু রাতের ট্রেনে বাড়ি যেতে যেতে একটা ragging-এর গল্প শুনিয়েছিল। কি আশ্চর্য, লিখতে লিখতেই মনে পড়লো সেটাও এক ডিসেম্বর ছিল, একটা সেমিস্টার শেষ হওয়ার পর আমরা বাড়ি যাচ্ছিলাম ট্রেনে করে।
বাড়িতে পৌঁছে কোনো অসুবিধা হয়নি রাতে ঘুমাতে, মায়ের আদরে ঘুমাতাম। কিন্তু হোস্টেলে ফিরে এসে ২ মাস রাতে আলো জ্বালিয়ে ঘুমাতাম। আলো জ্বালালে আমার ঘুম ঠিক মতো হয় না, হতোও  না, এখনো হচ্ছে না।
সবার কৌতুক আরো বাড়িয়ে জানায়, সেই ragging-এর গল্পে কোনো ভূতের চিহ্ন মাত্র ছিল না, আর কদিন আগে আড়চোখে দেখা সিনেমাতেও আমি ভূতটিকে ভালোভাবে দেখিনি। কিন্তু আমার কল্পনাশক্তি এতোই সক্রিয় যে, ভয়ানক কিছু কল্পনা করে নেয়া আমার মস্তিষ্কের পক্ষে কঠিন কিছুনা।
আমার মস্তিস্ক কল্পনা করছে, আর আমি চোখ বুঝলেই ভয়ানক ভূত দেখছি। সেই ভয়ে, না আমি চোখ বন্ধ করতে পারছি, না আমি আলো নেভাতে পারছি, না আমি ঘুমাতে পারছি।

তাই, ২০১৬ সালের কাছে শেষ অনুরোধ, যা যা ভেবেছিলাম, পড়াশুনো গবেষণা সংক্রান্ত, কিছুই তো পূরণ করতে দিলে না, তার আগেই দৌড়ে পালিয়ে গেলে, please আমার ঘুমটা কেড়ে নিয়ে যেও না। 😖

নতুন বছর সবার ভালো কাটুক এই প্রার্থনা করি, সেই সাথে আমিও যেন ভালো করে ঘুমাতে পারি। বিশ্বাস করুন বন্ধুগণ, আমার প্রিয় ঘুমকে হারিয়ে বড্ডো মনোকষ্টে আছি।

Note: So moral of today's story is: খুব বেশি ভালোবাসা, ভাবার মতো খুব বেশি কল্পনা করাও ভালো নয়।  Little extra of these make life difficult. 😟😞

Saturday, 24 December 2016

My positive inputs to make your holiday a happy one

Another year is coming to the end. Like many other people, I also could not complete the tasks of the 'to do' list, I had thought of doing.
But that's natural, it always happens to me. Although I am used to, still it hurts sometime.
I am not that big dreamer so my lists are full of small steps which I want to ride. May be that's why it hurts more because I feel, 'if I would try I could achieve that. I didn't try enough.' This self judgement forces me to think, I am worth of nothing.

And after reaching this point, I start to think just in the opposite way.
I start to think, new year will be far better, not only for me but for the whole world. In spite of knowing that there will be hardly any change.

Then why do I think in that way? Because positive thinking helps me to breathe,  it helps me to believe in myself.

In this cruel world, fairy tales can't be happened but I still love to believe in that. Because thinking in that way helps me to live in peace.

It's hard to stay strong and it hurts a lot to act like a strong person when you know you are actually not.
But living a life of a weak person does not help me.
What I have understood so far is that, we, human, are selfish. We want ourselves to be happy, we want to protect ourselves from upcoming pain and suffering.
My way of protecting myself is 'be positive, stay positive.'

The people who are full of negative thoughts, they are also trying to protect themselves from being hurt.
Consider a guy who thinks perfect love is a myth, is absolutely correct although but deep inside he is not bothered about what is right or wrong. He did not meet a girl who was perfect and he will never do so because no perfect one is out there. However, by telling himself all those unsuccessful love stories, he controls his mind and tries to train it not to expect perfect love.
There is nothing wrong with that upto this point. But it could go wrong if more and more harsh true facts start to capture his mind and he forgets to see the little bit of positivity of life still remaining.
Then he will need a psychiatrist to help him.

And this is the reason why I believe in fairy tales, this is why I love to watch Disney movies. They do the same things what psychiatrist does to that guy. And I don't want to fall in love with psychiatrist like Alia did in 'Dear Zindegi' (if it is Shahrukh khan with that look I may).
So I will better stick with my Disney world.

It's good to know the real facts, it's good to be aware of all the negative possibilities but it's harmful to be controlled by those negative thinking.

After all that will not help us.

So, enjoy the upcoming holidays, try to think that some good things will certainly happen in this new year. I am also trying to think and that is why I have written a big essay about an imaginary guy just because I want to convince myself, hopes never die, it can't be.
And Moana will certainly be successful to convince Maui to give back the heart of Te fiti.


Monday, 5 December 2016

স্বগতোক্তি

প্রতিদিন কত কথা ভাবি, কতজনের সাথে কত বিষয়ে কথা বলি, বলতে বলতে মাথায় শব্দরা খেলা করে, মনে হয়, বাহ্, এই তো বেশ কবিতা কবিতা ভাব আসলো, এইটাকে এখন ডাইরিতে(Blog-এ) লিখে ফেললেই কেল্লাফতে। কিন্তু কথা বলতে বলতে শব্দগুলো হারিয়ে যায় আবার। পরে চেষ্টা করলেও মনে করতে পারিনা। তবুও মায়ের মতো কিংবা মল্লিকা সেনগুপ্তের মতো ভাবি, 'নাহ্, আজ একটা কবিতা লিখতেই হবে', শব্দগুলো হারিয়ে যাচ্ছে দ্রুত।

অনেকদিন আগে এক বন্ধুকে কথা দিয়েছিলাম তার প্রেম নিয়ে কবিতা লিখবো, সে হয়তো ভুলে গেছে, কিন্তু আমি ভুলিনি, মাঝে মধ্যেই মনে হয়, ইশ্, কথা দিয়েছিলাম, কথা রাখা হলো না। আর কিছু সময় হয়, ঠিক যে বিষয়ে ভাবছি, দেখি অজস্র শত শত লেখা সেই কবেই লেখা হয়ে গেছে। তখন মনে হয়, ঠিক এমনই তো ভাবছিলুম, তাহলে আর লিখে কি হবে। দিন দুই চার আগে আগে এক বান্ধবীর সাথে বিবাহ প্রসঙ্গে কথা হচ্ছিলো, সেই থেকে সতীত্ব, কৌমার্য এই সব নিয়ে গম্ভীর আলোচনা হলো। ভাবলাম বেশ তো, লিখে ফেলা যাক কিছু। ওমা, ইউটিউব খুলে দেখি তাসলিমা নাসরিন কবেই পাঠ করে রেখেছেন আমার ভাবনাগুলো।

আর ইদানীংকালের সবচেয়ে আলোচ্য বিষয় demonetization, কিন্তু তা নিয়ে আর কি কিছু বলতে বাকি আছে? আর থাকলেও বা, আমি আর বুঝি কত?

নতুন নতুন scientific discovery আমাকে বেশ আকর্ষণ করে, সব যে বুঝি তা নয়, কিন্তু বোঝার চেষ্টা করি আর বুঝতে পারলে সেই জ্ঞান বিতরণ করি মুক্ত হস্তে, কবি বলে গিয়েছেন, জ্ঞানদান করলে জ্ঞান বাড়ে।
কিন্তু demonetization-এর পর, ব্যাঙ্কের লাইনেই সবার দিন কেটে যাচ্ছে, কে আর আমার কাছ থেকে জ্ঞান নিতে চাইবে? পেটে ভাত পড়লে তবে তো জ্ঞানার্জনের প্রসঙ্গ। ওহ হ্যাঁ, ভাতের কথায় মনে পড়লো, demonetization-এর ফলে কৃষকরা বীজ কিনতে পারছেননা। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে, ভাত না হোক, অন্য শস্যের জন্য আমজনতার কপালে ভাঁজ পড়তেই পারে।

লেখার আরো বিষয় ছিল, যার মধ্যে একটি বিষয় নিয়ে এই মুহূর্তে বাংলাতে বেশ আলোড়ন উঠেছে, infant trafficking, কিন্তু বিষয়টা এতই ধূসর যে এই নিয়ে লিখতে বসলে মন আরো খারাপ হয়ে যাবে। এমনিতেই বিলেতে শীতের দিন ভীষণ বিষণ্ণ, সূর্যের দেখা পাওয়া দুষ্কর, মন এমনিতেই দুঃখী দুঃখী, তাই এই বিষয়ে বেশি কিছু ভাবতে বা লিখতে ইচ্ছে করলো না।

তবে, infant trafficking-এর সাথে সাথে আরো একটা জিনিস জানা গেলো, গ্রামে গঞ্জে শহরে এখন কন্যাভ্রূণ হত্যা একেবারে জলভাত। বিষয়টা অজানা কারো নয়, তবে খবরগুলো আরো ভালো করে চোখে আঙ্গুল দিয়ে জানিয়ে গেলো। আর সাথে সাথে আমার মনে যে অল্প এটটুসখানি ধন্দ ছিল, কেন এতো লাঞ্ছিত হতে হয় মেয়েদের সর্বত্র, সেইটা কেটে গেছে। আরে বাবা, যারা জন্মের আগেই অনাকাঙ্খিত, জন্মের পর সমানাধিকার, সম্মান পাওয়ার এমনকি বেঁচে থাকার অধিকারও তাদের থাকতে পারেনা। কাজেই এই সমাজে ধর্ষণ বধূহত্যা অত্যন্ত স্বাভাবিক আর তাই আমি ঠিক করেছি, এই বিষয়ে অতিকথন তো দূর, স্বল্প কথনও আর করবো না (মোটামুটি ভাবে এটাই ঠিক করেছি, শপথ যদিও নিইনি)।

আপাতত পড়াশুনা সংক্রান্ত অনেক কিছু লেখার আছে। পাশ্চাত্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এই ব্যাপারে খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ, অনেক অনেক research session-এর বন্দোবস্ত করে 'how to write'-এর উপর। তাতে যে আহামরি কিছু লাভ হয়, আমার তো মনে হয় না, বরং সমস্ত session গুলো attain করার পর আমি বরং বেশিই ঘাবড়ে যায়। যাওবা ভেবেছিলুম লিখবো, তাও আর লিখে উঠতে পারিনা।
এই একটু আগেই একটা session attain করে আসলাম। ভালোই চলছিল প্রথমে, instructor (উপদেশক) বললেন, 'লিখতে গেলে পড়তে হবে আরো বেশি', জানা কথা। এবার শেষে এসে উনি বললেন, 'তুমি যদি তোমার পরীক্ষককে বোঝাতে না পারো, তোমার কাজটা একেবারে নতুন (it's an original work, not blindly copied from someone), তাহলে তোমায় বাড়ি ফিরতে হবে খালি হাতে। ডক্টর হওয়ার আশায় বালি।' শুনে টুনে আমার 'Dilwa Beating Fast Sasura' । আর তাই আমার fast dil কে বাগে আনার জন্য মনে হলো কিছু লিখে ফেলা জরুরি, পড়াশুনো হোক বা না পড়াশুনা।

অগত্যা কিছু লিখে ফেলার তাগিদে কিছুটা স্বগতোক্তিই করলাম আজ।


Note: লেখার কথা মনে পড়লে আমার মতো যাদের 'দিল ধড়াকনে লাগে' তাদের নাকি Pat Thomson-এর blog পড়া উচিত, এটাও instructor-ই বললেন। আর এই কারণেই আমি ক্লাসগুলোতে যাই, কাজের কাজ না হলেও অন্য অনেক অন্য রকম তথ্য জানা যায়, দেশে থাকতে যে সুযোগগুলো আমার ছিলোনা।
https://patthomson.net/

Friday, 18 November 2016

এক কৌটো বাতাস

এককালে পৃথিবীর সম্পদে সমস্ত জীবদেরই সমান অধিকার ছিল। ধীরে ধীরে মানুষ যত বুদ্ধিমান হতে লাগলো অন্য প্রাণীদের অস্তিত্ত্ব সংকট বাড়লো। এখন অবশ্য একদল মানুষের জন্য বাকি সব মানুষের অস্তিত্বই সংকটে। যার শক্তি যত বেশি সে তত বেশি সম্পদের উপর নিজের দাবি জানাচ্ছে। শক্তিবলে জমি দখল দিয়ে শুরু হয়েছিল।
(যার ফলে, আদিম জনজাতি প্রায় বিলুপ্ত। ভারতবর্ষে আদিবাসীরা যেমন কোনঠাসা, আমেরিকাতেও তেমনি জনসংখ্যার মোটে ২% Native American.)

কিছু লোকের জমি গেলো তো কিছু লোক জমি পেল। তাও নদী সমুদ্র জল সে তো সবার ছিল।
কালে কালে রাষ্ট্রের সীমানার সাথে সাথে সমুদ্রেরও সীমানা তৈরী হয়ে গেলো, নদীর জলবণ্টন নিয়েও তরজা শুরু হলো। গ্রামগুলোতে জাতপাত মেনে কুয়োও ভাগ হলো। জলের অধিকারও সমান থাকলো না।
জমি হারিয়ে যারা ভেবেছিলো বাতাস আর জল খেয়ে বেঁচে থাকবে, তাদের সেই পরিকল্পনা গেলো ভেস্তে।

একমাত্র ছিল বাতাস, ইদানিং কালে সেটাও কৌটোজাত। ১৬০ বার প্রশ্বাস নেয়ার বাতাসের দাম মোটে ৮০ পাউন্ড, মানে ভারতীয় মুদ্রায় ৭০০০ টাকা।

কাজেই, জোর যার, শুধু মুল্লুক নয়, জল বাতাস সবই এখন তার।

Wednesday, 9 November 2016

Tusi great ho

2014 সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতে এসেছিলেন ব্যবসায়িক স্বার্থে, তখন তাকে নিয়ে মস্করা করা হয়েছিলো।ভারতের সম্পর্কে কিছু বলতে বলা হলে উনি সব কথার একটাই জবাব দিয়েছিলেন, India is great, India is doing great. তাতেই সবাই মজা পেয়েছিল, আরে এ তো ভারত সম্পর্কে কিছু জানে না, কিন্তু কিছু বলতে হবে, তাই Great বলে বলে কাজ চালানোর চেষ্টা।

কিন্তু এখন পাশা পাল্টে গেছে। ভারতে অনেক দিন ধরেই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে মাতামাতি চলছে। এবার উনি US President হিসাবে ভারতে আসলে, সেই আমরাই বলবো, Trump you are great, you are doing great কারন বেশীরভাগ ভারতীয়রাই ওনার সম্পর্কে কিচ্ছু জানিনা। 

Tuesday, 8 November 2016

খেলনাবাটি খেলা আর মিছিমিছি কিছু টাকা পয়সার লেনদেন

ছোটবেলায় খেলনাবাটি খেলার সময় মিছিমিছি ভাত রান্না করতাম, মিছিমিছি মাছের ঝোল। আমাদের থেকে যারা বড়ো, যাদের মায়েদের সাথে রান্না ঘরে ঢুকে সত্যি মাছের ঝোল খুন্তি দিয়ে নাড়ার সুযোগ হয়েছিল, তারা আমাদের এই মিছিমিছি খেলা দেখলে তাচ্ছিল্য করতো। কোনোদিন কোনো বন্ধুর অনুপস্থিতিতে বিপাকে পড়ে বড়ো কাউকে যদি খেলতে বলতাম, বলতাম এই নাও টাকাটা ধরো, আর বাজার থেকে আলু পটল বেগুন নিয়ে এসো, তারা হেসে লুটিয়ে পড়তো। আমাদের খেলা পন্ড করে দেওয়ার জন্য খুব যুক্তিবাদীদের মতো বলতো, কোথায় টাকা, সত্যিকারের টাকা কই, মুখে বললে তো হবে না, কথার কি দাম? তখন হয়তো সাদা কাগজে লিখে দিলাম, এই নাও ৫ টাকা, এবার তো যাও, কিন্তু তাতেও তারা ভুলতো না, ওই সাদা কাগজের যে কোনো মূল্যই নেই।

তখন খুব দুঃখ হতো। আমাদের খেলা ভেঙে যেত, সত্যিকারের টাকা না দেখাতে পারার দুঃখে, বড়োদের মস্করায়। অথচ আজ দেখি/বুঝি সত্যিকারের টাকা বলে তো কিছুই হয়না। পুরোটাই তো কথার খেলা, আর কাগজের সই। মানিপার্স থেকে কোনো টাকা বের করে পড়ে দেখুন কি লেখা আছে। ভারতীয় টাকার ক্ষেত্রে, গভর্নর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন; দশ টাকার নোটের কথা ধরা যাক, ১০ সংখ্যা লেখা একটা কাগজে হস্তাক্ষর করে উনি বলছেন- I promise to pay the bearer the sum of ten rupees । মানে সোজা বাংলায় এটাই তো দাঁড়াচ্ছে, মেনে নাও এটা ১০ টাকা, এবার যাও বাজারে গিয়ে এর বিনিময়ে বাজার করে আনো।

ছোটবেলায় আমিও তো একই কথা বলতাম, শুধু গভর্নরের মতো 'লম্বা চওড়া পদ' ছিলনা বলে সেই ধুলোবালি মাখা রান্নাবাটি নিয়ে খেলতে বসা বাচ্চাটার কথা সবাই হেসেই উড়িয়ে দিতো।

এতো গেলো সত্যি সত্যি টাকার কাহিনী, মানে যা কিছুটা হলেও সত্যি, অন্তত ছুঁয়ে দেখা যায়। এবার যে টাকা ছুঁয়ে দেখা যায়না, মানে electronic money, সেটা নিয়ে একটু ভাবা যাক। সেটাতো আরো গোলমেলে। আমি আমার account থেকে তোমার account-এ টাকা পাঠাচ্ছি। আসলে কিন্তু কিছুই লেনদেন হচ্ছে না, digit গুলো আমার প্রতিশ্রুতি বা ইচ্ছে অনুসারে বদলে যাচ্ছে। আপাত জনপ্রিয় একটা site (but I can't put it as reference) থেকে জানলাম, 95% of all money is electronic, বাকি 5% real money, মানে ওই গভর্নরের প্রতিশ্রুতি দেওয়া ধাতব মুদ্রা বা কাগজের টুকরো।

এবার যদি কোনো কারণে সেই ডিজিটাল সিস্টেমে কোনোরকম কোনো গোলযোগ হয়....................
না থাক, আমি কোনোরকম কোনো অলুক্ষণে কথা বলছিনা, মা মানা করেছেন। তাই আমিও বিশ্বাস রাখি, গভর্নরের প্রতিশ্রুতিতে, এই সংখ্যাতন্ত্রে। After all, প্রতিমাসের শুরুতে আমার account-এও তো এই electronic money-ই University থেকে credited হয়।আর তার সৌজন্যেই আমি আমার বাড়ির মালিককে electronic money transfer করি, নিজের ভরণ পোষণ চালাই।

তাই সবকিছুই বিশ্বাস করছি, মিছিমিছিই।

পুনশচঃ আশ্চর্য সমাপতন, আজ সকালে এই লেখাটা যখন মাথায় এসেছিলো, তখনও জানিনা আজকে রাতের মধ্যেই ভারতে তোলপাড় হবে টাকা (বাতিল) নিয়ে।

প্রফেসর শংকুর বটিকা ইন্ডিকা আর Face electrodes

রসগোল্লা খেতে আমি বড্ড বেশি ভালোবাসি, দিনে পাঁচ-ছটা রসগোল্লা আমি বাড়িতে থাকলে হামেশাই খাই।এই বিদেশ বিভুঁয়ে এসে রসগোল্লার শোকে আমাকে চকলেট খাওয়া ধরতে হয়েছে। কোথায় আমার সেই মাজদিয়ার রসগোল্লা কোথায় এই চকলেট। যারা মাজদিয়ার রসগোল্লা খেয়েছেন, তারা অন্তত মানবেন আমার এই তুলনাটা মোটেই অমূলক নয়। তবে আমার তুলনা যদি  চকলেট প্রেমীদের হৃদয়ে আঘাত হানে তাহলে আমি যারপরনাই দুঃখিত।
আমি চকোলেটও ভালোবাসি , আমায় এখন যদি কেউ এক বাক্স চকলেট উপহার দেয়, আমি ভীষণ খুশি হবো। কিন্তু কেউ যদি আমায় চকলেটের বদলে এক হাঁড়ি রসগোল্লা দিয়ে প্রেম নিবেদন করে তাহলে আমি একটু বেশিই গদগদ হয়ে পড়ব।
এখন কথাটা হচ্ছে চকলেট বা রসগোল্লা যে রকমই মিষ্টি হোক না কেন, কোনোটাই শরীরের পক্ষে ভালো নয়। যত বেশি চিনি, তত বেশি মোটা, তত high blood pressure উপরন্তু Diabetes এর চোখ রাঙানি।

 কিন্তু বন্ধুগণ, চিন্তার কোনো কারণ নেই।  আমাদের মতো খাদ্যরসিকদের সমস্যার সমাধান করতে এসে গেছে face electrode । National University of Singapore-এর বিজ্ঞানীরা এমন এক ইলেকট্রোড বানানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন যাতে আপনি virtual খাবারের স্বাদ পাবেন। 
আহা! কি মধুর কথা। আপনার কত খাটনি কমে গেলো ভাবুন। আপনার ইচ্ছে বাড়িতে নেমন্তন্ন করে বন্ধুদের খাওয়াবেন। বন্ধুদের ডাকলেন, তারা আসতেই হাতে খান তিনেক পাঁউরুটি ধরিয়ে দিলেন। বন্ধুরাতো চটে লাল, শেষে ঝুলি থেকে বিড়াল বের করার মতো, আপনার তুরুপের তাস face electrode বের করে চাটতে দিলেন। 

বাড়ি থেকে যাওয়ার আগে আপনার বন্ধুরা আপনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। এমন বিরিয়ানির স্বাদ তারা আগে কোনোদিন পায়নি। এমনকি আপনার পেটরোগা বন্ধু হয়তো আপনাকে জড়িয়ে একখান চুমুই দিয়ে দিলো।পেটের রোগের ভয়ে আজ পর্যন্ত সে হয়তো বিরিয়ানি চেঁখেই দেখতে পারেনি, শুধু ঘ্রানেই অর্ধ ভোজন।কিন্তু আপনার দেয়া এমন বিরিয়ানি চাঁখলে no side effect; পেট ব্যাথা, গ্যাস, পেট খারাপের কোনো সম্ভবনায়  নেই।

সত্যিই কি আবিষ্কার।আর কদিন পর হয়তো প্রফেসর শংকুর সেই ট্যাবলেট বটিকা ইন্ডিকা-ও আবিষ্কার হয়ে যাবে, যার একখানা খেয়ে নিলেই সেদিনের মতো খিদে তেষ্টার ভাবনা উধাও। 
তখন কষ্ট করে পাউরুটিটুকুও আপনাকে কিনে আনতে হবে না। একটা করে বটিকা ইন্ডিকা আর একটা করে face electrode, যখন তখন যেখানে সেখানে যা ইচ্ছে তাই খান।

তথ্য সূত্র: https://www.newscientist.com/article/2111371-face-electrodes-let-you-taste-and-chew-in-virtual-reality/

পুনশচঃ এখনো অবশ্য face electrode এর বাণিজ্যিকরণ হয়নি।তাই নিজের হাতে রেঁধেই খাচ্ছি, food party করছি। সেই সব রান্নার ছবি বন্ধুগণের সাথে share করি। আর হ্যাঁ, রসগোল্লার শোকে একদিন নিজেও রসগোল্লা বানিয়েছিলাম।






এক প্রাগৈতিহাসিক মস

আমি সবুজ খুব ভালোবাসি, তাই শহরে থাকতে আমার ভালো লাগে না। গাছপালায় মোড়া গ্রাম আমার বেশি প্রিয়। অবশ্য বৃক্ষ শ্রেণীর (Tree) গাছ, যেমন আম কাঁঠাল কিংবা UK-র Elderberry আর Cherry Tree আমার বেশি পছন্দের, সুস্বাদু ফল পাওয়া যায় এদের থেকে। আবার সবুজ হলেও
 শ্যাওলা কিন্তু পছন্দের নয়। বর্ষাকালে রাস্তার পাশে অথবা নোনা ধরা পুরনো দেয়ালে যখন শ্যাওলা জমে ওঠে আমি কিন্তু মোটেই প্রীত হইনা।
তাই ভাবি ভাগ্যিস আমার জন্ম এই জামানায় হয়েছিল, সেই প্রাগৈতিহাসিক যুগে নয় যখন বৃক্ষশ্রেণীর অস্তিত্বই ছিল না, থাকলেও তা প্রাথমিক পর্যায়ে। সেই লক্ষ কোটি বছর আগে উদ্ভিদের দেশে রাজত্ব করতো, আজ যাদের আমরা আগাছা বলি, সেই শৈবাল, শ্যাওলা গোত্রের উদ্ভিদ।

কদিন আগে Sheffield Botanical Gardens -এ গিয়ে এমনই এক আগাছার গুঁড়ি দেখে আসলাম। দেখা ইস্তক সবাইকে এই গুঁড়িটা দেখানোর জন্য মনটা আকুল হয়ে উঠেছিল, আজ শেষমেশ সময় পেলাম।



এই গুঁড়িটা একটা প্রকান্ড মসের (Giant Club Moss), যার পোশাকি নাম Lycopod (Lepidodendron)। এই lycopod হচ্ছে এক ধরণের arborescent plant মানে tree-লাইক plant, বৃক্ষের মতো কিন্তু আদতে বৃক্ষ নয়।





৩০ কোটি বছরের পুরোনো গাছটা ছুঁয়ে দেখতেই কেমন যেন একটা শিহরণ জাগলো। প্রাগৈতিহাসিক যুগ বলতেই ডাইনোসোরদের কথা আমাদের মনে আসে, তাই নিয়ে খুঁজলে কত কত documentary । আর  এই উদ্ভিদশ্রেণী লাফিয়ে ঝাঁপিয়ে বেড়াতে পারেনা বলেই উদ্ভিদবিজ্ঞানী বাদে, এদের নিয়ে আমাদের কোনো উৎসাহ নেই। অথচ এদের বিবর্তনটাও তো সমান আকর্ষণীয়।

৩০ ফুট লম্বা মহীরুরর মতো প্রকান্ড এই মস একদিন হারিয়ে গেলো আর আজ তার বংশধরেরা রাজ্যপাট হারিয়ে নোনাধরা পাঁচিলে অস্তিস্ত্ব টিকিয়ে রাখার সংগ্রামে ব্যস্ত । সত্যিই প্রকৃতি বড় খামখেয়ালী আর অপরিসীম শক্তিধর। তার ইচ্ছের কাছে, শক্তির কাছে সবাই তুচ্ছ । আমরা আপাত চালাক আদতে বোকা মনুষ্যশ্রেণী খামোখাই আস্ফালন করে গেলাম।


Internet ঘেঁটে শিল্পীর কল্পনার Giant Club Moss-এর ছবি পেলাম। কৌতূহলীদের জন্য সঙ্গে দিলাম।
P.C :https://museum.wales/articles/2007-06-12/Waless-tropical-rainforests/

Friday, 28 October 2016

হে বিধাতা, নারীকে আপন ভাগ্য জয় করিবার সুযোগ কি কখনো দেবেন?


ছোটবেলা থেকে আমার রবীন্দ্রপ্রেমী মায়ের কাছে শুনছি, ''নারীকে আপন ভাগ্য জয় করিবার কেহ নাহি দিবে অধিকার, হে বিধাতা', তাই নিজের ভাগ্য নিজেকেই গড়তে হবে'। কাল সেই মা-ই আবার বললেন, মেয়েরা আর কতদূর এগোবে, বিধাতাই তো মেরে রেখেছেন মেয়েদের। আসলে কথা হচ্ছিলো রূপালী গঙ্গোপাধ্যায়- এর লেখা 'মেয়েরা সংসার করবে, বিজ্ঞানীও হবে?' শীর্ষক ২৭শে অক্টোবরের আনন্দবাজারের নিবন্ধ ২ নিয়ে।


খুব সংক্ষেপে বললে ওনার লেখার বিষয়বস্তুটি হচ্ছে, উচ্চতর গবেষণায় ভারতীয় মেয়েদের দুরাবস্থা।বিয়ে, সংসার, ছেলে-মেয়ে মানুষ, এই সমস্ত করতে গিয়ে মেয়েদের পড়াশুনায় ছেদ পড়ে। তাই DST WOMEN SCIENTIST SCHOLARSHIP বলে একটি PROGRAMME চালু করেছিল মহিলা বিজ্ঞানীদের উৎসাহিত করার জন্য। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, এই উদ্দেশ্য একেবারেই সফল হয়নি। কারণটা সেই আদি ভারতীয় সমস্যা, সেটা হলো মেয়েদেরকে কেউ seriously নেয়না। আর তাই 'প্রজেক্ট মঞ্জুর হওয়ার আগে অনন্তকাল অপেক্ষা করতে হয়, প্রজেক্ট চালু হওয়ার পরও অনুদান আসে চূড়ান্ত অনিয়মিত ভাবে'। যারা এই সমস্ত কর্মকাণ্ডের মাথা, তারা নিজেরাই মেয়েদের উপর বিশ্বাস রাখতে পারেন না। আসলে রাখবেনই বা কি করে, বেশিরভাগ মেয়েরাই তো বিয়ের পর সংসারের বেড়াজালে এমন ভাবে জড়িয়ে পড়ে, সত্যি সত্যিই অনেক সময়ই তারা কর্মক্ষেত্রে তেমন ছাপ ফেলতে পারে না, বা বলা ভালো তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। তাই যতই গবেষণা করুক, সবাই ভেবে নেয়, হয়তো শখে এই কাজটা করছে, সংসার শুরু হয়ে গেলে, একটা কলেজে বা ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতার কাজটাই করবে, কাজেই এর প্রজেক্ট-এর অনুদান এতো গুরুত্বপূর্ণ নয়।

আরো কিছু কারণ আছে, এই PROGRAMME সফল না হওয়ার। সেটা নিবন্ধটিতে লেখা আছে, আমি আর পুনরাবৃত্তি করছি না। লিংক দিয়ে দিচ্ছি এই লেখার শেষে, এই বিষয়ে উৎসাহী হলে সেটা দেখে নিলেই হবে। আমি আজ তিনজন মহিলা গবেষকের সাথেও কথা বললাম, তারাও কিছু ক্ষেত্রে লেখিকার সাথে একমত।

এখন কেউ আমাকে প্রশ্ন করতেই পারেন,
তাহলে এই সমস্ত বিজ্ঞান গবেষণার মধ্যে হঠাৎ শিরোনামে 'বিধাতা' কেন? আসলে বিধাতা বলতে আমি ভগবান, দূর্গা, যীশু, আল্লা কাউকেই বোঝাতে চায় নি। আমি আদতে বিবর্তন এবং অভিযোজন (evolution and adaptation) প্রক্রিয়াটির কথা বলতে চেয়েছি, যার দৌলতে মেয়েদের শারীরিক গঠন, শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া এমনই হয়েছে যা মেয়েদের কর্মজীবনের অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।


সন্তান জন্ম দেয়ার প্রক্রিয়াটি জটিল এবং কষ্টসাধ্য, এই superfast generation-এ এসেও কেউই এই দীর্ঘ প্রক্রিয়াটি কে ত্বরান্বিত করতে পারে না। অগত্যা কাজে দীর্ঘ বিরতি। সেই বিরতিকে কাটিয়ে উঠে আবার আগের মতো কর্মক্ষম হতে অনেকটা সময় পেরিয়ে যায়। আর তার উপর সন্তান মানুষ করতে গেলে অনেক কিছু ত্যাগ করতে হয়, যেমন অফিসার হওয়ার সুযোগ প্রত্যাখ্যান করে কেরানি হয়েই জীবন কাটিয়ে দিতে হয়। বাবা যতই ভালো হোক না কেন, সন্তানকে স্তন্যপান তো মাকেই করাতে হবে। কিছু কাজ একান্ত ভাবেই মায়েদেরই এবং সেখানেই 'বিধাতার দান'।

এখন কথাটা হচ্ছে উচ্চাকাঙ্খী মেয়েরা বিয়ে সংসার না করলেই পারে।

কিন্তু সমাজ! সে তো ব্যাপারটা কিছুতেই মেনে নেবে না, বিয়ে না হওয়া নিয়ে অনেক গল্প ফাঁদবে, তারপর জ্বালাতনও করতে পারে, শেষে সহানুভূতি দেখিয়ে, বিয়ে না করে সে যে কত্ত বড় ভুল করেছে সেই অনুশোচনা বোধটাও মনের মধ্যে ঢুকিয়ে দিতে পারে।
তবে আমি মনে করি, যারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, যারা জীবনের প্রথম ধাপেই এমন একটা সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছে, এই সমস্ত সামাজিক বাক্যালাপে তারা প্রভাবিত হবে না। 

সমাজকে বাদ দিলেও, সেই বিধাতার জন্য শেষ অবধি সন্তান ধারণ করতেই হবে। মেয়ে মানেই মাতৃস্নেহে গদগদ সবাই, সন্তানকামনায় সবাই অতি-উৎসাহী এমনটা আমি যদিও মনে করিনা। কিন্তু তাও, ৩০ বছরের মধ্যে স্বামী সন্তান সহযোগে সংসারের মধ্যমণি হতে হয়। সন্তানের জন্ম দিলে অপত্যস্নেহ আসবে, স্বাভাবিক সেটা, কিন্তু তার আগে নিজের সুস্বাস্থ্যের জন্য সন্তান 'প্রয়োজনীয়'। (এই প্রয়োজনীয় কথাটা কারো কারো খারাপ লাগতে পারে, আমি তার জন্য আগে ভাগেই মার্জনা চেয়ে নিচ্ছি। )
কারণ University of Oxford-র Cancer Researcher Dr Kezia Gaitskell-এর মতে, প্রতিটি সন্তানের জন্ম মায়ের ওভারিয়ান ক্যান্সার-এর সম্ভাবনা কমায় (Mothers reduce risk of ovarian cancer with every child)। আর NHS UK- র সাইট বলছে ,স্তন্যপান স্তন ক্যান্সার-এর সম্ভাবনা কমায়। আরো অনেক study এটা প্রমান করেছে যে ৩০ বছর হলো মাহেন্দ্রক্ষণ সন্তান ধারণের, নইলে এরপর মা এবং ছানা দুজনেরই জীবন সংকটের সম্ভবনা বাড়তে থাকে।

আর বিধাতার সেই মাহেন্দ্রক্ষণের যতিচিহ্নের সুবাদে গবেষনা জীবনে প্রশ্নচিহ্ন পড়ে যায়।

অতি আশাবাদীরা অবশ্য বলেন, মেয়েদের দিন আসবে। সেই সব বোঝাতে তারা ডাইনোসোরের যুগে ফিরে যান, মানে বোঝাতে চান, সবার দিন সমান যায় না, একদিন মেয়েরাও শক্তিশালী হবে আর ডাইনোসোরের সমতুল্য পুরুষের ক্ষমতা অবলুপ্ত হবে। তবে আমি ততটা উৎসাহী নয়, আমি যতদূর জানি, মেয়ে ডাইনোসোররাই ডিম পারতো ! মানে বলতে চাইছি যে এক প্রজাতির থেকে আর এক প্রজাতি হয়তো শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে (but that is also not true, এই মানুষের জামানায় কত প্রাণীই নীরবে নিশ্চুপে অবলুপ্ত হয়ে গেলো, তাদের তো 'দিন আসলো না') কিন্তু এক প্রজাতির মধ্যেই স্ত্রী-জাতি হঠাৎ করে পুরুষজাতির থেকে শক্তিশালী হয়ে উঠলো, সেটা অলীককল্পনা ছাড়া কিছুই নয়।

কাজেই সেই অলীককল্পনা বাদ দিয়ে বাস্তবের মাটিতেই চলা ভালো। মেয়েদের কিছু প্রতিবন্ধকতা আছে, যেটা এই সৃষ্টি এবং বিবর্তনের দান, যাকে উপেক্ষা করা অসম্ভব। তাই বলে ঘরে বসে থাকলেও তো কোনো লাভ নেই।

অনেক অসুবিধার কথা বললাম তাই মধুর বাণী শুনিয়ে লেখাটা শেষ করি। একসময় মেয়েরা বাড়ি বসে শুধুই রান্না করতো, তারপর কিছু মেয়ে স্কুলের দিদিমনি হলো, তবে সেলাই দিদিমনি হয়েই কাটিয়ে দিলো আরো কিছু বছর। এক দুই দশক আগে বিজ্ঞান বিভাগেও মেয়েরা শিক্ষকতা করতে আসলো। এখন খুব কম সংখ্যায় হলেও মেয়েরা কলেজেও পড়াচ্ছে সাথে অল্প বিস্তর গবেষণাও করছে।

মানে যেটা এক কালে অবাস্তব ভাবনা ছিল অল্প হলেও বাস্তব হচ্ছে, খুব ধীর গতিতে, কিন্তু হচ্ছে। হয়তো আরো কিছু বছর পর নোবেল প্রাইজের মঞ্চেও নিজেরদের অংশীদারিত্ব বাড়িয়ে ফেলবে, ১১% থেকে ২২% ও হয়ে যেতে পারে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০১০ সাল অবধি নোবেল প্রাইজের মোটে ১১% মেয়েদের জিম্মায়। আগেই বলেছি, অতি উৎসাহী আমি নই, তাই সর্বক্ষত্রে including নোবেল মেয়েরা ৫০% জায়গা দখল করবে, সেটা আমি মনে করিনা। কিন্তু প্রতিকূলতার মধ্যেও চেষ্টা চালিয়ে গেলে কিছু কাজ করা সম্ভব হবে। সাথে যদি পরিবারের (read husband) সহযোগিতা পাওয়া যায়, আর পাশের মানুষ জনের নেতিবাচক মানসিকতা একটু পরিবর্তিত হয়, তাহলে হয়তো বিয়ের পর, সন্তান ধারণের পরও দু'কদম পা বাড়ানো যাবে।

http://www.anandabazar.com/editorial/women-going-back-on-the-field-of-research-works-1.502477

Wednesday, 19 October 2016

নারীজীবনের স্বার্থকতা

আমি যে পাড়ায় থাকি, আমাদের পাশের পড়াটায় মূলত শ্রমজীবী মানুষেরা থাকেন, শ্রমজীবী মানে পুরুষেরা সাধারণত রিক্সা চালান, দোকানে কাজ করেন, আর মহিলারা অন্যের বাড়ি কাজ করেন। এখন অবশ্য সরকারের '১০০ দিনের কাজ' প্রকল্পের দৌলতে, নারী পুরুষ নির্বিশেষে মাটি কাটার কাজ করেন, হাতে অনেক টাকা পান (তুলনামূলক ভাবে), তাই বাকি ২৬৫ দিন ঘরে বসে কাটাতে বেশি ভালোবাসেন। ২৬৫-ও না, ৩০০ দিন ও হতে পারে, কারণ কানাঘুষো শুনি, হাতে কলমে কাজ না করেও কিছু টাকা পাওয়া যায়, কারণ খাতায় কলমে '১০০ দিন' দেখালে দুইপক্ষেরই লাভ। আমি যদিও '১০০ দিনের কাজ' ও তার ব্যর্থতা কিংবা রাজনৈতিক তরজা নিয়ে লিখতে চাইছিনা। আরে বাবা, এখনকার দিনে সবার হৃদয় খুব কোমল, কার ভাবাবেগে কখন আঘাত পড়ে, তার পর সে'ই না আমায় আঘাত করে, এই নিয়ে আমি খুবই সন্ত্রস্ত। কাজেই সরাসরি যে কথাটা বলতে চাইছিলাম সেটাতেই ফিরে আসি।
তো সেই 'দিন আনি দিন খায়' পাড়ায় দুটো কথা খুব প্রচলিত ছিল, এক- ওর আবার বাচ্চা হবে, দুই- মেয়েটার বিয়ে দিতে হবে। যেহেতু গরিব কাজেই ওদের মেয়ের বিয়েতে আশে পাশের পাড়ার মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবসময়-ই সাহায্য করতো কিন্তু আড়ালে আবডালে কিংবা ওদের মুখের উপরই বলে দিতো, 'বিয়ে কেন দিচ্ছিস? কদিন পরই তো বাচ্চা কাঁখে ফিরে আসবে?'
হ্যা, তুই করেই বলতো বেশিরভাগ লোক, কারণ আপনি যদি অন্যের থেকে বেশি টাকার মালিক হন, আমাদের সমাজ ব্যবস্থাই আপনাকে অধিকার দেয় অন্যদেরকে তুই-তুকারি করার। তবে কথাটা মন্দ বলতো না কেউই, ওদের পাড়ায় মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়া মানে মাত্র ১বছরের অপেক্ষা মেয়ের ফিরে আসার। কখনো কখনো ২-৩ মাসের মধ্যেও ফিরে আসতো। কিন্তু সদ্য সদ্য বিয়ে হওয়ার কারণে সেই জামাই হয়তো কখনো সখনো নিজের তাগিদেই বৌকে ফিরিয়ে নিয়ে যেত। অথবা, মা বাবাও কখনো আলোচনা করে ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করতো। কিন্তু সময় একটু পেরিয়ে গেলে, যখন মেয়েটাও আবার সদ্য হওয়া বাচ্চাটাকে কোলে নিয়ে লোকের বাড়ি কাজে লেগে  পড়তো,ব্যাপারটা অনেকটা গা সওয়া হয়ে যেত।
একটা সময়,  আমি আর দিদি বোধহয় হিসাব করে দেখেছিলাম, যে ওই পাড়ায় একটা মেয়েও নেই যে বিয়ের পর ফিরে আসেনি।

এখন কথাটা হচ্ছে ওরা ফিরে আসতো কেন? বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মেয়েগুলো রজঃস্বলা হতে না হতেই বিয়ে দিয়ে দেয়া হতো, বরগুলো বয়সে বড় না হলেও, কাজ করতে শুরু করা মানেই মদ খাওয়া শুরু আর মদ খাওয়া মানেই রাতে কাজ থেকে ফিরে এসে বৌকে ধরে পেটানো। তার উপর শাশুড়িগুলোও যদি রূপকথার গল্পের সৎমায়ের মতো হয়, তাহলে তো কথাই নেই। 'গার্হস্থ্য উৎপীড়ন' মাত্রাছাড়া, সেটা সহ্য করা ওই টুকু মেয়ের পক্ষে সম্ভব হতো না, অগত্যা ফুলশয্যার মোহ কেটে যেতেই পিত্রালয়ে প্রর্তাবর্তন কয়েক মাসের মধ্যেই। 

এই ফিরে আসাটা এতোটাই স্বাভাবিক ছিল যে ওদের মধ্যে এটা নিয়ে কেউ কিছু বলতো না। কিন্তু ওই মধ্যবিত্ত ঘরের লোকজন সময় সুযোগ পেলে বাড়িতে কাজ করতে আসা বৌদি, কিংবা মাসীদেরকে কথা না শুনিয়ে ছাড়তো না। কারণ, মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে বিয়ের পর স্বামীর ঘর করতে না পারলে পরিবারের মাথা কাটা যায়। 

মধ্যবিত্ত সমাজে লোকলজ্জার ভয় প্রচুর, ছোট থেকে আমাদের শেখানো হয়, মেয়েদেরকে তো মানিয়ে গুছিয়েই চলতে হয়। সেই মানিয়ে গুছিয়ে চলাটা যে কতটা অবধি মানানো সেটা বলা বেশ কঠিন। কোনো ক্ষেত্রে হয়তো বরের ধমকি, কোনো ক্ষেত্রে হয়তো সারা গায়ে কালশিটে। আর সেই ঘটনাগুলো কিন্তু পরিবারের সবাই জানেন। এগুলো হলো 'ওপেন সিক্রেট', সবাই জানে কিন্তু প্রকাশ্যে বলতে মানা।
এই কদিন ধরে যত যত গৃহবধূ হত্যার খবর আমরা পড়লাম, প্রত্যেকটাতেই মেয়েগুলোর বাপের বাড়ির লোক কিন্তু বলেছে, আমরা জানতাম জামাই এরকম, পণের জন্য অত্যাচার করতো, কিন্তু কোনো অজ্ঞাত কারণে' প্রত্যেক পরিবারই ভেবেছিলো 'সব ঠিক হয়ে যাবে'। এই অজ্ঞাত কারণটা যে কি এবং কি ঠিক হয়ে যাবে সেইটা সেই ছোটবেলা থেকে আজও আমি বুঝে উঠতে পারলাম না।

মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর পরই কাকিমা জেঠিমারা নিজেদের জামাইয়ের প্রশংসায় পাগল হয়ে যেতেন, এমন জামাই নাকি হয় না। তারপর ধীরে ধীরে কানাঘুষো শোনা যেত, জামাইয়ের এই দোষ ওই দোষ। কিন্তু পুজো বা পারিবারিক অনুষ্ঠান ছাড়া মেয়ে বাপের বাড়ি আসতো না। এবং সেটি তার শ্বশুরবাড়ি ভালো হওয়ার নমুনা, 'NOT' সেই মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েটার সাফল্য।
আর ভুল ক্রমে কেউ যদি ফিরে আসতো, তাতে শ্বশুরবাড়ির বিশেষ দোষ হতো না, কিন্তু মেয়েটির মানিয়ে না নিতে পারার  অক্ষমতার প্রচুর সমালোচনা হতো।

এখন অবশ্য সেই 'দিন আনি দিন খায়' পাড়াতেও আমাদের মতো পাড়ার ছোঁয়া লেগেছে। গ্রামগুলোর সার্বিক উন্নতির দৌলতে তাদেরও পাকা ঘর হয়েছে, যে দুটো প্রচলিত কথা ছিল, সে দুটোই আজ পুরোনো হয়েছে, সরকরি প্রচার এবং 'আশা' স্বাস্থ্য কর্মীদের প্রচেষ্টায় মুহুর্মুহ বাচ্চা হওয়াটা বন্ধ হয়েছে, সাথে সাথে বিয়ের পর মেয়ের বাপের বাড়ি ফিরে আসার চলও কমেছে, হাতে টাকা এসে বোধহয় চক্ষুলজ্জা বেড়ে গেছে সকলের। 

কিন্তু ঘরের ভিতরের 'ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স' কি কমেছে, আশে পাশের কারণসুধা বিক্রির বহর দেখে তো তা মনে হয়না। 
তাই মনে প্রশ্ন জাগে, নারীজীবনের স্বার্থকতা কোনটাতে বেশি, কালশিটে গায়ে শ্বশুরবাড়ির হেঁসেল ঠেলা নাকি নবজাতককে কোলে নিয়ে অন্যের বাড়ি কাজ করে নিজের খরচ নিজেই জোগাড় করা?

আরো একটা কথা মনে পরে গেলো, সেটা দিয়েই আজকের লেখাটা শেষ করি। 
ওই পাড়াতে একটা বৌকেই মরতে দেখেছিলাম আগুনে পুড়ে, সরাসরি নয়, ঘরটা পুড়তে দেখেছিলাম। শুনেছিলাম সে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টায় ছিল। 


বিঃ দ্রঃ কারো কারো জামাই সত্যিই খুব ভালো হন, দয়া করে সেই জামাইদের শ্বাশুড়িরা আমায় গাল পাড়বেন না। আমি তো জানিই পৃথিবীতে ব্যতিক্রম আছেই, বৌমারাও দজ্জাল হন আর বৃদ্ধ পিতা মাতাদের প্রতি সন্তানদের অবহেলা সংক্রান্ত লেখা লিখেই আমার ব্লগটার সূচনা করেছিলাম। 

Thursday, 29 September 2016

সাদাকালো

তুমি খারাপ আমি ভালো
সোজাসাপ্টা সাদাকালো।
আমি বাঁচলে মরবে তুমি
অথবা, তুমি বাঁচলে আমি।

আমার ভাবনা আমার নীতি
অরাজি হওয়াই তোমার রীতি।
শান্তিচুক্তি আলোচনা সব
সহাবস্থান অতি অসম্ভব।

আমি যদি রুখি শফকত আলী
তুমিও দেখোনা আনটোল্ড স্টোরি।
বিনা যুদ্ধে সুচাগ্র মেদিনী
কেহ নাহি দেব, এইটুকু জানি।

হামলা তুমি চালালে উরি'তে
আমার জবাবও এক তুড়িতে।
তোমার পঁয়ত্রিশ নাকি আমার আঠারো
গুনতিতে কম হলে আমার পোয়াবারো।

এরই মাঝে পড়ে আমার ছরা'তে
যদি আলো হারায় আমারই ঈশা,
মনে রেখো, তোমার গুলির ভয়েতে
বিলেতে বাঁচে তোমারও দিশা।

শান্তি নয়, তোমার যুদ্ধ চাই
মরলে মানুষ ক্ষতি কিছু নাই।
তবে চলুক এ লড়াই, চলতেই থাক
সমাজ উন্নয়ন সব থেমে যাক।

Sunday, 25 September 2016

Translation of অঙ্ক (Math), সুর (Tune), সৌভাগ্যবতী (Lucky girl)

অঙ্ক (Math)

Why are you analysing for the whole day?
As if my mind is math!
It’s ‘mind’ dear, way more complicated.
You can’t read it so easily.

So, it will be better if we stay quiet
And just look at the sky.

If you are always concerned about
The basic physics of the spectrum,
You will miss the pleasure of watching
Colours which are covering the sky.

Why to find the things which are meant to be lost?
Why to interpret the things which are baffling?

It’s life, not the math.
You can’t solve it just because you want to.
Let leave something mystified.
Is it too important to explain everything? 


সুর (Tune)

I wish I could tell you
Some of the stories.
But I can’t,
Because I am afraid.
I am afraid of
Interrupting the tune
Which has just been started
To play for us.

Those are not lullabies.
It will not help you to sleep.
Rather you may go through
Some sleepless nights.

I wish not to disturb
Your enchanting night.
I don’t want to make it
Painful restless for you.
So, I am keeping those
Broken-dream stories within me only.

সৌভাগ্যবতী (Lucky girl)

Oh Girl,
You are so lucky.
Because you have born,
Your mother had not to
Lie on bed of abortion room
Even after knowing
You are coming.

Really, very lucky you are.
You have got
The chance to go to college.
Your progressive family believes
Girls should be educated
Just like boys.

I must say
Lady luck is with you.
You have got a job and
Lucky enough to continue.
Because your family believes
Nowadays girls should be responsible
Just like boys.

You are really lucky my dear.
Because even after giving birth
To a girl child
Your husband kisses you on forehead
And tells you
‘For me girls are
Just like boys’.

And suddenly you wake up
From the dream of being lucky.
You remember, once
You wanted to be known
Just as a 'human'.

Instead you have registered your name
In a race
Where in every moment 
You have to prove
Girls are not weak
Girls can do everything
Just like boys.

All those frozen agonies
From your hearts come out
And flow from your eyes.
You tightly hold your daughter
With all of your affections.
And suddenly your entity
Of being a woman rises up.
You start to realise
You have to be way more careful
As a mother of a girl child.

Alas! Also in this ‘birth’
Your wish to be lucky
just as a ‘human’
got muffled by
‘Oh dear, you are a lucky girl’.

Thursday, 22 September 2016

Blog সংক্রান্ত

এই মুহূর্তে আমার ব্লগের view ২২২২, মোটে ২০ টা post আছে (এই লেখাটা এখুনি publish করলাম, তাই include করলাম না), তাহলে গড় করলে দাঁড়ায়, আমার প্রতিটা পোস্ট ১১১.১ জন করে পড়েছেন।
'আমার প্রবাসী জীবন' এই লেখাটা ৩ দিনে প্রায় ৩০০ বার পড়া হয়েছে, এটা আমার কাছে সত্যিই ভীষণ আনন্দের। আমি তেমন ভাবে ব্লগের প্রচার করিনি, মানে ব্লগে লিখলেও ফেসবুকে শেয়ার করতাম না। শেষে আমার বন্ধু, হানটুর ধমকিতে পড়ে, শেয়ার করতে শুরু করি। আসলে যখন আমি কিছু লিখি তখন শুধু লেখার আনন্দেই লিখি, এটা ভেবে হয়তো লিখিনা, যে কে পড়বে বা না পড়বে, কিন্তু লেখা হয়ে গেলে দুনিয়াকে জানাতে ইচ্ছে হয়, ইচ্ছে হয় আরো দু-চার জন পড়ুক। সেই দু-চার জন থেকে দুহাজার জন আমার লেখা পড়ে ফেলেছেন সেটা ভেবে সত্যিই আমি 'বিগলিত'। 😊😊😊😊
আমার লেখা আমার দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা, আমি যে ভাবে দুনিয়াকে দেখি, সেই ভাবেই লিখি। তাই, আমার লেখার মধ্যে যখন কেউ নিজেকে খুঁজে পায় তখন (বিষ্ময়-সহ) আনন্দ হয়।
আমার প্রিয় বন্ধুর ফরমায়েশে, 'এগারো বছর পর' লিখেছিলাম, তার ভালো লেগেছিলো, নিজেকে বেশ সার্থক মনে হয়েছিল। অবশ্য, অনেকেই ওই লেখার সাথে নিজের মিল খুঁজে পেয়েছেন। তবে আশ্চর্যের বিষয়, ওই লেখার পর, আমি আর এক বন্ধুর কাছ থেকে লেখার ফরমায়েশ পেয়েছি, তার মনে হয়েছে, আমি তার কথাটাও লিখে ফেলতে পারবো আর তার সেটা পড়তে ভালো লাগবে। সত্যিই এটা আমার কাছে প্রাপ্তি। আমি পেশাদার লিখিকা নয়, রোজ রোজ লিখিও না। তাই, আমার ব্লগ নিয়মিত update হয়না। উপরুন্তু, আমি লিখলে আমার মায়ের রাতে ঘুম হয়না, সে কথা উনি ফেসবুকে পোস্টও করেছেন।😜😜😜😜
তবুও যখন মাথার মধ্যে ভাবনা চিন্তা ঘুরে বেড়ায়, না লিখে উপায় থাকে না। বন্ধুর আবদার নিশ্চয় মেটাবো যদি মাথায় শব্দ আসে। মাঝে অনেক বছর লেখা, গান, ছবি আঁকা থেকে দূরে ছিলাম, চর্চায় ছেদ পড়েছে। তারপর দেখলাম, পড়াশুনো বাদে আমি যেমন থাকতে পারি না, এগুলো বাদেও আমি সম্পূর্ণ নই। নিজেকে ফিরে পাওয়ার প্রয়াসেই এই ব্লগের সূচনা। আমি প্রথম গল্প লিখেছিলাম তখন হয়তো আমার ৬/৭ বছর বয়স ছিল। এখন আমি নিজের ১২/১৩ বছর বয়সের লেখা বা ছবি আঁকা দেখলে নিজেই অবাক হয়ে যায়। স্কুলে ভর্তি হওয়ার আগে আঁকা আর গান গাওয়া শুরু করেছিলাম। সীতার বনবাসের মতো টানা চোদ্দ বছর গান শিখেছিলাম। এখন না গান না আঁকা, কিছুই আসে না তেমন। লেখাটাও আসে না। তবুও লিখি যা ভাবি তাই। মা, মামা, দিদি, ছোড়দিভাই, বন্ধু আর এই ব্লগ view আমাকে এইসব ছাই পাশ লেখাতেও উৎসাহিত করে। তাই লিখে যাই মাঝে মাঝে সময় সুযোগ পেলে। নিজেকে হারালে কষ্ট বড়ো তাই লেখার সাথে বেঁচে থাকি। 😊😊😊

অঙ্ক

কি সারাদিন অঙ্ক কষিস?
মন কি আমার অঙ্ক নাকি?
মন, সে তো জটিল অনেক,
খুঁজলেই কি তল পাবি তার?

তার চে বরং চুপ থাকি আয়।
চেয়ে চেয়ে আকাশ দেখি।

সাত রঙের ওই রামধনুতে
যদি শুধুই 'প্রিজম' খুঁজিস
আকাশ জুড়ে আলোক মালার
কিছুই কি আর ছুঁতে পাবি ?

খুঁজে কি লাভ যা হারিয়ে যাবে ?
বুঝে কি লাভ যা কঠিন বড় ?

জীবন এ তো, অঙ্ক তো নয়,
চাইলেই তুই (উত্তর ) মিলিয়ে দিবি ?
কিছুটা নয় নাই বোঝা থাক
সবকিছুই কি বুঝতে হবে?


Note: এটা আসলে আমার উদ্দেশ্যেই লেখা, আমি একটু বেশি বুঝতে চাই, আর সেটা বুঝতে গিয়ে অনেক সময় মুহূর্তগুলোকে হারিয়ে ফেলি। এটা আমার মায়ের জন্যও খাটে। কিন্তু 'বুঝে কি লাভ যা কঠিন বড় ? সবকিছুই কি বুঝতে হবে?'
So moral of the story is, বেশি ভালোবাসা, বেশি ভাবার মতো বেশি বোঝাও ভালো নয়। (আমার আগের লেখা গুলো যারা পড়েছেন তারা হয়তো relate করতে পারবেন, কেন বললাম।)

Monday, 19 September 2016

আমার প্রবাসী জীবন

গতকাল আনন্দবাজার রবিবাসরীয়তে 'শুভময় মিত্র'-র বিলেত ভ্রমণ সংক্রান্ত লেখা পড়লাম। 'জাস্ট যাচ্ছি' আমার এমনিই পড়তে ভালো লাগে, তার উপর ওঁনার গতকালের লেখাটা ছিল বিলেতের জীবন নিয়ে, তাই আরও একাত্ম হয়ে পড়লাম। ওঁনার লেখা কখনোই তথাকথিত ভ্রমণ কাহিনী হয় না, কতগুলো দ্রষ্টব্য স্থান দেখে বর্ণনামূলক কাহিনী উনি লেখেন না, উনি সেই জায়গাটার স্পন্দনটা তুলে ধরেন, সেই কারণেই ওঁনার লেখা আমায় আকৃষ্ট করে। আমার প্রবাস জীবন নিয়ে অনেকেরই কৌতূহল আছে, তাই twitter-এ ওঁনার লেখাটা share-ও করে দিলাম। 
তারপর মনে হলো, প্রবাসের ছাত্রজীবন নিয়ে আমিও কিছু সংযোজন করতে পারি। আমার পরিচিত অনেকজনের প্রবাস জীবন নিয়ে অনেক ভ্রান্ত ধারণা আছে এবং সেই ধারণা আবার তাঁরা প্রবাহিত করেন আরো অনেক লোকজনের মাঝে। তাঁদের সেই ভ্রান্তধারণা খুব একটা বদলাবে কি? জানি না। তবুও কিছু কথা জানানোর ইচ্ছে থেকেই এই লেখার অবতারণা।

আমার লেখাটা পড়ার আগে, এই লেখাটি পড়ে নেয়া যেতে পারে।  
Story of a vagabond and a police - Anandabazar http://www.anandabazar.com/supplementary/rabibashoriyo/story-of-a-vagabond-and-a-police-1.479800

------

আমি যখন এদেশে আসি, তখন জানতাম, এদেশে নিজে রেঁধে খেতে হয়, তাতে আমি খুশি ছিলাম, অন্তত হোস্টেল-র ওই জঘন্য খাবার তো খেতে হবে না, খেতে খারাপ হলেও আমারই রান্না, ভালো হলেও তাই। কিন্তু এদেশে এসে, জানলাম, শুধু রান্না নয়, জুতো সেলাই থেকে চন্ডীপাঠ সবটাই নিজেকেই করতে হয়। এখানে শ্রমজীবীদের পারিশ্রমিক যথেষ্ট চড়া, তাই একমাত্র 'রাজা-রানী' বাদে কেউ-ই 'helping hand' রাখতে পারেন না। সাধারণ মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত, সকলকেই নিজের গাড়ী নিজেকেই চালাতে হয়, ঘর দোর সাফ সাফাই, রং করা, বাগান পরিষ্কার সমস্ত কিছু নিজের হাতে করতে হয়। এমনকি নিজের বাড়ি extension নিজেই করছেন, সেটাও আমি দেখেছি। কাজেই কাউকে দোষারোপ করার সংস্কৃতি এখানে একদমই নেই, 'কিরে মালতী ওই জায়গাটায় ধুলো কেন?', এখানে আসলে একথা বলার সুযোগ আপনি হারাবেন। আমার এই কর্মসংস্কৃতিতে মানাতে অসুবিধা হয়নি, কারণ বেশ ছোট থেকেই আমি নিজের কাজ নিজেই করতাম, তার উপর প্রায় ১০ বছর হতে চললো, আমি বাড়ির বাইরে আছি। তাই নিজের room-এর light ঠিক করার জন্য ladder চড়তে হলে আমি দুঃখ পাই না, বরং নিজের প্রতিটা কাজ নিজে করছি বলে, স্বাবলম্বী হওয়ার আনন্দটা পাই।

কাজেই পায়ের উপর পা তুলে চায়ের আড্ডায় বসে, যারা বলেন ও দেশ সুখের দেশ, তাহলে বলি, এদেশ তাদের জন্যই সুখের যারা নিজের কাজ নিজে করতে ভালোবাসেন।

তবে, দেশে থাকা লোকজনের ভুল ধারণা হওয়ার পিছনে আমাদেরও কিছু দোষ আছে। আমরা, যারা বাইরে থাকি তারা facebook-এ সবুজ country side এর ছবি দিই, শীতকালে বরফের মধ্যে লুটোপুটি করার ছবি দিই, বন্ধুদেরদের সাথে house party করার ছবি দিই, কিন্তু জানাইনা, অনেকক্ষনের driving-এর ক্লান্তির কথা, বরফের মধ্যে দৈনন্দিন জীবনযাপনের অসুবিধার কথা আর party শেষে বাড়িঘর ধুয়ে মুছে সাফ করার কথা।
এখানে public transport একদমই সস্তা নয়, তাই বেশিরভাগ লোকজনদেরই গাড়ি কিনতে হয়, বাজারঘাট করার জন্য। আপনি হাঁক দিলেন, ১০ তা রিকশা পেয়ে গেলেন, সে উপায় এখানে নেই।তবুও বলবো, UK-র public transport অনেক ভালো US-র থেকে (শোনা কথা, আর আমি কিন্তু প্রধান শহরের কথা বলছিনা, সবাই London বা Newyork তো থাকেন না)। আমার US নিবাসী বন্ধুদের সকলকেই প্রায় গাড়ী কিনতে হয়েছে, বিলাসিতার জন্য নয়, দরকারের জন্য। নইলে হয়তো কয়েক কিলোমিটার হেঁটে আসতে হবে, বাজারের ব্যাগ নিয়ে। আমার গাড়ি নেই, আমাকে প্রায়ই ৫/৭ কেজি জিনিসপত্র নিয়ে ১/২ কিলোমিটার হাঁটতে হয়। এটা এখানে খুব স্বাভাবিক ব্যাপার, অত্যন্ত বৃদ্ধ বয়স্ক মানুষজন যখন নিজের জন্য নিজেই জিনিসপত্র কিনে টুকটুক করে হেঁটে যান, তখন নিজের জন্য নয় বরং ওঁনাদের জন্য খারাপ লাগে।

বরফ না থাকলে অবশ্য হাঁটতে কোনো অসুবিধা হয়না। কিন্ত শীতের ঝোড়ো হওয়ার মধ্যে পিচ্ছিল বরফের উপর দিয়ে বাজারের ব্যাগ নিয়ে আসতে ভারী কষ্ট হয়। তার থেকেও কষ্ট হয়, যখন আছাড় খেতে খেতে বাস স্ট্যান্ডের প্রায় কাছে পৌঁছে দেখলাম, বাসটা চোখের সামনে দিয়ে চলে গেলো, অথচ দৌড়ে গিয়ে ধরবো, তার উপায় নেই, কারণ দৌড়াতে গেলে নির্ঘাত বাজার, আমি, ব্যাগ শুদ্ধ চিৎপটাং হবো। পরের বাসটা, লেখা যদিও আছে ৩০ মিনিট পর কিন্তু শীতকালে বাস টাইমটেবিল মেনে চললে সূর্যও পশ্চিম দিকে উঠবে। অগত্যা, ওই ঠান্ডায় ঝোড়ো হাওয়াই দাঁড়িয়ে কাঁপাই তখন ভবিতব্য। এই সমস্ত ব্যাপারগুলো নিয়ে আমার কিন্তু কারো কাছে কোনো অভিযোগ নেই, প্রতিদিনের জীবনের সাধারণ ঘটনা এগুলো। কিন্তু আমি এই কথাগুলো, তাদের জন্যই বলছি, যারা কথায় কথায় আমায় (আমার মতো প্রবাসী বন্ধুদের) বলেন, 'তোদের তো সুখের শেষ নেই', কারণ আমি/আমরা উন্নত দেশে থাকি। উন্নত দেশ এই কারণেই হয়তো বলা হয়, এখানে জীবন যাত্রার মান উন্নত, কিন্তু সব কিছুই সহজলভ্য, এমন নয়।

এই প্রসঙ্গে, আমি UK-র National Health Service (NHS)-এর কথা বলি। আমাদের দেশের মতো পয়সা দিয়ে চিকিৎসা কেনা যায় না বলে, আমি যে বিপদে পড়েছিলাম, সেই কথাটা একটু জানাই। আমার বাবা মা এসেছিলেন, আমার কাছে। এখানে private medical service খুঁজে পাওয়া খুব মুশকিল, যদিও বা আছে, তার জন্যও প্রচুর নিয়ম কানুন। UK-র বাসিন্দা অথবা UK-র ভ্রমণার্থী সকলকেই NHS-এর শরণাপন্ন হতে হয়। এখানে টাকা দিয়ে আপনি কোনো সুবিধা করতে পারবেন না। হটাৎ করে কোনো pharmacy-তে গেলেন, আর বললেন, 'আমায় এই এই ওষুধ দাও, আমার ব্লাড টেস্ট করে দাও', কোনোটাই হবে না। এখানে আসার পর, আমার বাবা জ্বরে পড়েন। আমি ৪-বার তাঁকে NHS centre নিয়ে গেছি, প্রতিবারই আমাদের কথা মন দিয়ে তারা শুনেছেন, কিন্তু কিছুতেই তাদের মনে হয়নি, ব্লাড টেস্ট করা জরুরি, তাই ৩ সপ্তাহের জ্বরের পরেও কোনো ব্লাড টেস্ট না করেই বাবাকে দেশে ফিরতে হয়েছিল। যদিও জানি, NHS একজন গৃহহীনকে যেভাবে চিকিৎসা দেবে, একজন মন্ত্রীকেও সেই একই রকমেরই পরিষেবা দেবে, টাকা দিয়ে চিকিৎসা যেহেতু এই দেশে হয়না, তাই সবাই সমান, কিন্তু বাবার শরীর খারাপের মধ্যে NHS system-এর উপর প্রচন্ড রাগ হচ্ছিলো, একটা অসহায়তা কাজ করছিলো যে আমি এদেরকে বোঝাতেই পারলামনা, আমার বাবা tropical country থেকে এসেছেন, ৩ সপ্তাহ জ্বর থাকলে, ব্লাড টেস্ট করা ভীষণ জরুরি।
তাই, উন্নত দেশ মানে হয়তো গরিব বড়োলোকের পরিষেবার পাওয়ার সম্যতা, পয়সা দিয়ে চিকিৎসা কেনা  নয়।

এবার একটু আসি, ঘরের ভিতরের জীবনযাত্রাতে। এখানে 'undergrad'-এর ছেলে মেয়েরা হোস্টেলে থাকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, তবে এটা ভাবার কোনো কারণ নেই, 'ওমা ছেলে মেয়ে একসাথে, হায় রাম, ইসস ছিঃ ছিঃ'। এখানে আপনি দরজা বন্ধ করে থাকলে কেউ আপনাকে জ্বালাতে আসবে না, কেউ কারো প্রতি আসক্তি দেখাতেই পারে, কিন্তু ওপরপক্ষ উৎসাহ না দেখলে, দ্বিতীয়বার বিরক্ত করতে আসবে না। দেশের ভাষায় যাকে বলে পিছনে লাগা, সেইটা কেউ করবেনা। তেমনি আপনি 'bar' গিয়ে simple জল নিয়ে বসে থাকলেও বিষ্ময় দেখাবেনা কেউ বরং কোনো ভারতীয় আপনাকে দেখলে  তাচ্ছিল্য করতে পারে।

'Undergrad'-এ যদিবা হৈ-হুল্লোড় করে বেনিয়মে চলে, আমরা Graduate student-রা তো almost staff chategory পড়ি। নিজেদের মতো বাড়ি ভাড়া করে থাকি । ৯-৫তা অফিস যাই।রোজকার sign-এর ব্যাপার নেই, কিন্তু কেউ কামাই করেনা, নিজের কাজ নিজে মুখ বুঝে করে যাওয়াটাই দস্তুর। পাশে বসা লোকটার পরিচয়-ও জানিনা। সবাই নিজের কাজ নিয়ে মগ্ন। তা বলে কি কথা হয়না? হয়, হয়তো কোনো get together হলো institute থেকেই, তখন হয়তো ৬মাস পর, পাশে বসা লোকটার নাম জানা গেলো। আমি যে অফিসে বসি, সেখানে মোটামুটি ৫০ জন বসেন, আমি মেরে কেটে ১০জনের নাম জানি।
তাহলে কি, এখানকার মানুষ social নয়? হয়তো নয়, কিন্তু তাতে কোনো সমস্যা নেই। আমাদের দেশে, নাম ধাম জেনে কে কার অসুবিধায় এগিয়ে আসে? মেকি সহানুভূতি দিখিয়ে যান অনেকেই, কিন্তু সত্যিকারের সাহায্য খুব কম লোকেই করে।এখানে আমার নাম না জানলেও, আমায় কেউ অসুবিধায় দেখলে জিজ্ঞেস করে যায়, Is everything alright? May I help you somehow?

আরো অনেক কিছু লেখার ছিল, কিন্তু ঘুমানোর সময় হয়ে গেলো, তাই reserch সংক্রান্ত দু-একটি কথা বলে এই লেখাটার পরিসমাপ্তি করি।

এখানে আসার আগে, আমি দেশের অগ্রগণ্য 'technological institute' গুলোর একটির student ছিলাম। সেখানে কিছু লোকজনের অদ্ভুত ধারণা ছিল। সেখানে অনেকেই বলতো, বাইরেতো কোনো কাজই করতে হয়না, তাই ৩ বছরে phd শেষ হয়ে যায়, কোনো Data নিজে নিতে হয়না, technician-রা সব করে হাতে ধরিয়ে দেয় result।
এটা একদমই সত্যি নয়! এদেশে এসে আমি দেখেছি, শুধু reserch নয়, reserch সংক্রান্ত সমস্ত কাজ নিজেকেই করতে হয়, যেমন laboratory ধোয়া মোছাও (যেটা দেশে কিন্তু আমি করিনি তেমন)।তবে শুধু আমরা নই, আমাদের প্রফেসরাও সেই কাজে নির্দ্বিধায় যোগ দেন।

আগে আমি English-এ কথা বলতে ভয় পেতাম, আমি মুখ খুললেই কেউ না কেউ ভুল ধরিয়ে দেওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকতো।ভুল ধরিয়ে দেয়া খারাপ নয়, কিন্তু সেটা যখন উৎসাহের থেকে বেশি নিরুৎসাহিত করে, সেখানেই মুশকিল। অথচ এখানে এসে দেখলাম, আমরা ভারতীয়রা অনেক European, Chinese, Iraqi দের থেকে বেশ ভালোই কথা বলি (এটাও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, তথ্যগত নয় )। আর কেউ ভুল বললেও ওপর পক্ষ রে রে করে তেড়ে আসেনা, ভুল বলতে বলতেই শিখে যায়।

UK-তে research করে আমি আহামরি কিছু achieve করিনি, দেশে থাকলেও হয়তো এমন কিছুই করতাম।আমি যেটা অর্জন করেছি, সেটা অভিজ্ঞতা আর আত্মবিশ্বাস।এবং সেই দুটো আমার কাছে দামি। চাকরি পাওয়া আমার জন্য সহজ নয় (যারা ভাবেন খুব সহজ, তাদের অবগতির জন্য বলা!) কিন্তু আমি বিশ্বাস করি আমার অভিজ্ঞতা (not only related to research but about life) যেকোনো কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও আমাকে হতাশা থেকে বাঁচাবে এবং আত্মবিশ্বাস আমাকে ভবিষ্যতের লড়াইয়ের জন্য শক্তি যোগাবে।

'নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিশ্বাস, ওপারেতে সর্ব সুখ আমার বিশ্বাস'-এই চিন্তা ধারায় আমি কখনোই বিশ্বাসী ছিলাম না। আমি মনে করি অন্যে সুখে আছে ভেবে হা হুতাশ না করে নিজেকে কি করে সমৃদ্ধ করা যায়, সেই চেষ্টাই করা উচিত।
কিন্তু যারা ওই চিন্তাধারায় বিশ্বাসী, তাদের জন্যই এই লেখাটা। কারো জীবনই সহজ নয়, তাই খামোকা predict না করে  একটু উন্মুক্তমনা হয়ে ভাবার চেষ্টা করা ভালো।

বিঃ দ্রঃ জানি একটু আক্রমণাত্মক লেখা লিখে ফেললাম, কিন্তু লোকজনের ভুলভাল কথা শুনতে শুনতে, মনে মনে একটু উত্তেজিত হয়তোবা হয়ে পড়েছিলাম। সেই কারণে, মাকেও একদিন বলে ফেলেছিলাম, মা আমার বিয়ের জন্য ছেলে দেখলে এমন ছেলে দেখো, যে অন্তত ২-৩মাসের জন্য হলেও বাইরে এসে নিজে রেঁধে বেড়ে খেয়ে কাজকর্ম করে গেছে।     

Wednesday, 14 September 2016

এগারো বছর পর

পাঁচ সাত নাকি এগারো
কবে প্রথম দেখা হয়েছিল
মনে পড়ে কি, এখনো?

স্কুলের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে
অপেক্ষায় থাকতাম তোর
বুঝতে কি পেরেছিলি, কখনো?

কখনো বা রাস্তার মোড়ে
আটকে রাখতাম তোকে
কবিতা কিম্বা রাজনীতির অজুহাতে।

সাইকেল করে বাড়ি ফেরার পথে
গান শোনাতাম, তোরও কি কিছু
ভালোলাগা মিশেছিল তাতে?

অথবা সেই বৃষ্টি মাথায় পড়তে যাওয়া
সে তো ছিল কেবল তোকে
একটিবার দেখতে চাওয়ার ছুঁতো।

সাইন্স ল্যাবের ক্লাস আলাদা
রাগ হতো খুব।
এখন ভাবি, ইস, যদি একসাথে হতো।

তারপর সেই হারিয়ে গেলি,
বলা হলো না সেসব কথা
অজস্র সব আঁকিবুকি, ভাবনা আমার।

পেরিয়ে গেলো অনেক বছর
এখন যদি হটাৎ করে
ডাকি তোকে, আসবি আবার?

বিঃ দ্রঃ এই লেখাটা এক বন্ধুর ফরমায়েশে লেখা, প্রথমবার চেষ্টা করছি কারো হয়ে ভাবতে, ঠিকঠাক তার ভাবটা প্রকাশ করতে পারলাম কিনা, বুঝতে পারলাম না। পরীক্ষায় পাস করলাম কিনা, সেটা জানার অপেক্ষায় থাকলাম। 

শিকার

একসাথে থাকলেই কি বন্ধু হওয়া যায়?
সে তো সিংহ আর হরিণ একবনেই থাকে।
মাঝে সাঝে সিংহ যে খেলা করেনা
হরিণশিশুর সাথে, তা নয়।
কিন্তু ওটা কেবলমাত্র খেলাই।
খেলা শেষে সিংহের খিদে পেলে,
হরিণশিশুর কিন্তু রেহাই নেই।

তার থেকে বরং ভালো হতো
সিংহ যদি বন্ধুত্বের ভেক  না ধরতো।
প্রানপন দৌড় করতো,
যতক্ষন না হরিণের শ্বাস আটকে যায়,
বাঁচার আশা শেষ হয়ে যায়।

বেচারা হরিণশিশু, ঘাড়ে তীক্ষ্ন দাঁতের
স্বর্শ পাওয়ার আগে অবধি বুঝতেই পারলো না
যাকে সে বন্ধুত্বের স্বাদ ভেবেছিলো,
সে তো খালি তাকে রক্তের স্বাদের জন্য
জিইয়ে রেখেছিলো।

খাদ্য খাদকের সম্পর্কে
অযথা ভালোবাসার রং চড়িয়ে কি লাভ?

লেখার উৎসাহটা পেয়েছি, অনেকদিন আগের একটা বাস্তব ঘটনা থেকে, কৌতূহলীদের জন্য খুঁজে পেতে লিংক টাও দিয়ে দিলাম।
তবে ছদ্দ্ব ভালোবাসার কাহিনীর সাথেও মন্দ যায় না। লেখার সময় আসলে সেই মিলটাই মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিলো
http://www.livescience.com/34279-lioness-baby-antelope-kob.html

সুর

তোমাকে অনেক গল্প
বলতে ইচ্ছে করে।
বলতে পারিনা,
ভয় লাগে বড্ডো।
যে তারটা বাধঁছিলাম
তোমার জন্য,
সেটা যদি বেসুরো হয়ে যায় হটাৎ!

গল্পগুলোতো রূপকথা নয়,
তাই শুনতে শুনতে
ঘুমিয়ে পড়বে
তারও উপায় নেই।
বরং জেগে থাকতে পারো,
অনেককটা রাত।

তোমার মায়াবী রাত গুলোকে
নিষ্ঠূর কর্কশ বানাতে
ইচ্ছে করে না।
তাই স্বপ্ন ভাঙ্গার কষ্ট
সেটা নয় আমার কাছেই থাক।

Monday, 12 September 2016

নারীবাদ?

আজ আনন্দবাজারে অমিতাভ বচ্চনের সাক্ষাৎকার পড়লাম। দুটো কথা বেশ মনে দাগ কেটেছে।
১. ঢোল, গওয়ার, শুদ্র, পশু, নারী, ইয়ে সব তাড়নকে অধিকারী। কী অসম্ভব বিদ্বেষমূলক একটা মন্তব্য। অথচ যুগ যুগ ধরে চলছে।
২. ‘পিঙ্ক’ রিলিজ হতে দিন। দেখবেন মহিলাদের ছোট করে পার্টিফার্টিতে হাসিমশকরা আর তাদের পিছনে লাগাটা বন্ধ হয়ে যাবে।

অত্যন্ত অশাদায়ক কথা। কিন্তু একই সঙ্গে পরস্পরবিরোধী। একবার বলা হলো যে নারীদের (এই লেখাতে শুধুমাত্র নারীদের নিয়েই বলছি, তাই বাকিগুলো উল্লেখ করলাম না) প্রতি বিদ্বেষ যুগ যুগ ধরে চলছে আর পরক্ষনেই বলা যে একটি সিনেমা পুরো পরিস্থিতি বদলে দেবে! ফিল্মী ডায়লগ হিসাবে মন্দ নয়, কিন্তু বাস্তবসম্মত কি?

অনেকে আমাকে জিজ্ঞেস করেন আমি কি নারীবাদী, নারীদের নিয়ে আমার সচেতনতা তারা ঠিক বুঝতে পারেন না। কেউ কেউ অবশ্য চেষ্টা করেন, তাদেরকে ধন্যবাদ। এবার প্রশ্ন হলো আমি কি নারীবাদী? উত্তরটা জটিল নয় কিন্তু এক কথায় হ্যা বা নাও বলতে পারছিনা।
নারীস্বাধীনতা মানে যদি উচ্চবিত্ত ঘরের মেয়েদের সিগারেট মদ খাওয়ার অধিকার হয়, polygamy-র স্বাধীনতা হয়, তাহলে না, আমি মোটেই নারীবাদী নয়। প্রথমকথা, আমি ব্যক্তিগতভাবে সিগেরেট বা মদ্যপানের বিরোধী হলেও কারোর খাওয়া নিয়ে আমার কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। আমি এটাকে, 'ওরে বাবা, একি অনাছিষ্টি' ভাবিনা, তেমনি এর মধ্যে 'Hey Dude, be cool' মার্কা কোনো আহামরি ব্যাপারও দেখিনা। ছেলেরা যেটা করছে সেটা আমাকে করে ওদের মতোই হতে হবে, এর মধ্যে প্রতিযোগীতা থাকতে পারে, স্বাধীনতা আছে কি?
আর polygamy ছেলেদের জন্য biologically খুব স্বাভাবিক ঘটনা, মেয়েদের জন্য নয়।
কাজেই সেই 'Hey dude, I am cool' দেখানোর জন্য অনেকের শয্যাসঙ্গিনী হওয়ার মধ্যে সার্থকতা নেই। এবার কারো যদি সেটা ব্যক্তিগত পছন্দের ব্যাপার হয়, কারো দ্বারা প্রভাবিত না হয়েই, শুধুমাত্র নিজের ইচ্ছে হয়, সে ক্ষেত্রে, আমার কোনো বক্তব্য নেই।
প্রসঙ্গত উলেখ্য, শারীরিক সুস্বাস্থ্যের জন্য নারী পুরুষ নির্বিশেষে monogamy তে বিশ্বাসী হওয়ায় শ্রেয়।

এবার উক্ত ঘটনা বাদে নারীর অধিকার সংক্রান্ত দাবিদাওয়া, যেমন একটা মেয়েকে জন্মাতে দেয়ার অধিকার, একটা মেয়েকে স্কুলে পড়তে দেয়ার অধিকার, একটা মেয়েকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে দেয়ার অধিকারের জন্য গলা ফাটালে সেটা যদি নারীবাদ হয়, তাহলে আমি ভীষণ ভাবে নারীবাদী। আর যে দেশে, প্রতিদিন লাখ লাখ মেয়ে জন্মানোর আগেই মরে যায়, যে দেশে প্রতিনিয়ত ধর্ষিতারা ওড়নায় মুখ লুকায় আর ধর্ষক বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায়, সে দেশের শুধু মেয়েরা নয়, যে কোনো সংবেদনশীল মানুষেরই নারীবাদী হওয়া উচিত।
এই নারীবাদী শব্দটার মানে কিন্তু চশমা পরে হাতে ঝান্ডা নিয়ে প্রতিবাদসভায় বসা নয়, হ্যা সেটাও দরকার কোনো কোনো চরম পরিস্থিতিতে, কিন্তু প্রথমত নারীবাদ মানে আমি বুঝি একটা অনুভূতি, প্রতিমুহূর্তে দেশে দেশে যত মেয়েরা লাঞ্ছিত হচ্ছে, তাদের জন্য কিছু, ভালো কিছু করার ইচ্ছেটা হলো নারীবাদ। অসহায় মেয়েদের পাশে দাঁড়ানোটা হলো নারীবাদ, এমনকি কোনো স্বামী যদি তার স্ত্রীকে জীবনে চলার পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেন, তাহলে আজকের এই সামাজিক পরিস্থিতির সামনে দাঁড়িয়ে, সেটাও নারীবাদ। একজন মানুষ আর একজনকে সাহায্য করলে সেটা মানবতা হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু বৃহত্তর সমাজ মেয়েদেরকে তো মানুষ হিসাবেই মনে করে না। কাজেই একজন বিপরীত লিঙ্গের মানুষ যদি নারীকে যোগ্য মনে করেন, তাহলে তাকে নারীবাদীই বলতে হয়।
মেয়েরা শারীরিক সক্ষমতায় পুরুষদের সমান হতে পারবে না (খেলোয়াড়দের কথা আলাদা), আবার মেয়েরা যে কাজ করতে পারবে সেটা ছেলেদের পক্ষেও করা সম্ভব নয়। তাই নারীকে সর্বক্ষেত্রেই পুরুষের সমান হতে হবে এই ভাবনা বোধহয় সমস্যার সমাধান করতে পারবে না, যেটা করবে সেটা একটা প্রতিযোগিতা হবে, সেটা একটা ক্ষোভের জন্ম দেবে। বরং যদি ভাবা যায়, দুজন দু রকমের মানুষ, কেউ কারো মতো হতেও পারবে না, হওয়ার চেষ্টাও করতে হবে না, বরং দুই পক্ষই একে অপরকে বুঝুক, একে ওপরকে সম্মান করুক, তাহলে বোধহয় এই বিভাজনটা কিছুটা মিটতে পারে।
'আরে তুই মেয়ে, তুই তোর দাদার মতো থোড়ি না হতে পারবি?' এই কথাটা বলার কি দরকার? এই কথাটাতো দাদার প্রতি হিংসার জন্ম দেবে, নিজে মেয়ে হওয়ার জন্য হতাশা জন্ম দেবে, পরে সে যখন মা হবে, তখন সে নিজের মেয়ের মধ্যেও এই হতাশাকে সঞ্চারিত  করবে। তার থেকে যদি বলা যেত, 'তুমি তোমার মতো, তুমি যেটা পারো সেটা করো, দাদার সাথে তুলনারই দরকার নেই', তাহলে মেয়েটা বোধহয় মেয়ে হওয়ার জন্য দুঃখ পেতোনা।

আমি জানি আমার এই সব কথায় কিছুই পরিবর্তন হবে না, যুগ যুগ ধরে যে বৈষম্য রক্তে মিশে গেছে, যে বিদ্বেষ মিশে গেছে, একটা লেখা বা একটা সিনেমা সেই বিদ্বেষ সেই বৈষম্য কিছুই মেটাতে পারবে না। কিন্তু বড্ডো অসহায় লাগে যখন প্রতিদিন খবরের কাগজ খুললেই দেখি, অ্যাসিড আক্রমণে একটা ফুটফুটে মেয়ে সৌন্দর্যের সাথে সাথে মনোবল হারিয়েছে, নবজাতিকাকে কুকুরে ছিঁড়ে খেয়েছে, কন্যাভ্রূণ হত্যার ঘটনা শহরাঞ্চলে বেড়ে গেছে আর তার অবসম্ভাবী ফলস্বরূপ কন্যাপাচার। (মেয়ে আমি চাই না চাই, বৌ (read, যৌনকর্মী ) ছাড়া কি চলে? )

তবুও ভাবতে ভালো লাগে, অমিতাভ বচ্চনের ফিল্মি ডায়ালগ বিশ্বাস করতে খুব ইচ্ছে করে, 'পিঙ্ক' মুক্তি পেলেই পরিস্থিতি পাল্টে যাবে।
কিছুই পারিনা করতে, তবুও যদি একজনকেও নারীবাদী বানাতে পারে আমার এই লেখা তবেই আমার সার্থকতা, নারীবাদী হিসাবে। 

বিঃ দ্রঃ ঢোল, গওয়ার, শুদ্র, পশু নিয়ে অন্য একদিন আলোচনা করবো ।

Wednesday, 7 September 2016

অনু রূপকথা

রাজপুত্রকে পৌছাতে হবে রাজকন্যার কাছে। পথে অনেক বাধা, অনেক রাক্ষস খোক্ষস সামলে রাজপুত্র তো পৌছালো রাজকন্যার কাছে, কিন্তু বিধি বাম; রাজকন্যা নিজেই এক ঝঞ্ঝাট। সে তার অভিমানের ডালা সাজিয়ে বসে আছে। রাজপুত্রের যে পৌছাতে পৌছাতে এক যুগ পেরিয়ে গেছে!এতো দিনের অভিমান একদিনে কি মেটে? কিন্তু তাতে কি? আমাদের রাজপুত্র কি এতো অল্পে ঘাবড়ে যাওয়ার মানুষ?
না; মানুষ হলে তো ঘাবড়েই যেতো, রাজপুত্র বলেই ঘাবড়ায়নি। সাত সুমদ্র তেরো নদী সে পার করলো, আর রাজকন্যার মনের আঁধারটুকু সে ভাঙ্গতে পারবে না?
পারবে সে নিশ্চয়, রূপকথাগুলো হারিয়ে যাচ্ছে, সেগুলো বাঁচিয়ে রাখা দরকার।  আর তাইতো গল্পের শেষে রাজপুত্র সিংহাসন পায় আর রাজকন্যা হয় তার রানী।

যে রূপকথায় কাঁদে চোখ, সে রাজা রানীর ভালো হোক। । 

Monday, 29 August 2016

কথোপকথন

আমি সবসময়ই দুঃখ বা কঠিন বাস্তব নিয়ে বেশি কথা বলি বা ভাবি। আজও এই লেখাটা লিখতে গিয়ে, এটাকে একটা দুঃখভরা বিরহের কাহিনীতেই পরিণত করতে যাচ্ছিলাম। কিন্তু মস্তিকের মধ্যেই লড়াই বাঁধলো, ডান এবং বামে। একজন চায় সুখের ছাড়পত্র, একজন চায় বাস্তবের প্রতিচ্ছবি। তখন আমি ভেবে দেখলাম, এদের লড়াইয়ে আমার ঘুমটাই মাটি হবে, তার থেকে, কথা না বাড়িয়ে একটা ওপেন এন্ডিং দিয়ে রেখে দিলাম। যে যার নিজের মতো করে ভেবে নাও।  আমার কোনো দায় নেই।  

-----
আরে চিনতে পারছিস? কতদিন পর দেখা তোর সাথে, কিরে অমন হাঁ করে দেখছিস কি? মনে নেই, আমি তোর সাথে স্কুলে ছিলাম।

ওহ! তুই আসলে তুই তো অনেক বদলে গেছিস, স্কুলে তো মুখচোরা ছিলিস, সেই ছেলে এসে এতো কথা বলছে আমার সাথে আমি তো তাইতেই অবাক হয়ে গেছিলাম, আর তা ছাড়া তুই অনেক স্মার্ট হয়ে গেছিস কিন্তু। তা বল কি করছিস এখন? কোথায় আছিস?

কি করছি?? হুম, সে তো অনেক বড়ো কাহিনী, এই বাস স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়েই বলবো? কোথাও গেলে হয়না?


নারে আমার তাড়া আছে, আজ আর সময় হবে না। 

কেন, 'সময় কোথা সময় নষ্ট করবার'?

ঠিক-ই ধরেছিস, বৃষ্টির দিনে চার চারটে বাস মিস করার মতো সময় সত্যিই আর আমার নেই। 

হুম!

কিরে গম্ভীর হয়ে গেলি, কিছু ভাবছিস নাকি?

না, তেমন কিছু নয়, বৃষ্টির সাথে এই যে কবি সাহিত্যিকরা যে প্রেম প্রেম ভাবটাকে জড়িয়ে দিয়েছে, সেটা এক্কেবারে ভুল। 

হটাৎ এ কথা?

আসলে জানলা দিয়ে বৃষ্টি দেখলে কবিতা আসে। কিন্তু প্যাঁচপ্যাঁচে কাদার মধ্যে দিয়ে দৌড়ে দৌড়ে আসতে গেলে প্রেম ভেঙ্গে যাওয়ার চান্স থাকে। 

এগুলো আসলে অপ্রেমীদের অজুহাত, প্রেম এবং বৃষ্টিকে বদনাম করার জন্য।  

হা হা হা হা হা

এতে হাসার কি হলো? অবশ্য আমার অতো সময় নেই তোর হাসির কারণ বা অজুহাত কোনো কিছু শোনার, আমার বাস এসে গেছে। আমি যাই। 

ওহ, তাহলে ভালোই হলো, বাসটা ফাঁকাই মনে হচ্ছে, এতক্ষন দাঁড়িয়ে পা ব্যাথা হয়ে গেলো। 

তোকে দাঁড়িয়ে থাকতে কে বলেছিলো?

কেউ বলেনি কিন্তু অপ্রেমিকের দেওয়ার ছিল বৃষ্টির অজুহাত। পা, থুড়ি প্রেম ভাঙ্গার অজুহাত। 


Sunday, 28 August 2016

ভবিষ্যত রিপোর্ট ২২ ফেব্রুয়ারি ২২২২

আনন্দবাজার রবিবাসরীয় বিভাগের 'ফিউচার রিপোর্ট' পড়ে এই লেখাটার কথা আমার মাথায় আসে। এটা ১ বছর আগের লেখা, আজ হটাৎ কম্পিউটার ঘাঁটতে গিয়ে চোখে পড়লো, ভাবলাম পোস্ট করেই দিই। আমরা ভারতীয়রা ঠুনকো জিনিস থেকে ঠুনকো সম্পর্ক সবকিছুর সাথেই চীনের তুলনা করি, অথচ আমরাই বোধহয় অনেক বেশি চাইনীজ মোবাইল কিনি। সেই ভাবনা থেকেই এই লেখার উৎপত্তি। 

---
 যাত্রী সংখ্যা বাড়ানোর তাগিদে সমস্ত মহাকাশযান পরিষেবা সংস্থাগুলি প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছে। যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য বাড়ানোর পাশাপাশি রাহা খরচ এক ধাক্কায় ৫০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীনা মহাকাশযান পরিষেবা সংস্থাগুলি। স্বাভাবিক ভাবেই বাকি সংস্থাগুলি এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ করেছে এবং ভারতীয় সোশ্যাল মিডিয়াতে এই নিয়ে তীব্র কটাক্ষমূলক আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। 
কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে অনান্য চাইনীজ উৎপাদনের মতো এই মহাকাশযান আবার ঠুনকো না হয়। এই আশঙ্কা সত্যি হলে অবশ্য প্রচুর মানুষের প্রাণহানির সম্ভাবনা থাকছে।

যদিও চীন সরকার সবাইকে আশ্বস্ত করেছেন যে এই রকম হওয়ার কোনো সম্ভবনা নেই। কারণ যতই চাইনীজ উৎপাদন সম্পর্কে লোকজনের মনে ঋণাত্মক ধারণা থাকুক না কেন, বিশ্বে নিত্য ব্যবহার যোগ্য ৮০% জিনিস-ই চাইনীজ। 
যদিও এই বাগ বিতণ্ডায় সাধারণ মানুষের কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই, বরং সস্তার টিকিট পেয়ে জোর কদমে টিকেট কেনা চলছে এবং মাত্র দু-দিনেই আগামী ৬ মাসের টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আশ্চর্যের বিষয়, যতই সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় উঠুক, এই টিকিটের সর্বাধিক ক্রেতা কিন্তু ভারতীয়রায়। 

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ১০০ বছর আগে মঙ্গলে বসতি স্থাপন হওয়ার পর থেকেই  ভারতীয় মা-বাবারা  সন্তানদের আমেরিকার থেকে মঙ্গলে পাঠাতেই বেশি আগ্রহী, কারণ নতুন গ্রহে কর্মসংস্থানের সুযোগ অনেক বেশি। 

কাজেই ভারত থেকে যাত্রী সংখ্যা বেশী হওয়ায় স্বাভাবিক, প্রথমবার মঙ্গলে চাকরী করতে যাওয়ার জন্যই হোক বা গ্রহান্তরে নিজের সন্তানদের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার জন্যই হোক, ভারতীয়রা ডিসকাউন্ট-এর সুযোগের চুটিয়ে সদ্ব্যবহার করছেন এবং সমস্ত সতর্কতামূলক বানীকে উপেক্ষা করে টিকিট কেটেই চলেছেন। 

Thursday, 25 August 2016

ক্ষনিকের চাওয়া

যদি এক মুহূর্তের জন্যেও আমায় চাও সেটাই সত্যি

তুমি কি চাও সেটা বুঝে যাচ্ছি, এক মুহূর্তের জন্যেও আমায় চাইলেও সেটা অনুভব করতে পারছি, অথচ পুরো জীবন ধরে আমি কি চাই সেটাই বুঝে উঠতে পারলাম না। আসলে তুমি কি চাও, সেটা বোঝা বোধহয় সহজ। তখন আমি শুধু তোমার আকাঙ্খাকেই লক্ষ করি, তা বাদে তোমার মনে কি চলছে সেটা নিয়ে মাথা ঘামাই না। তাই তোমার এক মুহূর্তের চাওয়াটাও আমার কাছে সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। অথচ আমার চাওয়া যেন পায়ে বেড়ি পরে আসে, সাথে নিয়ে আসে অনেক এলোমেলো চিন্তা, কার্যকারণ তার পরিণতি আর কিছুটা ভয়ও।
আর এই চিন্তাগুলো যখন মাথায় ডালপালা ছড়াতে শুরু করে আমার আসল চাওয়াটাই যেন অলীক হয়ে যায়। অনেক কঠিন কঠিন শব্দ দিয়ে সেই আবেগটাকে চাপা দিয়ে দিই, মনকে বোঝাই ওটা শুধুই ক্ষনিকের-ই  চাওয়া ছিল। এমন কত কত আখাঙ্খা ইচ্ছে আমাদের থাকে যা কখনো পূরণ হয় না। পূরণ হতে  পারেও  না। এমন হাজারো অসফল কাহিনী জোগাড় করে মনকে শান্তনা দিই।
ক্ষনিকের আবেগ কে ক্ষনিকের ঘরেই স্থান দিই।
তবে এতো কিছু জানা বোঝার পরেও ক্ষনিকের চাওয়াটা যখন উঁকি দেয়, তাহলে এক মুহূর্তের জন্য হলেও সেই চাওয়াটা সত্যি ছিল, ঠিক যেমন সত্যি ছিল তোমার চাওয়াটাও। আমিই শুধু হারিয়ে ফেলেছি তাকে প্রতিবন্ধকতার বেড়াজালে।



সৌভাগ্যবতী

তুমি মেয়ে
সেই সঙ্গে সৌভাগ্যবতীও বটে,
কারণ তুমি জন্মাতে পেরেছো,
তোমার আগমনের খবর শুনেও
তোমার মাকে
বেনামী নার্সিংহোমের বেডে শুয়ে
গর্ভপাত করাতে হয়নি।

তুমি ভাগ্যবতী,
কারণ তুমি কলেজ গেছো।
এই যুগে মেয়েদেরকেও,
ছেলেদের মতোই শিক্ষিত হতে হবে,
এই ধারণায়  বিশ্বাসী
তোমার প্রগতিশীল পরিবার।

কপাল করে এসেছো বটে তুমি,
একটা ভালো চাকরিও জুটিয়ে ফেলেছো,
আর সেটা করতেও পারছো।
কারণ এখনকারদিনে
ছেলেদের মতো মেয়েদেরও
পরিবারের দায়িত্ব নেয়া অবশ্য কর্তব্য।

তুমি সত্যিই ভাগ্যবতী,
কারণ কন্যাসন্তান জন্ম দেয়ার পরও
তোমার স্বামী তোমার কপালে চুমু খায়,
আর বলে, আমার কাছে ছেলে মেয়ে
দুইই সমান।

আর তখনি তোমার 
ভাগ্যবতী হওয়ার ভ্রমটা ভেঙে যায়।
তোমার মনে পড়ে যায়
তুমি একজন পরিপূর্ণ মানুষ হতে চেয়েছিলে।

অথচ তুমি নিজের অজান্তেই,
এক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ফেলেছো।
যেখানে প্রতিমুহূর্তে প্রমান করতে হয় 
মেয়েরা আর পিছিয়ে নেই,
তারাও সেই সব করতে পারে
যা একান্তই ছেলেদের আয়ত্ত্বে ছিল।

হটাৎ এক জমাট বাঁধা কষ্ট 
তোমার গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ে,
প্রবল আবেগে তোমার সন্তানকে 
জড়িয়ে ধরো তুমি।
আর তখনই তুমি সচেতন হয়ে ওঠো।
কন্যাসন্তানের জননী হিসাবে 
তোমাকে যে অনেক সতর্ক থাকতে হবে,
তোমার নারীসত্ত্বা তোমাকে জানান দেয়। 

হায়! এ জন্মে শুধু মানুষ হওয়ার জন্য
ভাগ্যবান হওয়ার ইচ্ছেটা
সৌভাগ্যবতীর আড়ালে চাপা পরে যায় । 

প্রেমের গল্প

প্রথমেই বলে রাখি, 'একটি ত্রিকোণ প্রেমের গল্প'-র সাথে এই লেখার কোনো সম্পর্ক নেই কিন্তু। আর এটাও অনেক পুরোনো লেখা, সময়ের অভাবে পোস্ট করা হয়নি। 

----
আজ একটা প্রেমের গল্প শোনো,
আরে রোস রোস;
অতো নায়ক নায়িকা নিয়ে মাথা ঘামালে 
গল্পটাই তো মাটি। 
হ্যাঁ, তা, নায়ক ও আছে আর নায়িকাও।
কিন্তু তারাই কি সব?
প্রেম নিজেই তো এক চরিত্র। 
এই যেমন ধরো ট্রেন,
সে যেমন চলতেই থাকে;
এই প্রেমও ঠিক তেমনই 
আসলে তার থেকেও বেশী,
অনন্ত অবিনশ্বর। 
আমি, তুমি বা নায়ক নায়িকা 
সেই প্রেমের রেল গাড়িতে যাত্রী মাত্র। 
গন্তব্যে পৌঁছালে নেমে পড়ি,
তখন আমাদের ছেড়ে আসা জায়গাগুলো 
দখল করে জাঁকিয়ে বসে 
নতুন কোনো শালিক জোড়া। 
ঠিক আমরা যেমন ভেবেছিলাম,
এই শিহরণ এই মুগ্ধতা শুধুমাত্র 
           আমাদেরই;
ওদের ভাবনাতেও কোনো ব্যতিক্রম হয়না।

গল্পটা কিন্তু একই থাকে,
শুধু চরিত্র গুলো বদলে যায়। 

Tuesday, 23 August 2016

একটি ত্রিকোণ প্রেমের গল্প

দিন যায় দিন চলে যায় নতুন সকালের সম্ভাবনায়। দিন আসে দিন যায়, অনেক দিন এমন যায় যে সময় এর সাথে ছুটেও তল পাওয়া যায় না, আবার কোনো কোনো দিন যেন কাটতেই চায় না। এই প্রসঙ্গে সেই আমার মনে আসাতে পারতো 'রিলেটিভিটি তত্ত্বের কথা', কিন্তু মাথায় এসে বাসা বাঁধলো এক গাঁজাখুরি প্রেমের গল্প। এখন মাথায় যখন এসেই গেছে, সেটা লিখে ফেলার জন্য মন তা উচাটন হয়ে পরলো, অগত্যা লিখেই ফেললাম।

আমার গল্পের চরিত্রগুলো খুব পরিচিত, যেহেতু দিন সংক্রান্ত চিন্তা থেকে এই প্রেমের গল্পের সূচনা তাই পৃথিবী চাঁদ আর সূর্য বাদে গল্পটা শুরুই বা হবে কি করে। সুন্দর সুন্দর প্রতিশব্দ খুঁজে দিতে পারলে ভালো হতো, কিন্তু লিখে ফেরার তাড়ায় আর খোঁজা হলো না।

ধরা যাক, পৃথিবী খুব ভালোবাসে সূর্যকে, সূর্য যে বাসে না ভালো, তা নয়, কিন্তু খুব ব্যস্ত সে, পুরো বিশ্ব-ব্রম্ভান্ড জুড়ে তার কাজ কর্ম, তাই নির্দিষ্ট কিছু ঘন্টা বাদে, সে পৃথিবীকে সঙ্গে দিতে পারেনা, আসলেই তার যাওয়ার তাড়া থাকে। তাতে পৃথিবীর বড্ডো অভিমান হয়, অভিমানে আঁধার হয় সে। পৃথিবীর এই দুঃখ একজন একদম সহ্য করতে পারে না, সে হলো সময়, খুব জলদি এগোতে থাকে সে, যাতে পৃথিবী আবার সূর্যের দেখা পায়। আর সেই কারণেই বোধ হয় এতো দ্রুত রাত কেটে যায়, আমরা ঘুমের ঘরে চোখ বুজলেই সময় দৌড়াতে থাকে, আর হটাৎ করে অ্যালার্ম ক্লকটা বেজে ওঠে।

আর দিন কেন দ্রুত কাটে এতো খুব এ সহজ ব্যাপার, সুন্দর মুহূর্ত খুব জলদি কেটে যায়। পৃথিবীর সাথে সূর্যের দেখা সাক্ষাৎ হয়, আনন্দে উল্লাশে দিন কেটে যায়। আর ঠিক এই কারণেই মেঘলা দিন যেন কাটতেই চায় না, সেদিন রাস্তার জ্যামে আটক পরে সূর্য, পৃথিবীর সাথে তার আর দেখা হয়না, বিষন্ন পৃথিবীর অপেক্ষা দীর্ঘ হয়। 

wait wait wait, এখানে ত্রিকোণের 'ত্রি' তা কোথায়? পুরোটাই তো একটা সাদামাটা প্রেমের গল্প হয়ে গেলো। 

না না, আছে আছে, প্রলাপ যখন একবার শুরু করেছি, প্রেমটাকে 'ত্রি' না বানিয়ে আমি শেষ করছি না। 

চাঁদের কথা ভুললে চলবে কেন? ও তো আমার গল্পের তৃতীয় চরিত্র। 
পূর্ণিমার রাতে জোৎস্নার আলোতে মুগ্দ্ধ হয়নি এমন লোক পাওয়া দুষ্কর। সেই জোৎস্না রাতে চাঁদ আসলে গল্প করতে আসে পৃথিবীর সাথে। চাঁদ যখন জানেই পৃথিবী ভালোবাসে সূর্যকে, তখন তার পৃথিবীর কাছে আসার কি দরকার? কিন্তু হায়, secret lover, পৃথিবীকে সূর্য বিরহে কাঁদতে দেখে, নিজেকে আর দূরে রাখতে পারেনা, সঙ্গ দিতে আসে, মন ভোলাতে আসে। অনেক গল্প হয়, পৃথিবী খুশিতে উচ্ছল  হয়ে ওঠে, কিন্তু  ওর মন থেকে সূর্য কখনোই যায় না।
পৃথিবী যখন কথায় কথায় ওর কথা তোলে, চাঁদের বড় অভিমান হয়, ধীরে ধীরে সে নিজেকে গুটিয়ে নেয়, মুখ ঢাকতে থাকে, হয়তো চোখের জল আড়াল করতেই একদিন পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যায়। 
কিন্তু প্রেমের টান এতো দুর্নিবার যে চাঁদ পৃথিবী থেকে বেশিদিন দূরে থাকতে পারেনা, আবার একটু একটু করে উঁকি দিতে থাকে, আর একদিন সব অভিমান ভুলে আবার আসে গল্পে মাতাতে।

আর এই প্রেম কাহানি মেগা সিরিয়ালের মতো চলতেই থাকে। এর ফাঁদে পরে আমাদের মতো নশ্বর জীবের জীবন যেন এক মুহূর্তে জন্ম থেকে জরায় পৌঁছে যায়। 

(বিঃ দ্রঃ এই লেখাটা বেশ কয়েকমাস আগের লেখা, কিন্তু এতো গাঁজাখুরি, যে নিজের বিজ্ঞান মনস্কতা এই লেখাটাকে publish করতে বাঁধা দিচ্ছিলো। কিন্তু শেষমেশ আমার এক প্রিয় বন্ধুর উৎসাহে লেখাটাকে সকলের পড়ার জন্য উন্মুক্ত করেই দিলাম। )

Sunday, 19 June 2016

আমার বাবা

মাতৃদিবসে মায়ের কথা বললাম আর পিতৃদিবসে বাবার কথা যদি না বলি তাহলে একটু পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে যাব না? এমনিতেই সমস্ত পরিচিতজনের কাছে মায়ের সম্পর্কে একটু বেশী বলি বলে বদনাম আছে, কিন্তু আজকের দিনে শুধু বাবার কথায় হোক।
আসলে আমার বাবাকে এক কথায় প্রকাশ করা একটু মুশকিল, কিছুক্ষেত্রে অত্যন্ত দৃঢ়, কিছু সময় মাটির মানুষ। আমাদের দুই বোনের সাথে বাবার সমীকরণ দুই রকম। তাই আমি যেভাবে বাবাকে জানি, দিদি হয়ত সম্পূর্ণ অন্য আঙ্গিকে বাবাকে জানে। দিদি হয়ত জানে না, বাবা এখনো দিদিকে ছেলেমানুষ ভাবেন, আমাকে কি ভাবেন তা অবশ্য আমি জানি না, তবে ছোটবেলায় বাবা আমাকে মা বলে ডাকতেন। 
আমাদের ছোটবেলায় মা নিজেকে এমন রাগী ভাবে উপস্থাপন করতেন যে  মাকে আমরা দুইবোন ভীষণ ভয় পেতাম, পড়াশুনো, জীবনযাপন সবকিছুই আমরা অনেক নিয়ম মেনে করতাম, আর সেইখানে বাবা ছিলেন, অনেকটা মুক্ত আকাশ। পরীক্ষার আগের রাতে টা না বাজতেই বলতেন, আর পড়তে হবে না, আর সকালেও মোটে  ঘন্টা পড়, আর বাকি সব মনে কর। এই ব্যাপারটা এতটাই অভ্যাস হয়ে গেছিলো যে, B.Sc/M.Sc তে উঠেও আগের রাতে পরে পাস করা আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি, যে বিষয়গুলো সারাবছর পড়িনি, তাতে সত্যিই খারাপ ফল পেয়েছি কারণ, পরীক্ষার ঠিক আগের রাতে আমার পড়তেই ইচ্ছে করতোনা । এমনকি এখনো আমার কোনো Presentation থাকলে আমি অনেক আগে থেকেই সেটা তৈরী করি, কারণ বাবা আমাকে শিখিয়েছেন পরীক্ষার আগের রাত শুধু ঝালিয়ে নেওয়ার জন্য।
অথচ সেই বাবাই কিন্তু আমাকে সারা বছর অঙ্ক করাতেন না, শুধু পরীক্ষার দুদিন আগে মায়ের জোরাজুরিতে বাপ-বেটিতে মিলে অঙ্ক কষতে বসতাম, আর অঙ্ক করার মধ্যে যে এত আনন্দ সেটা অনুভব করতাম, আসলে হয়ত অনুভবও করতাম না, কারণ কিছুই বুঝতে পারতাম না, খিদে ঘুম কিছুই পেত না, মা ভাত বেড়ে, স্নান করতে যাবার জন্য কত পিড়াপিড়ী করতেন, কিন্তু আমরা যেন সব ভুলে অপরিসীম এক  অঙ্কের জগতে বিচরণ করতাম।
আমি বাবার কাছ থেকে এই একাগ্রতাটাই পেতে চাইতাম। আমার বাবা পুরোদিন tv serials দেখে কাটাতে পারেন, তেমনি প্রয়োজন পড়লে, চোখের সামনে পছন্দের ধারাবাহিক চললেও বাবা একাগ্রচিত্তে নিজের কাজ করে যেতে পারেন, তখন কোনো কিছুই তাকে যেন স্পর্শ করেনা। আমার বাবা সংসারে থেকেও সন্ন্যাসী, আবার সংসারের কিছু কাজ এমন নিপুন ভাবে করতে পারেন যে অনেক সুদক্ষ গৃহিনীরাও লজ্জা পেয়ে যাবেন।
যেমন খুব ছোট বাচ্চাকে সামলানো, খাওয়ানো, স্নান করানো অদ্ভুত দক্ষতার সঙ্গে করেন। আমাদেরও সামলেছেন, সেতো আমার মনে নেই, কিন্তু আমার দিদির যখন মেয়ে হলো, তখন বাবা নাতনিকে এত সুন্দর করে স্নান করাতেন, সেটা এক দেখার মত দৃশ্য ছিল।
একটু বড় বাচ্চাদের অবশ্য বাবার সাথে তেমন জমেনা, কারণ একটু বড় হলে তারা গল্প করতে চায়, আর বাবা তো রাজনীতি ছাড়া কোনমতেই কোনো গল্প করবেন না।
আর আমার বাবার এই রাজনীতি বোধটাও বড় সাংঘাতিক। আমরা অনেক ভাবে প্ররোচিত করার চেষ্টা করছি, যাতে এই রাজনীতির মধ্যে না থাকেন, কিন্তু এই ক্ষেত্রে ওনাকে বিরত করা শিবের অসাধ্য। এই সুবিধাবাদিত্বের যুগে, নিজস্ব কোনো স্বার্থ ছাড়াই শুধু মতাদর্শের কারণে উনি প্রায় একাই ঝান্ডা নিয়ে ঘুরে বেড়ান, তখন সত্যিই মনে হই, রবিঠাকুর গানটা বোধহয় এমন লোকের কথা ভেবেই লিখেছিলেন, যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চল রে।
তবে হ্যাঁ, সংসার জীবনে সবাইকে নিয়েই উনি চলেছেন। নানাজনের নানা কথায় আমার রাগ হলে উনি বলতেন সবাইকে নিয়েই চলতে হয়, হয়ত তখন ভাবতাম, বাবা সবাই কে এত সহজে কেন ক্ষমা করে দেন, আজ বুঝি এই ক্ষমা করতে পারার ক্ষমতাটাই শান্তিতে থাকার মূলমন্ত্র।

মেয়েরা সাজগোজ করে মাকে দেখাতে যায়, আর আমরা বাবাকে দেখাতাম, আর মাও জানতেন যে বাবা যতক্ষণ না ভালো বলছেন, আমরাও সন্তুষ্ট হচ্ছিনা, তাই মাও সযত্নে সেই জায়গাটা ছেড়ে দিয়েছিলেন। তাই আজও আমার যেকোনো সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত শিলমোহরটা বাবার কাছ থেকেই পাই, হয়ত অনেক সময় প্রভাবিত করেই আদায় করি, কিন্তু বাবার মুখ থেকে নিমরাজি হ্যাঁ, না শোনা অবদি শান্তি হয়না।
বাড়ির বড় মেয়ে হওয়ায় দিদিকে একটু মায়ের প্রত্যাশার চাপের মধ্যে যেতে হয়েছে, মা- তো আমাদের পড়াতেন। কিন্তু আমি ছোটবেলা থেকেই শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকতাম বলে আমাকে নিয়ে কেউ কিছু আশাটাশা করতনা, আমি ঠিক মত খেয়ে পরে সুস্থ থাকলেই শান্তি পেত সবাই। তাও যদি মা একটু আধটু আমাকে নিয়েও ভেবে ফেলতেন, বাবা মনে করিয়ে দিতেন, যা পারে করবে, না পাস করে করবে না, পরের বছর করবে। আর আমার প্রতি বাবার এই ভরসা না রাখাটাই আমার সবচেয়ে ভরসার কারণ ছিল আর তাই আমি খুব মনের শান্তিতে থাকতাম। B.Sc 1st Yr আমার রেসাল্ট খুব খারাপ হয় (না বখেটখে যায়নি, বাংলা থেকে ইংরেজী মাধ্যমে গিয়ে খুব ঘাবড়ে গেছিলাম, আর তাই পড়াশুনোটাই করে উঠতে পারিনি), অন্য কোনো বাবা হলে কি বলত জানিনা, কিন্তু আমার বাবা বলেছিলেন, ওহ এত ভালো নম্বর, আমি তো ভাবতেই পারিনি, তুমি পাস করবে। আর সেটাই আমার অনুপ্রেরণা হয়ে যেত, বাবা ভাবতেই পারেননি, আমি পাস করবঅথচ আমি পাস করে গেছি, তার মানে আর একটু পড়লে আমি নিশ্চয় ভালো ফল করব। তবে বড় হয়ে বুঝেছি, বাবা আসলে আমাকে না ভরসা করার মধ্যেই ভরসা করতেন।

আর তাই চেষ্টায় আছি যেন সত্যিই ভরসাযোগ্য হয়ে উঠতে পারি। যতদিন বাড়ি ছিলাম, ততদিন বাবা ভাত বেড়ে খায়িয়েছেন, জ্বর হলে রাত জেগে জলপটি দিয়েছেন, আরও অনেক কিছু। বাবা হিসাবে বাবার তুলনা বাবা নিজেই । পিতৃদিবসে তার কাছ থেকে আশির্বাদ চাই, ভবিষ্যতে আমি যেন তাকে ততটাই যত্নে রাখতে পারি, তার মত নিখুঁত না হলেও, তার কিছুটা যোগ্য সন্তান হতে পারি।

পড়া এবং পড়ানোর পাঁচকাহন।

  ছাত্র ছাত্রীদের "Electrostatics & Magnetostatics" পড়ানোর জন্য এই বইগুলো নিয়ে বসেছিলাম। একেই বলে জাহির করা। 🤭 "দেখো M...